বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আবশ্যক: অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ

প্রকাশিত : ৩ মে ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে ফ্যামিলি কাউন্সেলিং ও বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা আবশ্যক। আজ সোমবার ৩রা মে ২০২১ইং তারিখে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় কালের কন্ঠ-বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘থ্যালাসেমিয়া রোগ: সচেতনা প্রতিরোধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে একথা বলেন। ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালের কন্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম, এমপি। মাননীয় উপাচার্য ওয়েবিনারে রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ ও কারণ উল্লেখ করে বলেন, থ্যলাসেমিয়া একটি জন্মগত ও বংশগত রক্তরোগ। এই রোগে মানুষের শরীরের হিমোগ্লোবিনের গঠন প্রণালীতে ক্রটি দেখা দেয়। রোগটি প্রতিরোধে জেনেটিক কাউন্সেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের আগে পাত্রপাত্রীর রক্ত পরীক্ষা করে নিলে তাদের মাঝে থ্যালাসেমিয়া রয়েছে কিনা তা জানা যাবে।

পাত্রপাত্রীর যদি উভয়ের থ্যালাসেমিয়া থাকে তবে তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক নয়। এক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যৎ সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হবে। এ বিষয়ে পরিবারের সকল সদস্যকে সচেতন করতে হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারী উদ্যোগ আরো বৃদ্ধি করতে হবে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আয়রণ চিলেশন থেরাপি চালু রয়েছে। থ্যালাসেমিয়া রোগসহ বিভিন্ন রোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জন্য শীঘ্রই অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন থেরাপি ও স্টেম সেল থেরাপি চালু করা হবে।

এদিকে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় আজ সোমবার তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনিক মিটিং ও শহীদ ডা. মিল্টন হলে সিমুলেশন ল্যাব বিষয়ক সভা এবং নবগঠিত রিসার্চ সাপোর্ট সেলের সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মাননীয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কনফারেন্স রুমে চিকিৎসা বিজ্ঞান উপ-শাখায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে প্রাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রকল্প প্রস্তাবসমূহ মূল্যায়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায়ও অংশগ্রহণ করেন।

রিসার্চ সাপোর্ট সেলের সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে সব সময়ই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচীকে সম্পূর্ণরূপে ঢেলে সাজানো হবে। রোগ নিরাময়ের নতুন নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবনে এবং কার্যকর ভ্যাকসিন ও ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নাই। অন্যদিকে দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই।

সিমুলেশন ল্যাব বিষয়ে মাননীয় উপাচার্য বলেন, এধরণের ল্যাব স্বাস্থ্য শিক্ষাখাতের আধুনিকায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণ চিকিৎসকেরা রোগীর শরীরে অপারেশনের পূর্বে কৃত্রিম মানবদেহের উপর প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাবে। যা তাদেরকে দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং রোগীরা নির্ভুল চিকিৎসা পাবেন।

এদিকে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কার্যালয়ে আজ সোমবার হেলথ রাইটার্স ফোরাম অব বাংলাদেশ এর সভাপতি ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার এবং সমকাল সুহৃদ সমাবেশের পক্ষে সহকারী সম্পাদক জনাব সিরাজুল ইসলাম আবেদ নব নিযুক্ত মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় তারা স্বাস্থ্যখাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে আজ সোমবার ৩রা মে ২০২১ইং তারিখে চলমান কঠোর লকডাউনের মাঝেও মোট ৫৮৯ জন কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫ শত ৬৪ জন এবং আজ ৩রা মে ২০২১ইং পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ২৯ হাজার ২ শত ৭৯ জন। বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে আজ ৩রা মে ২০২১ইং পর্যন্ত পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৪ শত ৫২ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে আজ ৩রা মে ২০২১ইং পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৫ শত ৯০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে আজ সোমবার ৩রা মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৪ শত ৫৫ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৭ শত ৮৩ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৪ হাজার ২৯ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ১১৩ জন রোগী এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৩ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৮ জন। ছবি: মোঃ আরিফ খান। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার। সার্বিক তত্ত্বাধানে মিডিয়া সেল।

 

আপনার মতামত লিখুন :