পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই সন্তানের জননী বাঁচতে চায়

Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা : পারুল বেগম। বয়স মাত্র ৩০ বছর। বাড়ি পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার রনগোপলদি ইউনিয়নের বাজার এলাকায়। রোগটির শুরু হয় ২০১৪ সালের দিকে। প্রাথমিকভাবে উপজেলা এবং জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু টাকার অভাবে যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় এক সময় দেখা দেয় খিঁচুনিসহ নানা উপসর্গ। এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে এবং ঢাকার নিউরোসায়েন্সস হাসপাতাল চিকিৎসা করানো হয় তাকে। অপারেশন হয় পারুলের। এরপর কিছুদিনের জন্য সুস্থ হয়ে ওঠে সে। এরমধ্যে দেড় বছর আগে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় পারুল বেগম।

 

এরপর থেকে দেখা দেয় শারিরিক নানা জটিল সমস্যা। অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছলো যে, তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নাক দিয়ে অনবরত টেপের মতো পানি পড়তে শুরু করে। কখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলা কিংবা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করতে থাকেন পারুল বেগম। তার এই পাগলপ্রলপ আচণের কারণে দুই বছরের ছোট শিশু আয়াত মায়ের কাছে যেতে ভয় পান। একটি শিশু তার মায়ের কাছ থেকে ভয়ে দূরে সরে থাকাটা যে কতটা বেদনা দায়ক তা একমাত্র পারুলই জানেন। পারুলের রয়েছে ৯ বছরের মিথিলা নামে একটি কন্যা সন্তান। মায়ের কষ্ট দেখে সন্তান ও স্বামী অঝড়ে কাদতে থাকেন। স্বামী মামুন হোসেন গ্রামের বাজারে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান করেন। নিজের সামান্য সঞ্চয় এবং ধার-দেনা করে চিকিৎসা করান মামুন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে ছোট্র পরিবারটি এখন পথে বসে গেছে।

 

ঢাকার সরকারি ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের চিকিৎসক মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, ‘মেনিংগো এনসেফালাইটিস’ নামক রোগে আক্রান্ত সে। স্ত্রীর চিকিৎসায় মামুনকে শেষ সম্বল জমি বিক্রিতেও হাত দিতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়নি। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে গেলো মাসে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদি ইউনিয়নে ফিরে যান মামুন। চিকিৎসা বন্ধ থাকায় দিন যত গড়াচ্ছে পারুলের শারিরিক অবস্থার ততই অবনতি হচ্ছে। তার শরীর এখন অনেকটা প্যারালাইজড্ রোগীর মতো হয়ে পড়েছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে পারুলের মাথায় জরুরী অপারেশন করা দরকার। জরুরী অপারেশন না করা হলে তার অবস্থা বয়াবহ হতে পারে। আর দশটি মায়ের মতো পারুল বেগমও সন্তানদের জন্য বাঁচতে চান।

 

এদিকে, অসুস্থ স্ত্রী আর দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা মামুন স্ত্রীর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তশালী-হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন মামুন। পারুল বেগমের চিকিৎসায় যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি সহায়তা করতে চান তাহলে নিন্মোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। মামুন হোসেন: ইউনিয়ন/গ্রাম-পোস্টঃ রনগোপালদি,উপজেলাঃ দশমিনা, জেলা পটুয়াখালী। মামুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব নম্বরঃ ৩৩৪৬, সোনালী ব্যাংক, উলানিয়া বন্দর শাখা। বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বারঃ ০১৮২৩৮৩৪৫০৪।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বেনাপোলে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে আসামী হলেন বাড়ীওয়ালা

» বেনাপোল দিয়ে ভারতের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে

» নিউজিল্যান্ডে মুসুল্লীদের হত্যার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

» কলাপাড়ায় জাপা নেতার’কবিতা কথা বলে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

» কলাপাড়ায় বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন

» রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহতদের দুইজন নারী আনসার

» নিউজিল্যান্ডর পর এবার নেদারল্যান্ডসে হামলা, বহু হতাহতের আশঙ্কা

» নরসিংদীতে মা-মেয়ে ধর্ষণ: প্রধান আসামি গ্রেফতার

» মসজিদে ৫০ মুসল্লি নিহতের পর নিউজিল্যান্ডে ৩৫০ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

» শৈলকুপায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দুই সন্তানের জননী বাঁচতে চায়

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা : পারুল বেগম। বয়স মাত্র ৩০ বছর। বাড়ি পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার রনগোপলদি ইউনিয়নের বাজার এলাকায়। রোগটির শুরু হয় ২০১৪ সালের দিকে। প্রাথমিকভাবে উপজেলা এবং জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু টাকার অভাবে যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় এক সময় দেখা দেয় খিঁচুনিসহ নানা উপসর্গ। এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হাসপাতালে এবং ঢাকার নিউরোসায়েন্সস হাসপাতাল চিকিৎসা করানো হয় তাকে। অপারেশন হয় পারুলের। এরপর কিছুদিনের জন্য সুস্থ হয়ে ওঠে সে। এরমধ্যে দেড় বছর আগে সিজারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় পারুল বেগম।

 

এরপর থেকে দেখা দেয় শারিরিক নানা জটিল সমস্যা। অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছলো যে, তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নাক দিয়ে অনবরত টেপের মতো পানি পড়তে শুরু করে। কখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলা কিংবা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করতে থাকেন পারুল বেগম। তার এই পাগলপ্রলপ আচণের কারণে দুই বছরের ছোট শিশু আয়াত মায়ের কাছে যেতে ভয় পান। একটি শিশু তার মায়ের কাছ থেকে ভয়ে দূরে সরে থাকাটা যে কতটা বেদনা দায়ক তা একমাত্র পারুলই জানেন। পারুলের রয়েছে ৯ বছরের মিথিলা নামে একটি কন্যা সন্তান। মায়ের কষ্ট দেখে সন্তান ও স্বামী অঝড়ে কাদতে থাকেন। স্বামী মামুন হোসেন গ্রামের বাজারে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান করেন। নিজের সামান্য সঞ্চয় এবং ধার-দেনা করে চিকিৎসা করান মামুন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয় করে ছোট্র পরিবারটি এখন পথে বসে গেছে।

 

ঢাকার সরকারি ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারী বিভাগের চিকিৎসক মনসুর আহমেদ জানিয়েছেন, ‘মেনিংগো এনসেফালাইটিস’ নামক রোগে আক্রান্ত সে। স্ত্রীর চিকিৎসায় মামুনকে শেষ সম্বল জমি বিক্রিতেও হাত দিতে হয়েছে। কিন্তু তাতেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়নি। নিরুপায় হয়ে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে গেলো মাসে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদি ইউনিয়নে ফিরে যান মামুন। চিকিৎসা বন্ধ থাকায় দিন যত গড়াচ্ছে পারুলের শারিরিক অবস্থার ততই অবনতি হচ্ছে। তার শরীর এখন অনেকটা প্যারালাইজড্ রোগীর মতো হয়ে পড়েছে। ডাক্তারের ভাষ্যমতে পারুলের মাথায় জরুরী অপারেশন করা দরকার। জরুরী অপারেশন না করা হলে তার অবস্থা বয়াবহ হতে পারে। আর দশটি মায়ের মতো পারুল বেগমও সন্তানদের জন্য বাঁচতে চান।

 

এদিকে, অসুস্থ স্ত্রী আর দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিশেহারা মামুন স্ত্রীর চিকিৎসায় সমাজের বিত্তশালী-হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তা কামনা করেছেন মামুন। পারুল বেগমের চিকিৎসায় যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি সহায়তা করতে চান তাহলে নিন্মোক্ত ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। মামুন হোসেন: ইউনিয়ন/গ্রাম-পোস্টঃ রনগোপালদি,উপজেলাঃ দশমিনা, জেলা পটুয়াখালী। মামুনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব নম্বরঃ ৩৩৪৬, সোনালী ব্যাংক, উলানিয়া বন্দর শাখা। বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বারঃ ০১৮২৩৮৩৪৫০৪।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited