ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৫১ সকাল

নেপালের ভোতে কোশি নদীতে বুধবার সকালে হঠাৎ নেমে আসে ভয়াবহ বন্যা। চীন সীমান্তের তিব্বত অংশে তুষারধসের কারণে নদীর একটি শাখার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে ধেয়ে আসে। কোনো আগাম সতর্কতা না থাকায় নদীর তীরবর্তী জনপদ, বাজার ও সড়কে থাকা মানুষ নিজেদের সামলে নেওয়ার সুযোগও পাননি। মুহূর্তের মধ্যে পানির প্রবল স্রোত ভাসিয়ে নেয় ঘরবাড়ি, যানবাহন, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ, যাদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী ও বিদেশি পর্যটকরাও রয়েছেন।

ভোতে কোশি নদীর লহেন্দে উপনদীর প্রবাহ তুষারধসে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমে পানির প্রবল স্রোত নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ির কাছে তিমুরে এলাকায় আঘাত হানে। কয়েক শ মানুষের বসতি থাকা ওই এলাকার বড় একটি অংশ মুহূর্তের মধ্যে পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি নদীর নিম্নাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পথে যা পেয়েছে, তা-ই ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাননি। তারা প্রতিদিনের মতো নিজেদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে পানির বিশাল স্রোত ধেয়ে আসে। রাসুয়া জেলার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা বুধবার সকালে মাটি কাঁপতে অনুভব করে প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। পরে বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখতে পান, ওপরের দিক থেকে ধোঁয়ার মতো কিছু ছড়িয়ে দিয়ে পানির বিশাল একটি দেয়াল নিচে নেমে আসছে এবং তিমুরে বাজারের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে।

ধুঙ্গানা দ্য পোস্টকে বলেন, এটি ছিল বন্যা। প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি উঠে বাজারের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাজারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েক ডজন মানুষ পাশের জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন। রাসুওয়াগাড়ি কাস্টমস চেকপয়েন্টে অপেক্ষমাণ ৩০০টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি স্যাফ্রুবেশি ও নদীর নিম্নাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায়। পথে যা কিছু পেয়েছে, প্রায় সবই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষ, পশু, বাড়িঘর থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো—কিছুই রেহাই পায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। সব মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা কয়েক শ। ভোতে কোশি নদীর উজানে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও পানির স্রোতে ভেসে গেছে। সাধারণত নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে এসব কেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু বুধবার এত দ্রুত ও ভয়াবহ গতিতে বন্যার পানি নেমে আসে যে সতর্কবার্তা পাঠানোর আগেই কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

বুধবারের বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমানসংখ্যক শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার পানিতে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ভেসে গেছে। সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং দুর্যোগের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুধবারের এই বন্যা নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি এটি ১৯৯৩ সালে সারলাহি, রাউতাহাট ও মাকওয়ানপুরে হওয়া ভয়াবহ বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেটিই নেপালের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল বলেন, বন্যার পানিতে সোলে থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত শত শত বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিছু মানুষ নিরাপদে পালাতে পারলেও অনেক বয়স্ক মানুষ ও শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, ভোর থেকেই আমি পৌর ভবনে আটকে আছি। বাড়ি ফেরার জন্য কোনো সড়ক বা সেতু আর অবশিষ্ট নেই।

বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দণ্ডাঠোক টুপছে এলাকার বাসিন্দা গোকর্ণ অধিকারী বলেন, তার গ্রামে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরিচিত অধিকাংশ মানুষেরই এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সোলে ও আক্কারে বাজারের মাঝামাঝি কারমেটারে মাত্র কয়েকটি বাড়ি এখনও দাঁড়িয়ে আছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘দূর থেকে যেসব বাড়িকে অক্ষত মনে হচ্ছে, সেগুলোও আসলে পুরোপুরি কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে গেছে।গত বছরও একই নদীতে বন্যা হয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে না ফিরতেই এবার আবার ভয়াবহ বন্যার আঘাত এলো।

গত বছরের ৮ জুলাই লহেন্দে নদীতে বন্যায় অন্তত ১১ জন মারা গিয়েছিলেন। ওই সময়ও নদীর এই অংশের বিভিন্ন জায়গায় সড়কের কিছু অংশ পানিতে ভেসে গিয়েছিল। নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী মিতেরি সেতুটিও তখন বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আকস্মিক বন্যা সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না পাওয়াই এবার এত বড় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির অন্যতম কারণ। রাসুয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত থেকে বন্যার পানি নেমে আসার বিষয়ে তারা আগে থেকে কোনো তথ্যই পাননি।

এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—বড় ধরনের বন্যা নেপালের নদীতে ঢুকে পড়ার পরই কি শুধু নিচের দিকে থাকা মানুষদের সতর্ক করা হবে, নাকি হিমালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে?

