পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য ক্যাম্প ছেড়েছিল ২ রোহিঙ্গা তরুণী

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:০৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা পাচারকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে সুন্দরী নারীদের টার্গেট করে তাদের পরিবারের সাথে ভাব জমায়। পরে সুযোগ বুজে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অথবা বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার নামে অভিনব কায়দায় নারী পাচার অবহ্যত রেখেছে।

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভারত সীমান্তের চুয়াডাঙ্গায় দামুরহুদা উপজেলায় ডুগডুগি পশুহাট থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আমির হোসেনের মেয়ে জোবাইরা খাতুন (২০) এবং বালুখালী ২৬নং ক্যাম্পের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আনোয়ারা খাতুন (১৮)।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উখিয়া থানায় তাদের হস্তান্তরকালে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ দামুরহুদা উপজেলার পুলিশ জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় ডুগডুগি জমজমাট পশুরহাটে সুন্দরী দুই মেয়েকে দেখে সন্দেহ হয়। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। ঐ দুই নারী উখিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদেরকে পাকিস্তানে নেয়ার কথা বলে ভারত সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ডুগডুগির হাটে তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বলে দামুড়হুদা মডের থানার অফিস ইনচার্জ (তদন্ত) জাহাঙ্গীর কবির জানান।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দামুড়হুদা মডেল থানায় আটক দুই রোহিঙ্গা নারীকে কুতুপালং ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে ঢাকা বিমানবন্দর থানা পুলিশ ৬৫ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ শিশুসহ ৭১জন রোহিঙ্গাকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্ত করে। এভাবে ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্র রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করলেও তাদের অধিকাংশ চলে যাচ্ছে নাগালের বাহিরে।

এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুমিনুল এহসান খান জানান, কাঁটা তারের বেড়ার কাজ শেষ হলে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়বে। এতে মানব পাচার ও ইয়াবা কারবারীদের বানিজ্য অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার হিজলিয়ার ছাদ্রিকাঁটা পালংগার্ডেন সেন্টারে অনুষ্ঠিত উখিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কতৃপক্ষ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বলেছেন, চোরের দশ দিন, গৃহস্তের একদিন। যেদিন ধরা পড়বে সেদিন আর বেচেঁ থাকার সুযোগ থাকবে না।

 

আপনার মতামত লিখুন :