কুয়াকাটা সৈকতের বালুর বুক চিরে জেগে ওঠা সেই নৌকাটি

Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া প্রতিনিধি: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে বালুর বুক চিরে জেগে ওঠা শত বছরের পুরানো সেই নৌকাটি সংরক্ষন করা হয়েছে। রাখাইন মার্কেট ও বৌদ্ধ মন্দিরের পাশাপাশি থাকায় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে দিনদিন এর আকর্ষন বেড়েই চলছে। প্রাচীন নিদর্শনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে বাংলাদেশ প্রততত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধমন্দির সংলগ্ন একটি বেষ্টনীর ভিতর রেখেছেন। যা এখন নৌকা যাদুঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাচীন এ নৌকাটির দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুট ও প্রায় ৯০ টন ওজন বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে সৈকতের বালুর মধ্যে জেগে ওঠা নৌকাটির অংশ বিশেষ স্থানীয়রা দেখতে পায়। ওই সময় নৌকাটি দেখে লোকজন নানা রকম আলোচনা শুরু করে। বিভিন্ন গনমাধ্যমে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নজরে আসে। এক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ দল এ নৌকাটির খুটিনাটি বিষয়ে নিয়ে গবেষনা শুরু করে। পরে দেশীয় ও আন্তজার্তিক নৌকা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটিকে উত্তোলন করে সংরক্ষনে রাখেন।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নৌকাটিকে টিনসেডের একটি বেষ্টনীর ভিতর দৃষ্টি নন্দন ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষভাবে সংরক্ষিত নৌকাটিকে কাঠের বাতা, ষ্টীলের পাত ও রং দ্বারা আবৃত করা হয়। এছাড়া নৌকাটির ভিতর পাওয়া বিশাল আকারের লোহার শিকলটি এর পাশেই রাখা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষন ও দেখভালের জন্য সার্বক্ষনিক ২ জন লোক নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া এর কোন রকম ক্ষতিসাধন করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে দেয়ালে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর।

 

ঢাকা মিরপুর এলাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা পর্যটক মো.তারিক হাসান বলেন, এখানে অনেক দর্শনীয় স্পট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রাচীন এ নৌকাটি অন্যতম। আমাদের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে ধারনা যোগাবে। ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী মনি আক্তার জানান, এখানে আগেও একবার এসেছিলাম। জায়গাটি দারুন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি এ নৌকাটি দেখে ভাল লেগেছে। অপর এক পর্যটক শুভ্র ইসলাম বলেন, এ নৌকাটি পুরানো ঐতিহ্য। এটি শিক্ষার্থীদের গবেষনার কাজে আসবে। তবে নৌকাটিকে আরো যত্ন করতে হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

 

নৌকা যাদুঘরের কেয়ারটেকার মো.ইসাহাক হাওলাদার জানান, প্রতিদিন নৌকাটিকে দেখতে প্রচুর লোক ভীড় করে। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত রাখা রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্নতত্ত্বসম্পদ ও সংরক্ষন বরিশাল যাদুঘরের সহকারী কাষ্টডিয়ান শাহিন আলম জানান, ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নৌকাটিকে সংরক্ষ করা হয়েছে। আগামী জানুয়রী মাসে মেগা বীচ কার্নিভাল উপলক্ষ্যে এটিকে সাজানো হবে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে এ কাজ শুরু হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» শ্রীমঙ্গলে ভোক্তা অধিকার আইনে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» হাকালুকি হাওরে বাদাম চাষে বিপ্লব

» আত্রাইয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতা সভা

» ফুুলবাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন

» রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬বছর পূর্ণ হলেও কাঁন্না থামেনি দু’পা হারানো রেবেকা’র

» ইনসাব ৫৪নং ওয়ার্ডের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

» অলিক মহাশক্তির সন্ধানেই বাউলরা প্রেম ও বিশ্বাস নিয়ে মাজার সঙ্গীত গায়

» বেনাপোলে পুলিশের পৃথক অভিযানে ভারতীয় ফেন্সিডিল ও বেটসীটসহ তিনজন আটক

» মানবতার বন্ধু জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মুক্তি দাবি

» বেনাপোল নামাজ গ্রামে জমি সংক্রান্ত দ্বন্ধে গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটা সৈকতের বালুর বুক চিরে জেগে ওঠা সেই নৌকাটি

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া প্রতিনিধি: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতে বালুর বুক চিরে জেগে ওঠা শত বছরের পুরানো সেই নৌকাটি সংরক্ষন করা হয়েছে। রাখাইন মার্কেট ও বৌদ্ধ মন্দিরের পাশাপাশি থাকায় দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে দিনদিন এর আকর্ষন বেড়েই চলছে। প্রাচীন নিদর্শনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে বাংলাদেশ প্রততত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে কুয়াকাটার শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধমন্দির সংলগ্ন একটি বেষ্টনীর ভিতর রেখেছেন। যা এখন নৌকা যাদুঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রাচীন এ নৌকাটির দৈর্ঘ্য ৭২ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুট ও প্রায় ৯০ টন ওজন বলে জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে সৈকতের বালুর মধ্যে জেগে ওঠা নৌকাটির অংশ বিশেষ স্থানীয়রা দেখতে পায়। ওই সময় নৌকাটি দেখে লোকজন নানা রকম আলোচনা শুরু করে। বিভিন্ন গনমাধ্যমে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নজরে আসে। এক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ দল এ নৌকাটির খুটিনাটি বিষয়ে নিয়ে গবেষনা শুরু করে। পরে দেশীয় ও আন্তজার্তিক নৌকা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এটিকে উত্তোলন করে সংরক্ষনে রাখেন।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নৌকাটিকে টিনসেডের একটি বেষ্টনীর ভিতর দৃষ্টি নন্দন ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষভাবে সংরক্ষিত নৌকাটিকে কাঠের বাতা, ষ্টীলের পাত ও রং দ্বারা আবৃত করা হয়। এছাড়া নৌকাটির ভিতর পাওয়া বিশাল আকারের লোহার শিকলটি এর পাশেই রাখা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষন ও দেখভালের জন্য সার্বক্ষনিক ২ জন লোক নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া এর কোন রকম ক্ষতিসাধন করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়ে দেয়ালে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর।

 

ঢাকা মিরপুর এলাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা পর্যটক মো.তারিক হাসান বলেন, এখানে অনেক দর্শনীয় স্পট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রাচীন এ নৌকাটি অন্যতম। আমাদের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে ধারনা যোগাবে। ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী মনি আক্তার জানান, এখানে আগেও একবার এসেছিলাম। জায়গাটি দারুন। প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি এ নৌকাটি দেখে ভাল লেগেছে। অপর এক পর্যটক শুভ্র ইসলাম বলেন, এ নৌকাটি পুরানো ঐতিহ্য। এটি শিক্ষার্থীদের গবেষনার কাজে আসবে। তবে নৌকাটিকে আরো যত্ন করতে হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

 

নৌকা যাদুঘরের কেয়ারটেকার মো.ইসাহাক হাওলাদার জানান, প্রতিদিন নৌকাটিকে দেখতে প্রচুর লোক ভীড় করে। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত রাখা রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্নতত্ত্বসম্পদ ও সংরক্ষন বরিশাল যাদুঘরের সহকারী কাষ্টডিয়ান শাহিন আলম জানান, ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নৌকাটিকে সংরক্ষ করা হয়েছে। আগামী জানুয়রী মাসে মেগা বীচ কার্নিভাল উপলক্ষ্যে এটিকে সাজানো হবে। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে এ কাজ শুরু হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited