বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান জানান, দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারি কি না সে বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মানুষ আবেগ ও চোখের পানি দিয়ে বিদায় দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া এ জাতিকে তিনবার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তাঁর একটি আপসহীন সংগ্রামী জীবন ছিল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন। সে লড়াই করতে গিয়ে তাঁর শেষ জীবনটা অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে জেলে একাকীত্বে কাটাতে হয়েছে।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবারক হোসেন ও সাইফুল আলম খান মিলন।
ভারতের সঙ্গে বৈঠকটি ‘গোপনীয় নয়’
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রয়টার্সকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির একজন সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন-‘ভারত যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো যোগাযোগ, কথাবার্তা বা বৈঠক হয় কি না?’ তিনি তখন সাংবাদিককে জানান, গত বছরের মাঝামাঝি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরার পর দেশবিদেশের অনেকেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।
অন্য দেশের কূটনীতিকদের পাশাপাশি সে সময় ভারতের দুজন কূটনীতিকও তাঁকে দেখতে বাসায় এসেছিলেন এবং অন্যদের মতো তাঁদের সঙ্গেও সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কথা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেসব কূটনীতিক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সেসব বিষয় পাবলিসিটিতে দেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে হওয়া সাক্ষাৎও প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁরা সেটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। ডা. শফিকুর লিখেছেন, তখনই বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেকোনো বৈঠক হলে তা অবশ্যই প্রকাশ্যে আসবে এবং এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।
পোস্টে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠক হয়েছে-এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিস্মিত। এ ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রকৃত বিষয় না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন থেকে গণমাধ্যমগুলোকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :