হতাশায় শিক্ষিত চা শ্রমিক সন্তানরা

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে বেকারত্ব। এ বেকারত্ব এখন চা বাগানসমূহের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাস করেও চাকরি না পেয়ে চা বাগানের অনেক তরুণ-তরুণীরা মারান্তক হতাশায় ভুগছেন। কাজের সন্ধানে নার্সারি পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে ছুটে বেড়াচ্ছেন। দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরিতে কোনোমতেই সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সারাদেশে ১শত ৬৫টি চা বাগানের মধ্যে নারী- পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে রয়েছে প্রায় ৯১ হাজার এবং অস্থায়ী ৩২ হাজার। সব মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১লাখ ২৩ হাজার চাজনগোষ্ঠী।

 

এ ছাড়া প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এবং প্রায় আড়াই লাখ বেকার নারী-পুরুষ রয়েছে। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাস ব্যক্তিও রয়েছেন। চা বাগানে কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকে বাগানে কাজ না পেয়ে বস্তি এলাকা, বিল্ডিং কন্ট্রাকশন, মাটি কাটা, লাকড়ির কাজ করা, কৃষিকাজ ও নার্সারিসমূহে গিয়ে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। শমশেরনগর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের বেকার নারী শ্রমিক শান্তি রবিদাস বলেন- আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের ৮ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র স্বামী সিতারাম রবিদাসের দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরি দিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক কাঞ্চনী বাউরী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে আরতি বাউরী এসএসসি পাস করে ঘরে বসেই বেকার জীবন যাপন করছে। শমশেরনগর জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস ও উত্তরণ বাংলাদেশ-এর সভাপতি অনুময় বর্মা বলেন, আমাদের চা বাগানে বেকারত্বের বোঝা ভারি হচ্ছে।

 

যুবকদের অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। চা বাগানে বেকারত্ব ঘোচাতে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা বাগান করা, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, মেয়েদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক শিক্ষিত বেকারদের বোঝা মনে না করে জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চা শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষকে একযোগে কাজ করে বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।

 

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজভজন কৈরী বলেন- চা বাগানে শ্রমিকদের ব্যাপক একটি অংশ বেকার রয়েছে। সারাদেশে চা বাগানের শিক্ষিত চা জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট জরিপ সম্পন্ন করা না হলেও প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের কর্মসংস্থানের জন্য মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিক নিয়োগ, ৭টি ভ্যালিতে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারি চাকরিতে উচ্চ শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কোটা সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাতিল হচ্ছে এমসিকিউ? বিপদে শিক্ষার্থীরা

» রাজধানীর চকবাজারে আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯

» আগুন নেভাতে বিমান বাহিনীর দুই হেলিকপ্টার

» আজ অমর একুশে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

» রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ভয়াবহ আগুন

» নিজ পরিচয়ে সারাবিশ্বে ও স্বদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

» একুশে স্মৃতি সংসদ সম্মাননা পেলেন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল

» কলাপাড়ায় ছুরিকাঘাতে কলেজ শিক্ষিকা গুরুতর জখম

» চাঁদপুরে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি ও চ্যালেন্জসমূহ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ভিডিও কনফারেন্স

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ছয় কোচিং সেন্টার সিলগালা : বেঞ্চ ধ্বংস

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হতাশায় শিক্ষিত চা শ্রমিক সন্তানরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: দেশের গুরুত্বপূর্ণ চা শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে বেকারত্ব। এ বেকারত্ব এখন চা বাগানসমূহের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাস করেও চাকরি না পেয়ে চা বাগানের অনেক তরুণ-তরুণীরা মারান্তক হতাশায় ভুগছেন। কাজের সন্ধানে নার্সারি পার্শ্ববর্তী এলাকা সমূহে ছুটে বেড়াচ্ছেন। দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরিতে কোনোমতেই সংসার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সারাদেশে ১শত ৬৫টি চা বাগানের মধ্যে নারী- পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে রয়েছে প্রায় ৯১ হাজার এবং অস্থায়ী ৩২ হাজার। সব মিলিয়ে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১লাখ ২৩ হাজার চাজনগোষ্ঠী।

 

এ ছাড়া প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এবং প্রায় আড়াই লাখ বেকার নারী-পুরুষ রয়েছে। শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, বিএ পাস ব্যক্তিও রয়েছেন। চা বাগানে কাজ না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকে বাগানে কাজ না পেয়ে বস্তি এলাকা, বিল্ডিং কন্ট্রাকশন, মাটি কাটা, লাকড়ির কাজ করা, কৃষিকাজ ও নার্সারিসমূহে গিয়ে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। শমশেরনগর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের বেকার নারী শ্রমিক শান্তি রবিদাস বলেন- আমরা স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের ৮ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র স্বামী সিতারাম রবিদাসের দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরি দিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক কাঞ্চনী বাউরী বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে আরতি বাউরী এসএসসি পাস করে ঘরে বসেই বেকার জীবন যাপন করছে। শমশেরনগর জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস ও উত্তরণ বাংলাদেশ-এর সভাপতি অনুময় বর্মা বলেন, আমাদের চা বাগানে বেকারত্বের বোঝা ভারি হচ্ছে।

 

যুবকদের অনেকেই বিপথগামী হচ্ছে। চা বাগানে বেকারত্ব ঘোচাতে বাগানের পতিত জমিতে নতুন চা বাগান করা, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা, মেয়েদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, শতভাগ শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং চা শ্রমিক শিক্ষিত বেকারদের বোঝা মনে না করে জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। শমশেরনগর কানিহাটি চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চা শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষকে একযোগে কাজ করে বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।

 

চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজভজন কৈরী বলেন- চা বাগানে শ্রমিকদের ব্যাপক একটি অংশ বেকার রয়েছে। সারাদেশে চা বাগানের শিক্ষিত চা জনগোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট জরিপ সম্পন্ন করা না হলেও প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে। এদের কর্মসংস্থানের জন্য মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শ্রমিক নিয়োগ, ৭টি ভ্যালিতে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও সরকারি চাকরিতে উচ্চ শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে কোটা সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited