ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
উপকূল বাঁচাতে জেলেদের সবুজের স্বপ্ন,

সাগর পাড়ের গঙ্গামতি দুই শতাধিক গাছের চারা রোপণ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৫৫ রাত

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।  সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করেই যাঁদের জীবন কাটে,জীবিকার জন্য যাঁদের প্রতিদিন ছুটতে হয় সমুদ্রে, সেই জেলেরাই এবার উপকূল রক্ষায় হাতে তুলে নিয়েছেন গাছের চারা। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি এলাকায় নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে দুই শতাধিক গাছের চারা রোপণ করেছেন তাঁরা। তাঁদের আশা, এসব গাছ একদিন বড় হয়ে উপকূলের পরিবেশ রক্ষা করবে, আশ্রয় দেবে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীকে। রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে নিম,জাম,আমলকী,বিলম্বি,হরতকি ও বয়রা। জেলেদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু উপকূলকে সবুজ করা নয়, বরং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিজেদেরও ভূমিকা রাখা।
 
সাগরপাড়ের এই অঞ্চলে মানুষের জীবন-জীবিকা প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উপকূলীয় বন, নদী ও সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে বহু প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে মৎস্যসম্পদের ওপরও, যার সরাসরি চাপ গিয়ে পড়ে জেলেদের জীবিকায়।
জেলে মো.আল-আমিন হাওলাদার বলেন,“সাগরপাড়ের গঙ্গামতির উপকূলীয় বন ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গাছপালা ও প্রাকৃতিক প্রতিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই, স্থানীয় মানুষ নিজের উদ্যোগে ও দায়িত্ববোধ থেকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসুক। শুধু গাছ লাগানো নয়, রোপণ করা চারাগুলো রক্ষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে উপকূলের পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে চাই।”

‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, উপকূলীয় বন, নদী ও সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জলাভূমি মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজনন,আশ্রয় ও খাদ্যপ্রাপ্তির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
তিনি বলেন, এসব প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে জলজ জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয় নয়, জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, স্থানীয় জেলেদের নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হয়েছে। গঙ্গামতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় মানুষের পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি চারাগুলোর সুরক্ষা, নিয়মিত পরিচর্যা ও টিকে থাকা নিশ্চিত করাও জরুরি।

পরিবেশকর্মীদের মতে, উপকূলীয় সবুজায়নের সুফল পেতে হলে শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোকে বড় করে তোলার ব্যবস্থাও করতে হবে। স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে চারাগুলো টিকে থাকলে ভবিষ্যতে তা উপকূলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

গঙ্গামতিতে জেলেদের হাতে রোপণ করা চারাগুলো এখন ছোট। সেগুলো বড় হতে সময় লাগবে। কিন্তু সেই চারাগুলো ঘিরে তাঁদের প্রত্যাশা,একদিন এই গাছই হয়ে উঠবে পাখির আশ্রয়, মানুষের ছায়া আর উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার অংশ।
 

Link copied!