শাপ’লা চত্ত্ব’রে সমা’বেশের আগে খালেদা জিয়ার স’ঙ্গে বৈঠক করেন বা’বুন’গরী

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০২১

মতি’ঝিলের শাপ’লা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফা’জতে ইসলা’মের কর্ম’সূচির ঠিক এক সপ্তাহ আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন সংগ’ঠনটির তৎকালীন মহা’সচিব জুনায়েদ বাবুন’গরী। বিএনপির পক্ষ থেকে ওই আন্দো’লনে অর্থ সহায়তাও পাওয়া যায়। পাশাপাশি জামা’য়াতের নেতা-কর্মীরা সরাসরি হেফা’জতের কর্মসূচীতে ঢুকে জ্বালাও পোড়াও করে সরকা’রের প’তন ঘটাতে চেয়েছিল।

আদা’লতে দেওয়া ১৬৪ ধা’রায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন কথা বলেছেন হেফা’জত ইসলা’মের ঢাকা মহানগর কমিটির তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জনসেবা আন্দো’লনের চেয়ারম্যান ও ও মারকাজুল আজিজ মাদ্রা’সার প্রিন্সি’পাল হিসেবে কর্মরত। তিনি কামরা’ঙ্গীরচর জামিয়া নূরীয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) মুখ্য মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। এতে ওই সময়ের বেশ কিছু চিত্র উঠে এসেছে।

মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে আমি কারা’ঙ্গীরচর মাদ্রা’সার ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকার ৮-১০ হাজার হেফা’জত কর্মী-সমর্থ’কদের নিয়ে লালবাগ-চকবাজার হয়ে নয়াবাজারে আসি। জোহরের নামাজ পর্যন্ত আমরা ৮-১০ হাজার লোকসহ এখানেই ছিলাম। জোহরের নামাজ আদায়ের পর দুপুর ২টার দিকে হেফাজ’তে ইসলা’মের তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাস’চিব মুফতি ফয়’জুল্লাহ সাহেব ফোন দিয়ে সবাইকে নিয়ে শাপলা চত্বরে যাওয়ার জন্য বলে।’

জবানব’ন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, শাপ’লা চত্বরে যাওয়ার সময় গোলা’পশাহ মাজা’রের (গুলিস্থান) সামনে আইন’শৃঙ্খলা বাহি’নীর সদস্য’রা তাদের বাধা দেয়। এসময় আইন’শৃঙ্খলা বাহি’নীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে ছত্র’ভঙ্গ হয়ে ব্যা’পক ভাঙ’চুর করে। দুপুর ৩টার দিকে তার নেতৃ’ত্বে ৫-৭ হাজার লোক নিয়ে তিনি শাপ’লা চত্ব’রে পৌঁছান। শাপ’লা চত্ব’রে গিয়ে তিনি মাওলা’না আব্দুল্লাহ রব ইউসুফি, জুনায়েদ আল হাবিব, মামুনুল হক, মাওলানা জাফর উল্লাহ, আবুল হাসনাতমহ অনেককেই দেখতে পান। এর মধ্যে ৪৩ জনের নাম জবানব’ন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। মামু’নুল হকসহ অন্যান্য হেফা’জত নেতারা তাদের ১৩ দফা দাবি আদায় না করতে পারলে সরকার পতনের আন্দো’লন করা হবে বলে তাকে জানিয়ে’ছিলেন।

তিনি আরো বলেছেন, ‘মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী তাকে বলেছেন, আন্দোলন ও সহিংসতার বিষয়ে দু’জন বিএনপি নেতা এবং একজন জামায়াত নেতা তাদের অর্থ সহযোগীতা করছে। এছাড়া ২৮ এপ্রিল (২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল, ৫ মে’র এক সপ্তাহ আগে) গোপনে বাবুনগরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হেফাজতের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে স্থায়ী হলে বিএনপি ও জামায়াতও যোগ দেবে বলে আলোচনা হয়েছে। ওই দিন দুপুর থেকেই বিএনপি-জাময়াতের কর্মীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি ও আগুন দেওয়া শুরু করে।’

২০১৩ সালের ৫ মে’র একদিন আগে ঢাকায় এক সমাবেশ থেকে হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া। কিন্তু দলের একটি অংশ দ্বিমত পোষণ করায় সাংগঠনিকভাবে হেফাজতের অবরোধে অংশ নিতে পারেনি বিএনপি। বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা হেফাজতের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। তবে জামায়াত-শিবির সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই হেফাজতের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে এক আলোচনা সভায় হেফাজতের একটি অংশ শাপলা চত্বরের ঘটনার পুরো দায় জুনায়েদ বাবুনগরীর বলে মন্তব্য করেন। শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় বাবুনগরী হেফাজতের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর পর আহমদ শফীর ওপর এক আলোচনা সভায় হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সলিমুল্লাহ দাবি করেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনার দায় বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীর। তিনি তখন হেফাজতের মহাসচিব ছিলের। শাপলা চত্বরে রাতে অবস্থানের কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না। রাতে থাকলে সেনাবাহিনী নামবে বলে তিনি (বাবুনগরী) একক সিদ্ধান্তে রাতে অবস্থানের নির্দেশ দেন।’

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সাল থেকেই জুনায়েদ বাবুনগরী বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহমদ শফীর জন্য আগে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর বাবুনগরীর আমীর নির্বাচিত হলে হেফাজত পুরোপুরি ‘অ্যান্টি গর্ভনমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ’ শুরু করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে গত বছরের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে বিরোধিতা শুরু করে চলতি বছরের মোদীবিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করেছে।

গত ১৪ এপ্রিল লালবাগ এলাকা থেকে মুফতি ফখরুলকে গ্রেপ্তারের পর পাাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে সোমবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :