ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সরকারের নীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে জড়ো হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া রাফায়েল পিনাইনা বলেন, নেতানিয়াহু ভেতর থেকে ইসরায়েলি সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কারণে জনগণ রাস্তায় নেমেছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণ শুধু বর্তমান সরকার নয়, পরবর্তী সরকারের কাছেও ৭ অক্টোবর এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছে। তার ভাষায়, জনগণের সত্য জানার অধিকার রয়েছে এবং সেই সত্য উদঘাটনের জন্য স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
অন্যদিকে লি হফম্যান-আজিভ নামের এক সমাজকর্মী বলেন, তিনি মূলত ৭ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহ এবং এরপর শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সমর্থন জানাতেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার দাবি করছে।
আরেক বিক্ষোভকারী হাইম ট্রিভ্যাক্স বলেন, লেবানন ও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ভুল পথে এগিয়েছে। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের বিরুদ্ধে চলমান আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য জেল এড়াতে সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছেন।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের যুদ্ধনীতি এবং নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত দেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং সাধারণ জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। তেল আবিবের এই বিক্ষোভকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সরকার দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেয় এবং জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দেয়।

আপনার মতামত লিখুন :