সমস্যাটি শুধু নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নেপাল নিজের ভূখণ্ডে যে সরঞ্জামগুলো স্থাপন করেছিল, সেগুলোও বন্যার আগে কোনো সতর্কবার্তা দিতে পারেনি বলে দেখা গেছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী প্রধান অনিল পোখরেল বলেন, অতীতেও চীনের অংশ থেকে বন্যা নেমে আসার সময় একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তিনি কান্টিপুরকে বলেন, ‘আমরা এখনও জানি না, কতটা ঝুঁকি রয়ে গেছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সংশ্লিষ্ট চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। তা না হলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে।’

পোখরেল আরও বলেন, ‘সরকারকে ভাবতে হবে, দুর্যোগ ঘটার পর শুধু ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শুরুতেই এসব দুর্যোগের কারণে মানুষের প্রাণহানি ঠেকানোর জন্য কাজ করবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লহেন্দে নদীর প্রবাহ তুষারধসে আটকে যাওয়ার পরই হঠাৎ এত বড় বন্যা সৃষ্টি হয়। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও প্রাথমিক মূল্যায়নে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় তুষারধসের কথা জানিয়েছে।

প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তিব্বত এলাকায় একটি তুষারধসের পর লহেন্দে নদীতে পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৫ ও ২৬ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবিতে তুষারধস এবং এর ফলে লহেন্দে নদীতে সৃষ্ট বন্যার চিত্র দেখা গেছে।

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। পরে চীন সম্মত হয়, সীমান্তের চীনা অংশে নদীর পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে তারা নেপালকে দ্রুত জানাবে।

দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার বিষয়ে নেপাল ও চীনের মধ্যে আগে থেকেই একটি চুক্তি রয়েছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গিয়াওয়ালির চীন সফরের সময় দুই দেশ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি সাড়াদান নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ওই চুক্তি সই হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।

২০২২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) আয়োজিত আন্তসীমান্ত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক এক আলোচনায় পোখরেল তখন নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ছিলেন। তিনি ওই চুক্তিকে নেপাল-চীন সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের চুক্তিতে নয়টি ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল তথ্য আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়।

তবে বুধবারের এই দুর্যোগ কাগজে-কলমে চুক্তি থাকা আর বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা থাকার মধ্যে বড় ব্যবধানটি সামনে এনেছে।

বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিভাগীয় জলবিদ বিনোদ পরাজুলির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে ওই বিভাগ বন্যার বিষয়ে তথ্য পায়। রাসুয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই তথ্য বন্যা পূর্বাভাস বিভাগে পৌঁছায়।

তথ্য পাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যে বিভাগটি নদীর নিম্নাঞ্চলে সতর্কবার্তা পাঠায়। তবে ততক্ষণে বন্যার পানি রাসুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিল।

পরাজুলি বলেন, ভোতে কোশি নদীর উজানে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সাধারণত নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করলে এসব কেন্দ্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়। কিন্তু বন্যার পানি এত দ্রুত ও প্রচণ্ড শক্তিতে নেমে আসে যে সতর্কবার্তা পাঠানোর আগেই কেন্দ্রগুলো পানির স্রোতে ভেসে যায়। খবর কাঠমণ্ডু পোস্ট। 

তিনি বলেন, ‘কোনো কেন্দ্রই আমাদের সতর্কবার্তা পাঠাতে পারেনি।’

অর্থাৎ নেপাল নিজের ভূখণ্ডে যে সরঞ্জামগুলো স্থাপন করেছিল, সেগুলোও বন্যা আঘাত হানার আগে কোনো সতর্কবার্তা দিতে পারেনি। নেপালের সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তখনই, যখন বন্যার পানি ইতিমধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, পরে নিচের দিকের এলাকাগুলোতে পাঠানো সতর্কবার্তা অনেক মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। রাসুয়ার মানুষের কাছে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব না হলেও পরাজুলি বলেন, নুয়াকোট ও আরও নিচের এলাকার মানুষকে পাঠানো সতর্কবার্তা হয়তো শত শত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাসুয়ায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু আমরা নুয়াকোট ও নিচের দিকের এলাকাগুলোতে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলাম। এর ফলে সম্ভবত কয়েক শ মানুষ নিজেদের জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।’

পরাজুলি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হিমালয় এলাকায় তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য রিয়েল-টাইম সেন্সর, ক্যামেরা এবং উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে ঝুঁকির উৎস যদি সীমান্তের ওপারে থাকে, তাহলে শুধু নেপালের নিজস্ব সতর্কতা ব্যবস্থা দিয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন।

তিনি বলেন, ‘প্রথম কাজ হলো সেন্সরের মাধ্যমে কোনো ঘটনা শনাক্ত করা এবং সেই তথ্য সীমান্তের দুই পাশে ভাগ করে নেওয়া। পাহাড়ে ব্যাপকভাবে সেন্সর স্থাপন করা গেলে এবং কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তথ্য পেতে পারলে নিচের এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হবে।’

কর্মকর্তারা নিচের এলাকার মানুষদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করলেও বাস্তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে দেখা গেছে। ফলে উত্তরগয়া গ্রামীণ পৌরসভার মানুষ ভয়াবহ এই দুর্যোগের সামনে প্রায় অসহায় হয়ে পড়েন।

উত্তরগয়া পাবলিক স্কুলের শিক্ষক সোমলাল দাঙ্গোল জানান, বন্যার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসতে যাওয়া একটি স্কুলবাসও নিখোঁজ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেত্রাবতী ও সোলে এলাকার বাজার পুরোপুরি পানির স্রোতে ভেসে গেছে।

দাঙ্গোল বলেন, ‘ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ভয়াবহ যে কী ঘটেছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।

Link copied!