কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার কৃষিজমিতে চলছে তরমুজ আবাদের কর্মযজ্ঞ। এ বছর তরমুজের আবাদ করে লাভের স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ৩৩’শ ৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হচ্ছে। এতে ১৫’শ থেকে ২ হাজার চাষি জড়িত রয়েছে।
সরোজমিনে ঘুরে জানা গেছে, আগাম জাতের তরমুজ ও ভালো দাম পাওয়ার আশায় আমন ধান পরপরই মাঠের পর মাঠ জুড়ে কাজ করছেন কৃষকরা। শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল থেকে সূর্য ডোবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে ক্ষেতে পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। যাদের তরমুজ যত আগে বজারে উঠবে, তারা তত লাভ বেশি হবে। তাই আগে-ভাগেই তরমুজ চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। গত বছর তরমুজের ভলো দাম পাওয়ায়, এবার এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। একই সাথে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে তরমুজ চাষে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি বড় সসম্ভানা তৈরি করেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।
কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময় বেশি লাভ হওয়ায় কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। গত বছর তরমুজে ব্যাপক লাভ হওয়ায় এবার সেই ঝোঁক আরো বেড়েছে। তাই পতিত জমিতেও প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষে নেমেছে অনেকে। এমন চিত্র কুয়াকাটাসহ ধুলাস্বর, লালুয়া, বালিয়াতলী, মিঠাগঞ্জ, নীলগঞ্জ, চাকামইয়া, টিয়াখালী, ধানখালী ও চাম্পাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ইতোমধ্যে ক্ষেত তৈরি শেষে তরমুজ বীজ বপন করেন। এখন পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ অপরিকল্পিতভাবে খালে বাঁধ ও ইজারা নিয়ে অনেকে মাছ চাষ করছেন । তাই তাদের প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার দুরের খাল কিংবা পুকুরের জমানো পানি সেচ যন্ত্রের সাহায্যে পাইপ দিয়ে ক্ষেতে আনতে হচ্ছে। তবে সব মিলিয়ে কলাপাড়ার কৃষকরা এখন তরমুজ চাষের মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
টিয়াখালীর লোন্দা গ্রামের পানু মোল্লা জানান, তিনি গত বছর তরমুজ চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। তাই এ বছর ১৫০০ শতাংশ জায়গা নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেছে। এযাবৎ তার খরচ হয়েছে ৮ লাখ। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভবান হবো।
একই এলাকার তরমুজ মাসুম জানান, বাজারে ভাল দাম পাওয়ার আশায় তিনি ১০৬৫ শতাশং জমিতে আগাম ড্রাগন, বেঙ্গল, কিং সুপার জাতের তরমুজের চাষ করেন। তার এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকা খরচ হযেছে। অপর তরমুজ চাষী জাকির হোসেন জানান, তিনি নিজের জমিসহ অন্যের কাছ থেকে ৪৮০ শতাংশ জমি একশনা লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। এতে তার এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। তিনিও আশা করেছেন আগাম তরমুজ বিক্রি করতে পরলে লাভবান হবেন।
তবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরলে দেখা মেলে ধূসর বিবর্ণ মাঠে সবুজের সমারোহ।উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন জানান,কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায় আমাদের অফিসাররা কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন :