অবৈধভাবে হাট বসিয়ে রাজস্ব ফাঁকি ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়

প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০২১

মাইনুল ইসলাম রাজু: বরগুনার আমতলীর চুনাখালী হাট- বাজারের ইজারাদার কর্তৃক হাটের নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্যত্র হাট- বাজার বসিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানাগেছে, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুনাখালী হাট- বাজারের জন্য বাংলা ১৪২৭ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারাপ্রাপ্ত হন মাওলানা মোঃ ফজলুল হক। ইজারাপ্রাপ্ত ওই হাট- বাজারে ধান, চাল ও ডাল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকা সত্তে¡ও ইজারাদার বেশি লাভের আশায় সরকারী অনুমতি ব্যতিত প্রায় দেড় কিলোমটির দুরে গিয়ে পটুয়াখালী- আমতলী- কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের মহিষকাটা বাসস্ট্যান্ডে সড়কের দু’পাশে হাট-বাজার বসিয়ে নিয়মিত খাজনা আদায় করছেন। এতে ওই সড়কে চলাচলরত পন্যবাহী ও অন্যান্য যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে স্থাণীয়রা অভিযোগ করেন।

ওই হাট- বাজারে ধান, চাল, ডাল ক্রয় করতে যাওয়া একাধিক ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ইজারাদার অতিরিক্তি খাজনা আদায় করে থাকেন। ইজারাদারের চাহিদামত খাজনা প্রদান না করলে তাদের হাটে বসতে দেয়া হয়না বলেও তারা অভিযোগ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ধান ও ডাল ব্যবসায়ী বলেন, যেখানে বিক্রেতার খাজনা পরিশোধ করার কথা সেখানে আমরা যারা ক্রয় করতে আসি ইজারাদার আমাদের কাছ থেকেও খাজনা আদায় করে থাকেন। খাজনা না দিলে আমাদেরকে ওই হাট- বাজারে বসতে দেয়া হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো এক ব্যবসায়ী বলেন, ধানের বস্তা প্রতি ১৫ টাকা ও ডালের বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে ইজারাদার খাজনা আদায় করে থাকেন। স্থানীয় মোঃ খোকন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতি শনিবার মহিষকাটা বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ২ হাজার মন ধান ও ডাল ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে। এখানে হাট বসিয়ে ইজারাদার অবৈধভাবে খাজনা আদায় করেন এবং সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে থাকেন। স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা হাটের নির্ধারিত স্থানে ধান, চাল ও ডালের বাজার বসানোর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানায়।

এ প্রসঙ্গে হাটের ইজারাদার মাওলানা মোঃ ফজলুল হক মুঠোফোনে মহিষকাটা বাসস্ট্যান্ডে ধান ও ডালের বাজার অবৈধভাবে বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, চুনাখালী বাজারে যাওয়ার সড়কটি ভাল না হওয়ায় এখানে হাট বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, প্রতি শনিবার চাল, ডাল ও ধানের বাজার বিট দিয়ে থাকি, যারা বিট নিয়ে খাজনা আদায় করে তারা অতিরিক্ত খাজনা আদায় করলে তাদের আর বিট দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোজ- খবর নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :