মুগডালে ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দশমিনায় চাষির মাথায় হাত

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০২১

দশমিনা (পটুযাখালী) প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর দশমিনায় মুগডালে ফল ছিদ্রকারী ল্যাদা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় আর গাছে অতিরিক্ত ফলন দেখে খুশিতে ছিলেন উপজেলার চাষিরা । কিন্তু শেষ সুহুর্তে ফল ছিদ্রকারী ল্যাদা পোকার হানায় মুগডাল চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। ঔষধ প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। পোকায় ডালের ছড়া কেটে ফেলায় জমিতে পড়েই নষ্ট হচ্ছে তা। কিভাবে পোকার হানা থেকে রেহাই মিলবে তা জানতে কৃষি দপ্তরেরও দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাস পাড়া গ্রামের কৃষক মজিদ হাওলাদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মুগ গাছের মাথার দিকে চাইলে কান্দন হ্যায়। গাছগুলা কি সুন্দর অইছিলে, কিন্তু পোকে সব খাইয়া হালাইয়া দিছে। গাছে ডাইল না থাকলে কি আনবো ঘরে, কি খাবো সারা বছর! কিন্তু য্যামনে পোকে ডাইলের ছড়া কাটে হ্যাতে তো অনেক ক্ষতির মুখে পড়মু। কাডা ডাইল ক্ষ্যাত থেকে তোলা সম্ভব না। শেষ সময়ে এমন সমস্যায় আমাগো ঘুম নাই।’ তিনি আরো জানান, এক একর জমি চাষাবাদের জন্য ট্রাক্টর খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, রোপণের জন্য ২০কেজি ডাল কিনতে হয়েছে ২হাজার ১শ’ টাকা, পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ঔষধ বাবদ খরচ করেছেন ১হাজার ৪শ’ ৮০ টাকা।

সব মিলিয়ে একর প্রতি তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১০হাজার টাকা। একর প্রতি ৭/৮ মণ ডাল উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এ বছর ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ফলন কমে একর প্রতি ৩/৪ মনে নেমে আসতে পারে। আর তাতে বাজার মূল্য যা হবে তা থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিলে লাভের মুখ দেখা যাবে না। বরং ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

একই গ্রামের আরেক কৃষক শংকর বলেন, আমার দেড় একর জমির মুগডালের অধিকাংশই লম্বা-গোলাকার আকৃতির একধরনের পোকার উপদ্রবর কারণে নষ্ট হতে যাচ্ছে। কিভাবে সংসার চলবে সে চিন্তাতেই এখন ঘুম নাই। পার্শ্ববর্তী গ্রামের কৃষক ইউনুছ তালুকদার বলেন, আমার এক একর মুগডাল গাছের ৭৫শতাংশই পোকায় বিনষ্ট করেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে মাথা হাত এখন প্রায় সব ডাল চাষিদেরই।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. আবু জাফর আহাম্মেদ বলেন, চলতি বছর মুগ ডালের ফলন ভাল হলেও কিছু কিছু এলাকায় ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে ডালের ছড়া ঝরে পড়ছে। ওই পোকার সংক্রমন বেশি হলে ফল বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ঔষধের নাম লিখে দেয়াসহ পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আর বৃষ্টি না হওয়ায় প্রচন্ড রোধে এ ধরনের পোকা হানা দিয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :