পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়ে মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করালো রোহিঙ্গা

Spread the love

মাদরাসার রিংওয়েল থেকে পানি নিতে নিষেধ করায় পরিকল্পিত ঘটনা সৃষ্টি করে মাদরাসা পরিচালকসহ পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গা নাগরিক ছলেমা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদরাসার দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত না থাকায় অপর এক শিক্ষকসহ মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী ইসমত আরাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর পূর্বনির্ধারিত মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল স্থগিত হয়ে যায়। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য ছিল।

 

জানা গেছে, আহমদ শরীফ নামে এক ব্যক্তি সপরিবারে ১০ বছর আগে মিয়ানমার থেকে আলীকদম এসে বাসষ্টেশনস্থ ঠাণ্ডা মিস্ত্রিপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। ৮ বছর আগে তিনি এলাকার মকবুল হাফেজের কাছ থেকে জমি কিনে আলীকদম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দানু সর্দারপাড়ায় বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর এ রোহিঙ্গা নাগরিক আহমদ শরীফ ৫-৬ বছর আগে মালয়েশিয়া চলে যান। তার স্ত্রী ছলেমা খাতুন ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন।

 

জানা যায়, আলীকদম ফয়জুল উলুম মাদরাসার বার্ষিক সভা উপলক্ষে বিভিন্ন মেহমান ও বিশেষ কিছু কারণে মাদরাসার রিংওয়েল থেকে আশপাশের প্রতিবেশীকে ২৩-২৪ এপ্রিল দুদিন পানি না নিতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু অনুরোধ অমান্য করে রোহিঙ্গা মো. আলম মঙ্গলবার সকালে বিনা অনুমতিতে মাদরাসা কক্ষে ঢুকে নিজে নিজে পানির মোটরের সুইচ টিপে পানি উত্তোলন করতে গেলে ছাত্ররা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষে হাতাহাতি হয়। এ সময় মাদরাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীসহ অন্য শিক্ষকরাও আলমকে বাধা দেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, আলমকে পানি নিতে বাধা দেয়ার পর আলমের মা ছলেমা খাতুন ও তার বোন মাদরাসায় এসে পরিচালক মাওলানা শামশুল হুদা সিদ্দিকীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং শিক্ষকদের দিকে তেঁড়ে যায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা রোহিঙ্গা মহিলাটিকে চড়-থাপ্পড় মেরে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে অদূরে দাঁড়িয়ে কেবল একটু অংশ ভিডিও ধারণ করে ছলেমার বড় ছেলে মো. আলম ও তার ভাই রফিক এবং সে ভিডিও পূর্বপরিকল্পনামতে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয় তারা।

 

অপরদিকে ভিডিওটি একটি অনলাইন পত্রিকার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হলে পুলিশ বুধবার রাতে মাদরাসা থেকে শিক্ষক হাফেজ আলমগীর, মাহমুদুল করিম, মুফতি শফিউল আলম ও মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীর স্ত্রী ইসমত আরাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। জানতে চাইলে থানার ওসি রফিক উল্লাহ বলেন, ফেসবুকে মারামারির ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর ছলেমা খাতুন বাদী হয়ে মাদরাসা পরিচালকসহ ৪ শিক্ষকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: যুগান্তর

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বান্দরবানে শহর জুড়ে চলছে হরতাল আর পিকেটিং

» এবার প্রচন্ড শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’!

» রাণীনগরে ইট ভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত

» ধানের দাম কম তাই জমেনি ঈদের বাজার!

» বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে অর্ধশতাধিক বাড়ী-ঘর বিধ্বস্ত

» মোরেলগঞ্জে উন্মুক্ত বাজেট প্রনয়ন সভা অনুষ্ঠিত

» ঈদ উপলক্ষে আমতলী ঢাকা রুটে যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত লঞ্চ দেয়ার ঘোষণা

» নবীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ঈদের হাটে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজী

» রাজাপুরে নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার -৩

» সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com



আজ রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়ে মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করালো রোহিঙ্গা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মাদরাসার রিংওয়েল থেকে পানি নিতে নিষেধ করায় পরিকল্পিত ঘটনা সৃষ্টি করে মাদরাসা পরিচালকসহ পাঁচ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গা নাগরিক ছলেমা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদরাসার দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত না থাকায় অপর এক শিক্ষকসহ মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী ইসমত আরাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার পর পূর্বনির্ধারিত মাদরাসার বার্ষিক মাহফিল স্থগিত হয়ে যায়। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য ছিল।

 

জানা গেছে, আহমদ শরীফ নামে এক ব্যক্তি সপরিবারে ১০ বছর আগে মিয়ানমার থেকে আলীকদম এসে বাসষ্টেশনস্থ ঠাণ্ডা মিস্ত্রিপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। ৮ বছর আগে তিনি এলাকার মকবুল হাফেজের কাছ থেকে জমি কিনে আলীকদম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দানু সর্দারপাড়ায় বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর এ রোহিঙ্গা নাগরিক আহমদ শরীফ ৫-৬ বছর আগে মালয়েশিয়া চলে যান। তার স্ত্রী ছলেমা খাতুন ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন।

 

জানা যায়, আলীকদম ফয়জুল উলুম মাদরাসার বার্ষিক সভা উপলক্ষে বিভিন্ন মেহমান ও বিশেষ কিছু কারণে মাদরাসার রিংওয়েল থেকে আশপাশের প্রতিবেশীকে ২৩-২৪ এপ্রিল দুদিন পানি না নিতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু অনুরোধ অমান্য করে রোহিঙ্গা মো. আলম মঙ্গলবার সকালে বিনা অনুমতিতে মাদরাসা কক্ষে ঢুকে নিজে নিজে পানির মোটরের সুইচ টিপে পানি উত্তোলন করতে গেলে ছাত্ররা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষে হাতাহাতি হয়। এ সময় মাদরাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীসহ অন্য শিক্ষকরাও আলমকে বাধা দেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, আলমকে পানি নিতে বাধা দেয়ার পর আলমের মা ছলেমা খাতুন ও তার বোন মাদরাসায় এসে পরিচালক মাওলানা শামশুল হুদা সিদ্দিকীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং শিক্ষকদের দিকে তেঁড়ে যায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা রোহিঙ্গা মহিলাটিকে চড়-থাপ্পড় মেরে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে অদূরে দাঁড়িয়ে কেবল একটু অংশ ভিডিও ধারণ করে ছলেমার বড় ছেলে মো. আলম ও তার ভাই রফিক এবং সে ভিডিও পূর্বপরিকল্পনামতে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয় তারা।

 

অপরদিকে ভিডিওটি একটি অনলাইন পত্রিকার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হলে পুলিশ বুধবার রাতে মাদরাসা থেকে শিক্ষক হাফেজ আলমগীর, মাহমুদুল করিম, মুফতি শফিউল আলম ও মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীর স্ত্রী ইসমত আরাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। জানতে চাইলে থানার ওসি রফিক উল্লাহ বলেন, ফেসবুকে মারামারির ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর ছলেমা খাতুন বাদী হয়ে মাদরাসা পরিচালকসহ ৪ শিক্ষকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: যুগান্তর

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited