সুদে ধার দেনার দায়ে সন্তান বিক্রি করতে চান এক বাবা

এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করতে এখন সন্তান বিক্রির কথা ভাবছেন মো. আল আমিন নামে এক বাবা। ঘটনাটি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া গ্রামের। ওই গ্রামের মো. মজনু মিয়ার বড় ছেলে মো. আল আমিন ২০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য নিজের দুই সন্তানের যেকোনো একজনকে বিক্রি করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয়রা জানান, আল আমিন আগে জাহাজে কাজ করতেন। গত ৪ বছর আগে তিনি ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি কীটনাশটের দোকান দেন। দোকানটি ভালোই চলছিল। এছাড়াও তিনি জমি বন্ধক রেখে ধান ও সবজির চাষ করছেন।

 

আল আমিন বলেন, হঠাৎ ২০১৭ সালের শেষ দিকে ধান ও সবজির খেতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে দোকানে অনেক বাকি দেয়ায় লোকসান হয়। পরে নিরুপায় হয়ে এনজিও থেকে দুই নামে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল উঠাই ও জমিতে নতুন করে আবাদ শুরু করার জন্য স্থানীয় একজনের কাছ থেকে সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিই। এভাবে তিন মাস পার হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে এনজিওর কিস্তির টাকা ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে কষ্ট হলে আবারও স্থানীয় আরেকজনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সুদে ধার নিই। এরইমধ্যে দোকানের মালামালে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পাওনা হয়ে যায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে দাাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। এখন দোকানে মালামাল ও খেতে ফসলও নেই।

 

আমার সম্পদ বলতে ৪ শতাংশ জমির উপর একটি ঘর রয়েছে। তারও মালিক আমরা তিন ভাই ও চার বোন। তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী বাধ্য হয়ে আমাদের দুই ছেলে সিয়াম (৫) ও সিহাবকে (২) বিক্রি করে দেনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীর এখন অনেক টাকা দেনা রয়েছে। প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে লাগবে। নিরুপায় হয়ে আমরা সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানি না। তবে ওই ব্যক্তি অফিসে এলে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাগেরহাটে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ

» যশোরের শার্শায় নবজাতক চুরি হওয়ার ৮ ঘন্টা পর উদ্ধার,মহিলা আটক

» এক নিষ্ঠুর পিতা মনিন্দ্র দাস মৌলভীবাজারে কন্যা শিশুকে নিয়ে নিরুপায় মা

» আগৈলঝাড়ায় মাদক ব্যবসায়ীসহ গ্রেফতার ২

» আগৈলঝাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সরকারী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

» ভাগ্যবান লোকদের আল্লাহ, নেয়ামত হিসাবে উপহার দেন কন্যা সন্তান

» মৃত্যুশয্যায় বৃদ্ধা মা, পাশে নেই বিসিএস ক্যাডার-বিত্তবান সন্তানেরা

» পদ্মা সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান

» বুলবুলকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গার্ড অব অনার’, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

» সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুদে ধার দেনার দায়ে সন্তান বিক্রি করতে চান এক বাবা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকা পরিশোধ করতে এখন সন্তান বিক্রির কথা ভাবছেন মো. আল আমিন নামে এক বাবা। ঘটনাটি ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ভেদুরিয়া গ্রামের। ওই গ্রামের মো. মজনু মিয়ার বড় ছেলে মো. আল আমিন ২০ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য নিজের দুই সন্তানের যেকোনো একজনকে বিক্রি করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয়রা জানান, আল আমিন আগে জাহাজে কাজ করতেন। গত ৪ বছর আগে তিনি ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি কীটনাশটের দোকান দেন। দোকানটি ভালোই চলছিল। এছাড়াও তিনি জমি বন্ধক রেখে ধান ও সবজির চাষ করছেন।

 

আল আমিন বলেন, হঠাৎ ২০১৭ সালের শেষ দিকে ধান ও সবজির খেতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে দোকানে অনেক বাকি দেয়ায় লোকসান হয়। পরে নিরুপায় হয়ে এনজিও থেকে দুই নামে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল উঠাই ও জমিতে নতুন করে আবাদ শুরু করার জন্য স্থানীয় একজনের কাছ থেকে সুদে ২ লাখ টাকা ধার নিই। এভাবে তিন মাস পার হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে এনজিওর কিস্তির টাকা ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে কষ্ট হলে আবারও স্থানীয় আরেকজনের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা সুদে ধার নিই। এরইমধ্যে দোকানের মালামালে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পাওনা হয়ে যায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে এনজিও ও স্থানীয়দের কাছ থেকে সুদে ধার নেয়া টাকার পরিমাণ বেড়ে দাাঁড়ায় ২০ লাখ টাকা। এখন দোকানে মালামাল ও খেতে ফসলও নেই।

 

আমার সম্পদ বলতে ৪ শতাংশ জমির উপর একটি ঘর রয়েছে। তারও মালিক আমরা তিন ভাই ও চার বোন। তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী বাধ্য হয়ে আমাদের দুই ছেলে সিয়াম (৫) ও সিহাবকে (২) বিক্রি করে দেনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, আমার স্বামীর এখন অনেক টাকা দেনা রয়েছে। প্রতিমাসে ৬০ হাজার টাকা এনজিওর কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধ করতে লাগবে। নিরুপায় হয়ে আমরা সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানি না। তবে ওই ব্যক্তি অফিসে এলে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited