ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

জ্যৈষ্ঠে এসেছিলেন তিনি, ভাদ্রে নিয়েছেন বিদায়। শোষিত-নিপীড়িত মানুষের বঞ্চনা ও ক্ষোভ তার কণ্ঠে জ্বলে উঠেছিল দীপ্ত শিখার মতো। সাম্প্রদায়িকতার বিষকে দূরে সরিয়ে তিনি তুলে ধরেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার অমৃতবাণী। আবার সেই তিনিই ছিলেন কোমল ও সুকুমার হৃদয়ের অধিকারী, আবেগে থরথর এক সংবেদনশীল কবি। তিনি বিদ্রোহী, তিনিই গানের পাখি—বুলবুল।

তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আজ ১২ ভাদ্র তার ৫০তম প্রয়াণ দিবস। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে।

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ অবিভক্ত বাংলার বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় যে কবির আবির্ভাব ঘটেছিল ‘জ্যৈষ্ঠের ঝড়’ হয়ে, সে ঝড় চিরতরে থেমে গিয়েছিল ঢাকার পিজি হাসপাতালের (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) কেবিনে, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্রে। অঙ্কের হিসাবে তার জীবনকাল ৭৭ বছরের; তবে সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। 

যে কারণে জাতি আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে জাতীয় কবিকে। সারা দেশে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত কবির সমাধি ছেয়ে যাবে বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসার ফুলে ফুলে। যেমনটি প্রতিবার হয়।

 জাতীয় কবি মাথানত করেননি লোভ–লালসা–খ্যাতি ও অর্থবিত্তের বৈভবের কাছে। ‘চির উন্নত মম শির’ বলে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন শোষিত–বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য। মানবতার মুক্তির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, কূপমণ্ডূপকতার বিরুদ্ধেও ছিলেন সোচ্চার। মুক্তবুদ্ধি ও চিন্তার পক্ষে কলম ধরেছেন নির্ভীক চিত্তে। তাঁর রচিত ‘চল্‌ চল্‌ চল্‌’ গানটি আমাদের রণসংগীত।

কর্মসূচি
যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওইদিন সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত হবেন। সেখান থেকে শোভাযাত্রা সহকারে জাতীয় কবির সমাধিতে যাত্রা করা হবে। পরে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এরপর সমাধি প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

কবির প্রয়াণ দিবসের মূল আয়োজনকে সামনে রেখে ২৭ ও ২৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। কবির কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম, দর্শন ও সাংস্কৃতিক অবদানকে স্মরণ করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানেও থাকবে আলোচনা ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

Link copied!