কুয়াকাটায় জ্বালানি সংকটে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা, ভোগান্তিতে পর্যটক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৪৮ দুপুর

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা-এ বিদ্যুতের ঘাটতি হলে জেনারেটরই একমাত্র মাধ্যম সেবা প্রদানের জন্য। তবে ডিজেল সংকটের কারণে আবাসিক হোটেলগুলোর জেনারেটর সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকরা, বাড়ছে অসন্তোষ ও ভোগান্তি। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কুয়াকাটায় প্রায় চার শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা আছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এসে পড়েছে এই পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাতেও। ডিজেল সংকটে অনেক হোটেলই এখন জেনারেটর চালাতে পারছে না।

হোটেল মারওয়ার ম্যানেজার আল-সিয়াম জানান, ডিজেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে একাধিকবার লোক পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পর্যটকরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। হোটেল বেস্ট সাউদার্ন-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. সাকুর বলেন, ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের সেবা দিতে না পারলে ভবিষ্যতে বুকিং কমে যেতে পারে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি ইব্রাহিম ওহিদ বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেনারেটরই ছিল ভরসা। কিন্তু তেলের সংকটে সেটিও ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে পর্যটকরা যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি কুয়াকাটা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

অপরদিকে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা-এর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের জেনারেটরসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব যানবাহনে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, হোটেল ম্যানেজারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে। শৃঙ্খলা না মানায় অনেক ছোট হোটেল সমস্যায় পড়ছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

Link copied!