করোনার থাবায় ২ হাজার ৬৭৮ র‌্যাব সদস্য

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল ২০২১

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে এখন পর্যন্ত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ২ হাজার ৬৭৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুই র‌্যাব সদস্যও রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ১ হাজার ৭৩ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, যারা বর্তমানে র‍্যাবে সংযুক্ত আছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশনস কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কন্ট্রোল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সবশেষ বুধবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত র‍্যাবে আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ৭৩ জন সেনা সদস্য, ৫১ জন বিমান বাহিনীর, ৪৬ জন নৌ বাহিনীর, ২৯৯ জন বিজিবির, ১৫৪ জন আনসার এবং ৩৯ জন বেসামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন। এদের মধ্যে ২ হাজার ৫৮৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে কোভিডযুদ্ধে হেরে প্রাণ দিয়েছেন ৬ জন।

এ দিকে, বর্তমানে আক্রান্ত ৭৩৩ সদস্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া কোভিড- টেস্ট করানো ৬০ জন র‍্যাব সদস্যকে আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বাহিনীটির মোট ১৭ হাজার ৮৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের শুরু থেকে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চলমান করোনাযুদ্ধে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ও সংযুক্ত মোট ৮৬ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এরমধ্যে ৮৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা বাকি ৩ জন সিভিল কর্মকর্তা। যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশে সংযুক্ত ছিলেন।

এছাড়া সুচিকিৎসা ও সুনিবিড় পরিচর্যায় বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ১৭ হাজার ১৩৬ জন পুলিশ সদস্য করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছেন। বাহিনীটির মোট ৩৬৮ সদস্য বর্তমানে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। আর আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ২১৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সে জন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। সিনিয়র অফিসাররাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষা সামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে’।

আপনার মতামত লিখুন :