বিয়ের দুই মাসের মাথায় সন্তান প্রসব, কিশোরী বলল সন্তানের বাবা শিক্ষা অফিসার!

Spread the love

জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে বিয়ের দুই মাসের মধ্যে সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে লম্পট শিক্ষা অফিসার মাজেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ধর্ষনের শিকার কিশোরী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত লম্পট গা-ঢাকা দিয়েছে।

 

ধর্ষনের শিকার কিশোরী জানায়, প্রায় ১ বছর আগে সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মাস্টারের ছেলে মাজেদুল ইসলামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় সে। মাজেদুল ইসলাম মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার স্ত্রী নাজমা আক্তারও একজন স্কুল শিক্ষিকা। কিছুদিন কাজ করার পর থেকেই গৃহকর্তা মাজেদুল ইসলাম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতি শনিবার তাকে নানাভাবে যৌন হয়রানী করে। এক পর্যায়ে তাকে হাত ও মুখ বেঁধে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা ফাঁস না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

 

এরপর থেকেই প্রতি শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ার সুবাদে বাসায় অবস্থানকালে স্ত্রী স্কুলে চলে যাবার পর নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। এ অবস্থায় কিশোরীর শাররিক গঠন পরিবর্তন দেখা দিলে চতুর শিক্ষা অফিসার মাজেদুল ইসলাম দুই মাস আগে জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গল হাটি গ্রামে রোকন নামে এক যুবকের কাছে বিয়ে দেয়। এদিকে বিয়ের দুইমাস পরেই ৭ মাসের একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করে ওই কিশোরী। বিয়ের দুই মাসের মাথায় ৭ মাসের বাচ্চা প্রসব করায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। লোকলজ্জার ভয়ে স্বামী রোকনের পরিবার সদ্য ভূমিষ্ট মৃত সন্তানসহ আকলিমাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায়। এ ঘটনা জানাজানির পর আকলিমা প্রতিবেশীদের কাছে গৃহকর্তা মাজেদুলের পাশবিক যৌন নির্যাতনের কাহিনী খুলে বললে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

 

এক পর্যায়ে এলাকাবাসী মাজেদুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিচারের দাবি করে। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকেই মাজেদুল পলাতক রয়েছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেমুজ্জামান জানান, গৃহকর্মী আকলিমার উপর পাশবিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মাজেদুল ইসলামকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আকলিমার গর্ভের মৃত সন্তানের ময়নাতদন্ত ও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও গৃহকর্তা মাজেদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ন্যক্কারজনক এই ঘটনার জন্য ওই সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলামের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। -সময়ের কণ্ঠস্বর

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় ইয়াবাসহ এক যুবক আটক

» কলাপাড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান’র বিরুদ্ধে দন্ড সহ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি

» চীনে মুসলমানদের ফরজ বিধান নিষিদ্ধ করে মানবাধিকার লঙ্গন করেছে-মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ

» সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনছে সরকার

» হ্যাপী বিতর্কের পর যেভাবে বদলে গেল রুবেলের ক্যারিয়ার

» মধুর ক্যান্টিনে সংঘর্ষের ঘটনায় জারিনসহ ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার

» একসময়ের কোটিপতি ব্যবসায়ী এখন ভাঙারি দোকানের শ্রমিক!

» আটকে গেল কেটলি বালিশ ফ্রিজ তোলার সব বিল

» হাজারো রোগ থেকে মুক্তি দেবে কাঁচামরিচ

» বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ের দুই মাসের মাথায় সন্তান প্রসব, কিশোরী বলল সন্তানের বাবা শিক্ষা অফিসার!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে বিয়ের দুই মাসের মধ্যে সন্তান প্রসবের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে লম্পট শিক্ষা অফিসার মাজেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকায় বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ধর্ষনের শিকার কিশোরী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত লম্পট গা-ঢাকা দিয়েছে।

 

ধর্ষনের শিকার কিশোরী জানায়, প্রায় ১ বছর আগে সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব মাস্টারের ছেলে মাজেদুল ইসলামের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় সে। মাজেদুল ইসলাম মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার স্ত্রী নাজমা আক্তারও একজন স্কুল শিক্ষিকা। কিছুদিন কাজ করার পর থেকেই গৃহকর্তা মাজেদুল ইসলাম স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতি শনিবার তাকে নানাভাবে যৌন হয়রানী করে। এক পর্যায়ে তাকে হাত ও মুখ বেঁধে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে এবং এ ঘটনা ফাঁস না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

 

এরপর থেকেই প্রতি শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ার সুবাদে বাসায় অবস্থানকালে স্ত্রী স্কুলে চলে যাবার পর নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। এ অবস্থায় কিশোরীর শাররিক গঠন পরিবর্তন দেখা দিলে চতুর শিক্ষা অফিসার মাজেদুল ইসলাম দুই মাস আগে জামালপুর সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গল হাটি গ্রামে রোকন নামে এক যুবকের কাছে বিয়ে দেয়। এদিকে বিয়ের দুইমাস পরেই ৭ মাসের একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করে ওই কিশোরী। বিয়ের দুই মাসের মাথায় ৭ মাসের বাচ্চা প্রসব করায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। লোকলজ্জার ভয়ে স্বামী রোকনের পরিবার সদ্য ভূমিষ্ট মৃত সন্তানসহ আকলিমাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায়। এ ঘটনা জানাজানির পর আকলিমা প্রতিবেশীদের কাছে গৃহকর্তা মাজেদুলের পাশবিক যৌন নির্যাতনের কাহিনী খুলে বললে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

 

এক পর্যায়ে এলাকাবাসী মাজেদুলের বাড়ি ঘেরাও করে বিচারের দাবি করে। ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকেই মাজেদুল পলাতক রয়েছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেমুজ্জামান জানান, গৃহকর্মী আকলিমার উপর পাশবিক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মাজেদুল ইসলামকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আকলিমার গর্ভের মৃত সন্তানের ময়নাতদন্ত ও শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও গৃহকর্তা মাজেদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ন্যক্কারজনক এই ঘটনার জন্য ওই সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলামের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। -সময়ের কণ্ঠস্বর

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited