অমর একুশের গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিপথে যাওয়া ছেলেমেয়েরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সুপথে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে তিনি এই মেলার উদ্বোধন করেন। এসময় বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে প্রকাশকদের তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিপথে যাওয়া ছেলেমেয়েরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সুপথে ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করি। বই দিয়ে ছেলেমেয়েদের বিপথে যাওয়া থেকে উদ্ধার করা যায়।

 

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ পর্যন্ত যা কিছু অর্জন তা রক্ত দিয়েই অর্জন করতে হয়েছে।নিজের ভাষা, কথা বলার অধিকার, বাঙালি হিসেবে যে মর্যাদার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি সবই লড়াইয়ের এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। তিনি আরও বলেন, সেই অর্জন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে।পরবর্তীতে আমরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদেরসহ সব ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় বিশ্ব দরবারে আবারও বাঙালি হিসেবে নিজেদের অর্জনগুলো তুলে ধরেন তিনি।

 

ডিজিটাল বইয়ের লাইব্রেরি হাতের নাগালে থাকলেও এখনও হাতে নিয়ে পাতা উল্টে বই পড়াতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এখন হাতে একটা যন্ত্র নিয়ে বই পড়া যায়। কিন্তু হাতে নিয়ে পাতা উল্টে বই পড়াতেই আনন্দ বেশি। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বই পড়তে হবে। পরিবারগুলো তাদের শিশুদের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার বিকাশে সহযোগিতা করে। তিনি নিজেও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ছোট থেকেই বই পড়ার চর্চা তৈরির পরিবেশ কীভাবে গড়ে তোলেন সেই বর্ণনা দেন।

 

তিনি আরও বলেন, একুশের গ্রন্থমেলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ও এই গ্রন্থমেলা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশী অতিথিদের বাংলা বক্তৃতা, কবিতার অনুবাদ শোনানোয় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, অনুবাদের মধ্য দিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির আদান প্রদানের সুযোগ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বইপ্রেমী তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন আমাদের এই বইমেলা শুরু হবে। এ বইমেলার মধ্য দিয়ে যারা সাহিত্যচর্চা করেন তাদের বই প্রকাশ হয়। এটা লেখক, প্রকাশক, ও পাঠকদের বিরাট মিলনমেলা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার কারণে এখন এই মেলায় আসতে পারি না। বন্দিখানায় পড়ে থাকি। বই পড়লে অনেক কিছু ভুলে থাকা যায়, জ্ঞান অর্জন করা যায়। সকলে বই পড়ুন। উদ্বোধনের পর মেলার বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।এবারও বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে বসেছে বই এর পসরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কুয়াকাটায় যথাযথ মর্যাদায় মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে

» দশমিনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

» দশমিনায় প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে ভাষা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়নি

» যশোরের বেনাপোলে ফেন্সিডিলসহ মহিলা ব্যবসায়ী আটক

» আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার মিলন মেলা

» বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভাষা শহীদদেও প্রতি শ্রদ্ধা

» বান্দরবানের রুমায় বিষ পানে পাড়া প্রধানের আত্মহত্যা

» গলাচিপায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালিত

» পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতে পতাকা বিক্রেতা মো.গিয়াস উদ্দিন

» আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও আলোচনা সভা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অমর একুশের গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বিপথে যাওয়া ছেলেমেয়েরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সুপথে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে তিনি এই মেলার উদ্বোধন করেন। এসময় বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে প্রকাশকদের তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিপথে যাওয়া ছেলেমেয়েরা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে সুপথে ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করি। বই দিয়ে ছেলেমেয়েদের বিপথে যাওয়া থেকে উদ্ধার করা যায়।

 

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজ পর্যন্ত যা কিছু অর্জন তা রক্ত দিয়েই অর্জন করতে হয়েছে।নিজের ভাষা, কথা বলার অধিকার, বাঙালি হিসেবে যে মর্যাদার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি সবই লড়াইয়ের এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। তিনি আরও বলেন, সেই অর্জন ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে।পরবর্তীতে আমরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদেরসহ সব ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় বিশ্ব দরবারে আবারও বাঙালি হিসেবে নিজেদের অর্জনগুলো তুলে ধরেন তিনি।

 

ডিজিটাল বইয়ের লাইব্রেরি হাতের নাগালে থাকলেও এখনও হাতে নিয়ে পাতা উল্টে বই পড়াতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এখন হাতে একটা যন্ত্র নিয়ে বই পড়া যায়। কিন্তু হাতে নিয়ে পাতা উল্টে বই পড়াতেই আনন্দ বেশি। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বই পড়তে হবে। পরিবারগুলো তাদের শিশুদের বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার বিকাশে সহযোগিতা করে। তিনি নিজেও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ছোট থেকেই বই পড়ার চর্চা তৈরির পরিবেশ কীভাবে গড়ে তোলেন সেই বর্ণনা দেন।

 

তিনি আরও বলেন, একুশের গ্রন্থমেলা আন্তর্জাতিক সাহিত্য অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ও এই গ্রন্থমেলা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশী অতিথিদের বাংলা বক্তৃতা, কবিতার অনুবাদ শোনানোয় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, অনুবাদের মধ্য দিয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির আদান প্রদানের সুযোগ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বইপ্রেমী তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন আমাদের এই বইমেলা শুরু হবে। এ বইমেলার মধ্য দিয়ে যারা সাহিত্যচর্চা করেন তাদের বই প্রকাশ হয়। এটা লেখক, প্রকাশক, ও পাঠকদের বিরাট মিলনমেলা।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার কারণে এখন এই মেলায় আসতে পারি না। বন্দিখানায় পড়ে থাকি। বই পড়লে অনেক কিছু ভুলে থাকা যায়, জ্ঞান অর্জন করা যায়। সকলে বই পড়ুন। উদ্বোধনের পর মেলার বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।এবারও বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলিয়ে বসেছে বই এর পসরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited