মহাসংকটের বেঁচে থাকার তীব্র যন্ত্রণা

Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী): কেউ দু’বেলা কিংবা একবেলা খেয়েই দিন পার করে দেয়। কাজ পেলে খাবার জোটে, না পেলে আধপেটা, ধারদেনার বোঝা বাড়িয়ে চলছে অনেকে । কী দিয়ে এ দেনা শোধ হবে জানা নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষগুলো পড়েছে মহাসংকটে। দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষের খাবার যোগাড়ের কষ্টের দিনগুলো যেন শেষ হতে চায় না। চরফ্যাশন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর পাড়ে মজিবনগর ইউনিয়নের কর্মহীন মানুষগুলো দিনের খাবার যোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে। এলাকা ঘুরে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো তাদের জীবন চালিয়ে নেয়ার কষ্টের কথা।

 

তেতুলিয়ার বুকে খেয়া পারাপারের মাঝি মোহাম্মদ আলীর যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় অপো থেকেই বোঝা যায়, এই এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের রোজগারের কষ্ট। তিনি ভোরবেলায় বসেছিলেন তেতুলিয়ার পারে। একপারে বকসীঘাট, অন্যপারে মজিবনগর ইউনিয়নের বাংলাবাজার। চার-পাঁচজন যাত্রী হলেই ছোট্ট নৌকাটি এক পার থেকে অন্যপারে নিয়ে যান মোহাম্মদ আলী। দিনভর নৌকা চালিয়ে ১৫০-২০০ কিংবা ৩০০ টাকা মেলে। এ দিয়েই কোনোমতে চালিয়ে নিতে হয় সংসার। কেবল ভোরের আলো ফুটেছে। বেড়িবাঁধের উপরে একটি দোকানের সামনে মানুষের আড্ডা। আলাপ হতেই তারা জানালেন খাবার যোগাড়ের কষ্টের কথা। কর্মহীন মানুষগুলো কেউ ছোটো ব্যবসা করে, কেউ নৌকা চালিয়ে, কেউ চিংড়ির পোনা ধরে, কেউ খেত-খামারের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।

 

এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় অনেকে ছুটেছে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে। শীত মৌসুম সামনে রেখে অনেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইটভাটার কাজে ছুটেছে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও শিকদারেরচর’র কর্মহীন মানুষেরা জানে না, দুপুরে তাদের ঘরে কী রান্না হবে। তরকারি তো দূরের কথা, একবেলার জন্য যে দেড়-দুই কেজি চাল প্রয়োজন, সেটাও ঘরে নেই। এদের দিনের রোজগার দিনেই শেষ হয়ে যায়। আর কাজ না থাকলে দোকান থেকে বাকিতে চাল নেয়া, কিংবা ধার কর্জ করে চালিয়ে নেয় একেকটি দিন। আরও কথা হলো চরমোতাহার’র নূরে আলম, জাবির হোসেন, মইনুল ইসলাম, মজিবুল্লাহ, হাবিবুর রহমান, মহিউদ্দিন, আবদুস সামাদসহ আরও অনেক শ্রমজীবির সঙ্গে। সবার একই অবস্থা।

 

এরা জানালেন, শীত মৌসুমে এলাকার মানুষের কষ্টটা আরো বেশি। একবেলা ভাত যোগাড়ের কষ্ট কতটা তীব্র এই এলাকার মানুষ তা হাড়ে হাড়ে, কষাঘাতে টের পায়। চরমনোহর, চরলিউলিন, চরমোতাহার, চরইস্টিভেন, ধলারচর, শিকদারেরচর, জনতাবাজার, বংলাবাজার এলাকারমত এরকম আরও অনেক গ্রাম। মাটির রাস্তায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই অভাবী মানুষদের অনাহার-অর্ধাহারের গল্প কানে আসে। বাইরে বেড়িবাঁধ, আর ভেতরে কষ্টে বেঁচে থাকার তীব্র যন্ত্রণা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কোটি জেলের বেকারত্বের আশংকা: ভরা মৌসুমে সমুদ্রে ৬৫দিন অবরোধের প্রতিবাদে মাঠে নামছেন জেলেরা

» শার্শায় প্রতিপক্ষের আঘাতে দম্পত্তি আহত মামলা না করার হুমকি

» সিরাজগঞ্জে ভাবীকে বিয়ে করল ছোট ভাই, বউ ফিরে পেতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

» দশমিনায় ১৫ জেলের জেল ১লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ

» গলাচিপায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৫তলাএকাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

» দশমিনা-উলানিয়া সড়ক না যেন মরণ ফাঁদ

» প্রশ্নপত্রে পর্নো তারকার নাম বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

» হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) দুনিয়ার সর্বকালের সেরা মানব : রানী মুখার্জি

» ছাত্রীদেড় প্রস্তাব দেন বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের, ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও)

» আমরা বিপদে, বাঁচান! এবার আশ্রয় চেয়ে আর্তি দুই তরুণীর

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মহাসংকটের বেঁচে থাকার তীব্র যন্ত্রণা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী): কেউ দু’বেলা কিংবা একবেলা খেয়েই দিন পার করে দেয়। কাজ পেলে খাবার জোটে, না পেলে আধপেটা, ধারদেনার বোঝা বাড়িয়ে চলছে অনেকে । কী দিয়ে এ দেনা শোধ হবে জানা নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষগুলো পড়েছে মহাসংকটে। দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষের খাবার যোগাড়ের কষ্টের দিনগুলো যেন শেষ হতে চায় না। চরফ্যাশন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর পাড়ে মজিবনগর ইউনিয়নের কর্মহীন মানুষগুলো দিনের খাবার যোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে। এলাকা ঘুরে বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো তাদের জীবন চালিয়ে নেয়ার কষ্টের কথা।

 

তেতুলিয়ার বুকে খেয়া পারাপারের মাঝি মোহাম্মদ আলীর যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় অপো থেকেই বোঝা যায়, এই এলাকায় খেটে খাওয়া মানুষের রোজগারের কষ্ট। তিনি ভোরবেলায় বসেছিলেন তেতুলিয়ার পারে। একপারে বকসীঘাট, অন্যপারে মজিবনগর ইউনিয়নের বাংলাবাজার। চার-পাঁচজন যাত্রী হলেই ছোট্ট নৌকাটি এক পার থেকে অন্যপারে নিয়ে যান মোহাম্মদ আলী। দিনভর নৌকা চালিয়ে ১৫০-২০০ কিংবা ৩০০ টাকা মেলে। এ দিয়েই কোনোমতে চালিয়ে নিতে হয় সংসার। কেবল ভোরের আলো ফুটেছে। বেড়িবাঁধের উপরে একটি দোকানের সামনে মানুষের আড্ডা। আলাপ হতেই তারা জানালেন খাবার যোগাড়ের কষ্টের কথা। কর্মহীন মানুষগুলো কেউ ছোটো ব্যবসা করে, কেউ নৌকা চালিয়ে, কেউ চিংড়ির পোনা ধরে, কেউ খেত-খামারের কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।

 

এলাকায় কোনো কাজ না থাকায় অনেকে ছুটেছে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে। শীত মৌসুম সামনে রেখে অনেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইটভাটার কাজে ছুটেছে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও শিকদারেরচর’র কর্মহীন মানুষেরা জানে না, দুপুরে তাদের ঘরে কী রান্না হবে। তরকারি তো দূরের কথা, একবেলার জন্য যে দেড়-দুই কেজি চাল প্রয়োজন, সেটাও ঘরে নেই। এদের দিনের রোজগার দিনেই শেষ হয়ে যায়। আর কাজ না থাকলে দোকান থেকে বাকিতে চাল নেয়া, কিংবা ধার কর্জ করে চালিয়ে নেয় একেকটি দিন। আরও কথা হলো চরমোতাহার’র নূরে আলম, জাবির হোসেন, মইনুল ইসলাম, মজিবুল্লাহ, হাবিবুর রহমান, মহিউদ্দিন, আবদুস সামাদসহ আরও অনেক শ্রমজীবির সঙ্গে। সবার একই অবস্থা।

 

এরা জানালেন, শীত মৌসুমে এলাকার মানুষের কষ্টটা আরো বেশি। একবেলা ভাত যোগাড়ের কষ্ট কতটা তীব্র এই এলাকার মানুষ তা হাড়ে হাড়ে, কষাঘাতে টের পায়। চরমনোহর, চরলিউলিন, চরমোতাহার, চরইস্টিভেন, ধলারচর, শিকদারেরচর, জনতাবাজার, বংলাবাজার এলাকারমত এরকম আরও অনেক গ্রাম। মাটির রাস্তায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই অভাবী মানুষদের অনাহার-অর্ধাহারের গল্প কানে আসে। বাইরে বেড়িবাঁধ, আর ভেতরে কষ্টে বেঁচে থাকার তীব্র যন্ত্রণা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited