ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবন্দরে ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদের’ অভিযান, প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৫ রাত

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ট্রলির অপব্যবহার, অপরিচ্ছন্নতা, যাত্রীসেবায় বিঘ্ন এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) পরিচালিত অভিযানে এসব অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। ওইদিন রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে অভিযানের বিস্তারিত জানান তিনি।

নওশাদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযানের আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীদের সহযোগিতায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর উপস্থিত সাক্ষী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।যাত্রী হয়রানি, লাগেজ চুরি ও বিমানবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে নওশাদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। যাত্রীদের একটি অংশ তাকে ‘ফাটাকেষ্ট’ নামেও অভিহিত করেন। বর্তমানে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করতে ‘টিম এয়ারপোর্ট’-এর সহযোগিতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে মেরামতের পর প্রায় ৫০০টি ট্রলি নতুন করে সেবায় যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে। ট্রলির অবস্থান ও সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য শিফটভিত্তিক বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি রানওয়ে মেরামতের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর পিক আওয়ারে একসঙ্গে বেশি ফ্লাইট অবতরণ করছে। এতে কোনো কোনো সময়ে বিমানবন্দরে থাকা ট্রলির তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ট্রলি পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের। এই সংকট কমাতে দ্রুত আরও প্রয়োজনীয় ট্রলি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছেন। যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করেন আরও প্রায় ২ কোটি মানুষ। বিপুল জনসমাগমের কারণে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

লাগেজ চুরি বা হয়রানির অভিযোগেও নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়। লাগেজ থেকে চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে বা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে টার্মিনাল-১-এর ১ নম্বর গেটসংলগ্ন দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে।

সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাইয়ের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। লাগেজ চুরির সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত এক বছরে বিমানবন্দরের চার এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অপরাধে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন এবং ৫২৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

Link copied!