একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিকের বিদায়: মামুনুর রশীদ

Spread the love

নির্লোভ-নিরহঙ্কার সাদা মনের মানুষ, জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন তিনি ও তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বারবার দলের দুঃসময়ের ঝান্ডা বহনকারী হিসেবে সুপরিচিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সৈয়দ আশরাফ ছিলেন একাত্তরের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ছিল বেশ সুপ্রসারিত। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রক্ত পিপাসুদের রক্তের পিপাসায় হারাতে হয়েছিল জাতীয় চার নেতাকেও। ৩ নভেম্বর পিতার মৃত্যুর পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন।লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনস্থ যুবলীগের সদস্য ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ফেডারেশন অব বাংলাদেশি ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (এফবিওয়াইইউ) শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আশরাফুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দু’বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সপ্তম ও অষ্টম, কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল গ্রেফতার হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শীলা ঠাকুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন এবং ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ দম্পতির মেয়ে রীমা ঠাকুর লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।

 

নির্লোভ এই মানুষটি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুক আজীবন। আমরা মহান মানুষটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আশরাফ বিজয়ী হয়ে ফিরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেয়ার আগে বলেছিলেন, যতদিন সৈয়দ আশরাফ রয়েছে ততদিন ওই আসনে আমি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেব না। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তিনি শপথ নিতে পারেননি। সৈয়দ আশরাফ এখন আমাদের অনুভূতি আর অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে। ভালো থাকুন নেতা।

 

মামুনুর রশীদ : সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» শিক্ষার্থীদের ফাঁসাতে বাসে পরিবহন শ্রমিকের আগুন

» অবশেষে বিয়ে করছেন পর্নো তারকা মিয়া খলিফা!

» রাজধানীতে আবারো ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে সড়কে শিক্ষার্থীরা

» রাজধানীর বসুন্ধরা বাসে আগুন দেওয়ার সময় চালককে হাতেনাতে ধরলেন শিক্ষার্থীরা!

» বিয়ের সময়ে লম্বা স্বামী আর খাটো স্ত্রীর সংসারই সবচেয়ে সুখের!

» বেনাপোলে “দৈনিক গনমানুষের আওয়াজ” পত্রিকার ৩য় বর্ষ উদযাপন

» জন্ম নেওয়ার পরপরই নবজাতককে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখার কারণ জানালেন জাবি ছাত্রী

» বেনাপোল আইসিপি বিজিবির অভিযান ১০ হাজার ইউএস ডলার সহ আটক-১

» নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ‘সেজদা’ দিলেন ২ অমুসলিম ফুটবলার

» রাজধানীর নর্দ্দায় বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিকের বিদায়: মামুনুর রশীদ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

নির্লোভ-নিরহঙ্কার সাদা মনের মানুষ, জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর, জাতীয় চার নেতার একজন সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন তিনি ও তার বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বারবার দলের দুঃসময়ের ঝান্ডা বহনকারী হিসেবে সুপরিচিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ছিলেন মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সৈয়দ আশরাফ ছিলেন একাত্তরের গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ছিল বেশ সুপ্রসারিত। বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রক্ত পিপাসুদের রক্তের পিপাসায় হারাতে হয়েছিল জাতীয় চার নেতাকেও। ৩ নভেম্বর পিতার মৃত্যুর পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন।লন্ডনে বসবাসকালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি লন্ডনস্থ যুবলীগের সদস্য ছিলেন। সৈয়দ আশরাফ ফেডারেশন অব বাংলাদেশি ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (এফবিওয়াইইউ) শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আশরাফুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দু’বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সপ্তম ও অষ্টম, কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

২০১৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল গ্রেফতার হওয়ার পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শীলা ঠাকুরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্ত্রী শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন এবং ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ দম্পতির মেয়ে রীমা ঠাকুর লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।

 

নির্লোভ এই মানুষটি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুক আজীবন। আমরা মহান মানুষটির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আশরাফ বিজয়ী হয়ে ফিরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেয়ার আগে বলেছিলেন, যতদিন সৈয়দ আশরাফ রয়েছে ততদিন ওই আসনে আমি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেব না। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তিনি শপথ নিতে পারেননি। সৈয়দ আশরাফ এখন আমাদের অনুভূতি আর অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে। ভালো থাকুন নেতা।

 

মামুনুর রশীদ : সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited