সন্তানের অবহেলা ও নির্যাতনে বাঁচার জন্য ভিক্ষা ভিত্তিতে নাম লিখালেন এক বৃদ্ধা মা

Spread the love

নারায়নগঞ্জ উপজেলায় দুপুর সাড়ে ১২টায় এক বৃদ্ধা মায়ের চিৎকার শুনে অনেক মানুষের সমাগম হয়। সেখানে গিয়ে যানা যায় ৩ মিনিট আগে দুই জন মহিলা বয়ষ্কভাতা নিতে এসে উপজেলার এখানে বৃদ্ধার সামনে বসে। এক সময় বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করে তার কাছে কোন ভাংতি আছে কিনা। বৃদ্ধা হ্যা বললে মহিলা দুই জন বৃদ্ধার ব্যাগ নিয়ে টাকা গুনার কথা বলে চলে যায়। তাই বৃদ্ধা কান্না করছে। বৃদ্ধা হেটে কেনো মহিলা দুই জনকে ধরলো না প্রশ্ন করলে উপজেলার আশে পাশের কিছু লোক থেকে জানা যায় বৃদ্ধা হাটা চলা করতে পারে না এবং বিগত ১৫ দিন ধরে বৃদ্ধা উপজেলার বারিন্দায় থাকছে।

 

তার ছেলে খালেক(৪০)ও ছেলের বউ আমেনা (৩০) বাসা থেকে মেরে বের করে দিয়েছে। বাসা থেকে বের করে দেবার মূল কারন হলো বৃদ্ধা প্রতিদিন ৪০০টাকা ভিক্ষা করে নিয়ে দেয় না কেনো। ছেলে খালেক ঢাকা টেক্সটাইলের পাশে অবস্থিত আজিজ ডাইংয়ে কাজ করে স্বল্প বেতনে। নিজের সংসার খরচ করে বৃদ্ধার ওষুধ পানির খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই বৃদ্ধাকে ভিক্ষা ভিত্তিতে নামতে বাধ্য করে ছেলে ও ছেলের বউ। ১৫ দিন আগে বৃদ্ধার হাতে ও পায়ে দা দিয়ে আঘাত করে আহত করে বাসা থেকে বের করে দেয় বৃদ্ধারর ছেলের বউ। সেইদিন থেকেই বৃদ্ধা এক পা ও এক হাত নড়াচড়া করতে পারে না এবং থাকার স্থান হয় উপজেলার বারিন্দায়।

 

বৃদ্ধার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন,আমিই প্রথম থেকে বৃদ্ধাকে সেবা যতœ করে আসছি। প্রথম যেদিন বৃদ্ধা উপজেলায় আসে তখন বৃদ্ধার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ছিলো। বৃদ্ধার ডান হাত,পা ও হাত পায়ের আঙুল কাটা ছিলো। আমি ওষুধ পানি দিয়ে বৃদ্ধাকে সুস্থ করে তুলার চেষ্টা করছি। প্রথম যেদিন বৃদ্ধা উপজেলায় আসে সেদিন উপজেলার দাড়োয়ান বৃদ্ধা থেকে ৭০০টাকা নেয় এবং তারপর ঝাড়ুদার মহিলাও ৫০০টাকা নিয়েছে বৃদ্ধা আমায় বলেছে। উপজেলা থেকে কয়েকবার বৃদ্ধাকে তার বাসায় ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে যেতে বললে তারা নিতে রাজি হয় না। আমার মা নেই তাই তাকে মায়ের মত দেখতাম তার থাকার জন্য মশারি ও বিছানার ব্যবস্থা করে দেই এবং তার যত্ননেই। কিন্তু মানুষ ভাবে আমি নাকি বৃদ্ধার টাকার জন্য তাকে সেবা যত্নকরছি।

 

বৃদ্ধার সাথে কথা বলে আরো জানা যায় তার নাম রাজিয়া। আনুমানিক ৮০/৮২ বছর হবে বৃদ্ধার। বৃদ্ধা তার ছেলেকে নিয়ে অনেক দিন যাবৎ নারায়নগঞ্জ আছে। বৃদ্ধা বরিশাল থেকে এসেছে। বৃদ্ধা কিছু স্মৃতিভুষ্ট। অসুস্থ বৃদ্ধা গত ১৫ দিন যাবৎ উপজেলায় থাকছে কিন্তু উপজেলা কতৃপক্ষ বা প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোন ছেলে ও ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে আইনীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেনো? পথচারীদের প্রশ্ন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও প্রকাশ: তদন্ত শুরু, বেপরোয়া এসআই মিজান ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা

» গাইবান্ধায় ধান ক্ষেতে উদ্ধার হওয়া নবজাতক পেলো বাবা-মা

» কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান

» বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো ধর্ষক পথে গ্রেফতার

» চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহ

» শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা: সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

» নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা, সেই মনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

» ব্রুনাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৮

» দশমিনায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সন্তানের অবহেলা ও নির্যাতনে বাঁচার জন্য ভিক্ষা ভিত্তিতে নাম লিখালেন এক বৃদ্ধা মা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

নারায়নগঞ্জ উপজেলায় দুপুর সাড়ে ১২টায় এক বৃদ্ধা মায়ের চিৎকার শুনে অনেক মানুষের সমাগম হয়। সেখানে গিয়ে যানা যায় ৩ মিনিট আগে দুই জন মহিলা বয়ষ্কভাতা নিতে এসে উপজেলার এখানে বৃদ্ধার সামনে বসে। এক সময় বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করে তার কাছে কোন ভাংতি আছে কিনা। বৃদ্ধা হ্যা বললে মহিলা দুই জন বৃদ্ধার ব্যাগ নিয়ে টাকা গুনার কথা বলে চলে যায়। তাই বৃদ্ধা কান্না করছে। বৃদ্ধা হেটে কেনো মহিলা দুই জনকে ধরলো না প্রশ্ন করলে উপজেলার আশে পাশের কিছু লোক থেকে জানা যায় বৃদ্ধা হাটা চলা করতে পারে না এবং বিগত ১৫ দিন ধরে বৃদ্ধা উপজেলার বারিন্দায় থাকছে।

 

তার ছেলে খালেক(৪০)ও ছেলের বউ আমেনা (৩০) বাসা থেকে মেরে বের করে দিয়েছে। বাসা থেকে বের করে দেবার মূল কারন হলো বৃদ্ধা প্রতিদিন ৪০০টাকা ভিক্ষা করে নিয়ে দেয় না কেনো। ছেলে খালেক ঢাকা টেক্সটাইলের পাশে অবস্থিত আজিজ ডাইংয়ে কাজ করে স্বল্প বেতনে। নিজের সংসার খরচ করে বৃদ্ধার ওষুধ পানির খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তাই বৃদ্ধাকে ভিক্ষা ভিত্তিতে নামতে বাধ্য করে ছেলে ও ছেলের বউ। ১৫ দিন আগে বৃদ্ধার হাতে ও পায়ে দা দিয়ে আঘাত করে আহত করে বাসা থেকে বের করে দেয় বৃদ্ধারর ছেলের বউ। সেইদিন থেকেই বৃদ্ধা এক পা ও এক হাত নড়াচড়া করতে পারে না এবং থাকার স্থান হয় উপজেলার বারিন্দায়।

 

বৃদ্ধার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন,আমিই প্রথম থেকে বৃদ্ধাকে সেবা যতœ করে আসছি। প্রথম যেদিন বৃদ্ধা উপজেলায় আসে তখন বৃদ্ধার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ছিলো। বৃদ্ধার ডান হাত,পা ও হাত পায়ের আঙুল কাটা ছিলো। আমি ওষুধ পানি দিয়ে বৃদ্ধাকে সুস্থ করে তুলার চেষ্টা করছি। প্রথম যেদিন বৃদ্ধা উপজেলায় আসে সেদিন উপজেলার দাড়োয়ান বৃদ্ধা থেকে ৭০০টাকা নেয় এবং তারপর ঝাড়ুদার মহিলাও ৫০০টাকা নিয়েছে বৃদ্ধা আমায় বলেছে। উপজেলা থেকে কয়েকবার বৃদ্ধাকে তার বাসায় ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে যেতে বললে তারা নিতে রাজি হয় না। আমার মা নেই তাই তাকে মায়ের মত দেখতাম তার থাকার জন্য মশারি ও বিছানার ব্যবস্থা করে দেই এবং তার যত্ননেই। কিন্তু মানুষ ভাবে আমি নাকি বৃদ্ধার টাকার জন্য তাকে সেবা যত্নকরছি।

 

বৃদ্ধার সাথে কথা বলে আরো জানা যায় তার নাম রাজিয়া। আনুমানিক ৮০/৮২ বছর হবে বৃদ্ধার। বৃদ্ধা তার ছেলেকে নিয়ে অনেক দিন যাবৎ নারায়নগঞ্জ আছে। বৃদ্ধা বরিশাল থেকে এসেছে। বৃদ্ধা কিছু স্মৃতিভুষ্ট। অসুস্থ বৃদ্ধা গত ১৫ দিন যাবৎ উপজেলায় থাকছে কিন্তু উপজেলা কতৃপক্ষ বা প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোন ছেলে ও ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে আইনীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেনো? পথচারীদের প্রশ্ন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited