ক্রমাগত দরপতনে ঝিনাইদহে বাঁধাকপি এখন গোখাদ্য!

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ক্রমাগত দরপতনে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন ঝিনাইদহের বাঁধা কপিচাষীরা। প্রতি কেজি ২-৩ টাকায় বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে তারা এখন আর বিক্রি না করে জমির অর্ধেক কপিই গরুকে খাওয়াচ্ছেন। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর ঝিনাইদহে বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ মোট সবজি আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে দারুণ। শুরুর দিকে এবার বাঁধাকপির দামও ভালো ছিল। কিন্তু এখন তা বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র দামে। ক্ষেত থেকে দুই-আড়াই কেজির প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ২-৩ টাকা দরে।

 

ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলার পাঁচটিকারি গ্রামের কৃষক খবির বিশ্বাস বলেন, এবার তিনি বাঁধাকপি চাষ করেছেন ১২ কাঠা জমিতে। যশোর থেকে প্রতিটি চারা কিনেছেন ১ টাকা দরে। ক্ষেতে চার হাজার কপি হয়েছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রতিটি কপি উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭-৮ টাকা। কিন্তু এখন যে দামে কপি বিক্রি হচ্ছে, তাতে লোকসান নিশ্চিত। একই গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, দুই সপ্তাহ আগে ১২ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করে দুই হাজার কপি ঢাকা নিয়ে যান, যা তিনি বিক্রি করেন ২০ হাজার টাকায়। এতে তার কোনো লাভ থাকেনি। বাধ্য হয়ে ক্ষেতের কপি এখন গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

 

একই দশা জেলার বাকি উপজেলা গুলোতেও। ভালো ফলনেও বাঁধা কপিতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। কালীগঞ্জের কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, ভালো ফলনের পরও লোকসান খুবই কষ্টকর। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জিএম আবদুর রউফ বলেন, সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কিংবা কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে কৃষকরা এ লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কুয়াকাটায় যথাযথ মর্যাদায় মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে

» দশমিনায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

» দশমিনায় প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে ভাষা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়নি

» যশোরের বেনাপোলে ফেন্সিডিলসহ মহিলা ব্যবসায়ী আটক

» আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার মিলন মেলা

» বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভাষা শহীদদেও প্রতি শ্রদ্ধা

» বান্দরবানের রুমায় বিষ পানে পাড়া প্রধানের আত্মহত্যা

» গলাচিপায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালিত

» পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতে পতাকা বিক্রেতা মো.গিয়াস উদ্দিন

» আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও আলোচনা সভা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ক্রমাগত দরপতনে ঝিনাইদহে বাঁধাকপি এখন গোখাদ্য!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ: ক্রমাগত দরপতনে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন ঝিনাইদহের বাঁধা কপিচাষীরা। প্রতি কেজি ২-৩ টাকায় বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে তারা এখন আর বিক্রি না করে জমির অর্ধেক কপিই গরুকে খাওয়াচ্ছেন। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর ঝিনাইদহে বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ মোট সবজি আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে দারুণ। শুরুর দিকে এবার বাঁধাকপির দামও ভালো ছিল। কিন্তু এখন তা বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র দামে। ক্ষেত থেকে দুই-আড়াই কেজির প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ২-৩ টাকা দরে।

 

ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলার পাঁচটিকারি গ্রামের কৃষক খবির বিশ্বাস বলেন, এবার তিনি বাঁধাকপি চাষ করেছেন ১২ কাঠা জমিতে। যশোর থেকে প্রতিটি চারা কিনেছেন ১ টাকা দরে। ক্ষেতে চার হাজার কপি হয়েছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রতিটি কপি উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭-৮ টাকা। কিন্তু এখন যে দামে কপি বিক্রি হচ্ছে, তাতে লোকসান নিশ্চিত। একই গ্রামের কৃষক জমির উদ্দিন বলেন, দুই সপ্তাহ আগে ১২ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করে দুই হাজার কপি ঢাকা নিয়ে যান, যা তিনি বিক্রি করেন ২০ হাজার টাকায়। এতে তার কোনো লাভ থাকেনি। বাধ্য হয়ে ক্ষেতের কপি এখন গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

 

একই দশা জেলার বাকি উপজেলা গুলোতেও। ভালো ফলনেও বাঁধা কপিতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। কালীগঞ্জের কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, ভালো ফলনের পরও লোকসান খুবই কষ্টকর। ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জিএম আবদুর রউফ বলেন, সবজি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কিংবা কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে কৃষকরা এ লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited