মৌলভীবাজারে ভেজাল মসলায় সয়লাব

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  কি খাচ্ছি আমরা ? বাজার থেকে কিনে নিচ্ছি মশলা প্যাকেট আসলে কি আছে এসব প্যাকেটে ? মশলার মত দেখতে কিন্তু যাতে মশলার কোন উপকরণ নেই এমন কিছু পণ্য। সম্প্রতি জেলা সদরের ভাইবোন  রাইছ মিলের একটি মশলার কারখানায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ভয় পেয়ে যাওয়ার মত তথ্য। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিভিন্ন সময় এসব কারখানায় অভিযান পরিচালনা করলেও কার্যকরী কোন সুফল আসছেনা। মশলা তৈরি হচ্ছে ঘাসের বীজ থেকে এবং এতে বিভিন্ন রং মিশিয়ে বানানো হচ্ছে মশলার মত দেখতে রং আর কিছুটা পচা মরিচ মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে হালকা ঝাল ভাব।  হলুদ রং দিয়ে বানানো হচ্ছে হলুদ যাতে দেয়া হচ্ছে সামান্য পরিমানের হলুদও।

 

মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ক্ষতিকর পদার্থ দিয়ে ভেজাল হলুদ-মরিচের গুঁড়া তৈরি করে আসছে। লাভের আশায় তারা প্রায় দীর্ঘ বছর ধরে মশলায় এসব ভেজাল মিশিয়ে আসছে। এসব মশলা খোলা কিংবা প্যাকেটে করে বিক্রি করা হচ্ছে জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায়। রয়েছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরাও এ তালিকায়। খোলা মশলায় ইট ও কাঠ, চালের ক্ষুধের গুঁড়া মেশানো হয়। এর ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের মশলায় ভরে গেছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলো। এসব মশলার মধ্যে মরিচের সঙ্গে ইটের গুঁড়া, হলুদে মটর ডাল, ধনিয়ায় ‘স’ মিলের কাঠের গুঁড়া ও পোস্তদানায় সুজি মেশানো হচ্ছে। বেশি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বাজারে এসব ভেজাল মশলার জোগান দিচ্ছে। অসাধু দোকানদাররাও বেশি লাভের আশায় এসব ভেজাল মশলা বেশি বিক্রি করছেন। জানা গেছে- হাটবাজারের পাশে ফুটপাতে বসে বিক্রি করা খোলা মশলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল মশলা কিনে মানুষ একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, আবার অন্যদিকে এসব খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভেজালবিরোধী কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এবং মশলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্রগুলো নির্বিঘেœ ভেজালের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান, বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্টান, কুরবানির ঈদের সময় মশলার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ উপলক্ষে ভেজাল ও নিম্নমানের মশলা উৎপাদনকারী চক্রটি বেশ আগেভাগে দোকানে দোকানে সরবরাহ দিয়েছে এসব ভেজাল মশলা। বেশ কয়েকটি ভেজাল মশলা উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা গোপন কারখানায় ভেজাল মশলা উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে হাটবাজারের মুদির দোকানসহ খোলাবাজারে সরবরাহ করে। মেশিনে ভাঙিয়ে খুব সহজেই মশলা তৈরি করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ভেজাল মশলা উৎপাদনকারীরা বাজার থেকে নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, গোলমরিচ, দারচিনি, তেজপাতা ও পোস্তদানাসহ বিভিন্ন মশলা কিনে কারখানায় নানা ধরনের ভেজাল উপাদান মিশিয়ে প্যাকেট করে ও খোলা অবস্থায় বাজারজাত করে আসছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও প্রকাশ: তদন্ত শুরু, বেপরোয়া এসআই মিজান ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা

» গাইবান্ধায় ধান ক্ষেতে উদ্ধার হওয়া নবজাতক পেলো বাবা-মা

» কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান

» বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো ধর্ষক পথে গ্রেফতার

» চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহ

» শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা: সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

» নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা, সেই মনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

» ব্রুনাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৮

» দশমিনায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ভেজাল মসলায় সয়লাব

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  কি খাচ্ছি আমরা ? বাজার থেকে কিনে নিচ্ছি মশলা প্যাকেট আসলে কি আছে এসব প্যাকেটে ? মশলার মত দেখতে কিন্তু যাতে মশলার কোন উপকরণ নেই এমন কিছু পণ্য। সম্প্রতি জেলা সদরের ভাইবোন  রাইছ মিলের একটি মশলার কারখানায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে ভয় পেয়ে যাওয়ার মত তথ্য। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিভিন্ন সময় এসব কারখানায় অভিযান পরিচালনা করলেও কার্যকরী কোন সুফল আসছেনা। মশলা তৈরি হচ্ছে ঘাসের বীজ থেকে এবং এতে বিভিন্ন রং মিশিয়ে বানানো হচ্ছে মশলার মত দেখতে রং আর কিছুটা পচা মরিচ মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে হালকা ঝাল ভাব।  হলুদ রং দিয়ে বানানো হচ্ছে হলুদ যাতে দেয়া হচ্ছে সামান্য পরিমানের হলুদও।

 

মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ক্ষতিকর পদার্থ দিয়ে ভেজাল হলুদ-মরিচের গুঁড়া তৈরি করে আসছে। লাভের আশায় তারা প্রায় দীর্ঘ বছর ধরে মশলায় এসব ভেজাল মিশিয়ে আসছে। এসব মশলা খোলা কিংবা প্যাকেটে করে বিক্রি করা হচ্ছে জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায়। রয়েছে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরাও এ তালিকায়। খোলা মশলায় ইট ও কাঠ, চালের ক্ষুধের গুঁড়া মেশানো হয়। এর ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের মশলায় ভরে গেছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলো। এসব মশলার মধ্যে মরিচের সঙ্গে ইটের গুঁড়া, হলুদে মটর ডাল, ধনিয়ায় ‘স’ মিলের কাঠের গুঁড়া ও পোস্তদানায় সুজি মেশানো হচ্ছে। বেশি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বাজারে এসব ভেজাল মশলার জোগান দিচ্ছে। অসাধু দোকানদাররাও বেশি লাভের আশায় এসব ভেজাল মশলা বেশি বিক্রি করছেন। জানা গেছে- হাটবাজারের পাশে ফুটপাতে বসে বিক্রি করা খোলা মশলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল মশলা কিনে মানুষ একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, আবার অন্যদিকে এসব খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে।

 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভেজালবিরোধী কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এবং মশলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় অসাধু চক্রগুলো নির্বিঘেœ ভেজালের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান, বিবাহ, ধর্মীয় অনুষ্টান, কুরবানির ঈদের সময় মশলার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ উপলক্ষে ভেজাল ও নিম্নমানের মশলা উৎপাদনকারী চক্রটি বেশ আগেভাগে দোকানে দোকানে সরবরাহ দিয়েছে এসব ভেজাল মশলা। বেশ কয়েকটি ভেজাল মশলা উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা গোপন কারখানায় ভেজাল মশলা উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে হাটবাজারের মুদির দোকানসহ খোলাবাজারে সরবরাহ করে। মেশিনে ভাঙিয়ে খুব সহজেই মশলা তৈরি করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ভেজাল মশলা উৎপাদনকারীরা বাজার থেকে নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, গোলমরিচ, দারচিনি, তেজপাতা ও পোস্তদানাসহ বিভিন্ন মশলা কিনে কারখানায় নানা ধরনের ভেজাল উপাদান মিশিয়ে প্যাকেট করে ও খোলা অবস্থায় বাজারজাত করে আসছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited