বঙ্গোসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চরে ভীড় বাড়ছে পর্যটকদের

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ০৪ জানুয়ারী।। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চরে ভীড় বাড়ছে পর্যটকদের। গভীর সমুদ্রে এক চিলতে ভূ-খন্ড। চারিদিকে অথৈ জলরাশি। অসংখ্য পাখির অবাধ বিচরন। আর বালিয়াড়িতে অসংখ্য লাল কাঁকড়ার নৃত্য, যা দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে অবিরত। কুয়াকাটার গঙ্গামতী সৈতক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোনে সাগরে মাঝে জেগে উঠেছে এমনই একটি চর। তবে স্থানীয় জেলেরা এই চরকে হাইরের চর নামেই চেনে। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে একদল ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক এ চরকে আবার নতুন করে আবিস্কার করে। যেহেতু তারা বিজয়ের মাসে এই চরের সন্ধান পান তাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এর নাম দিয়েছে চর বিজয়। মনোমুগ্ধকর বিশাল এ চরটি দিনে দিনে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেছে।

স্থানীয় ও জেলেদের বর্ণনা মতে, প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে ওঠা বিশাল একখন্ড ভূমির নাম চর বিজয়। দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৩ কিলোমিটার। তবে জোয়ারের সময় দৈর্ঘ্যে ৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ১ কিলোমিটার চর অবশিষ্ট থাকে। আর বর্ষাকালে পুরো চরটি সাগরের জলরাশিতে ডুবে থাকলেও শীত মৌসুমে ফের উঁকি দেয়। ছুটে যায় জেলেরা। মাছ শিকার ও শুঁটকি করার জন্য এখানে তিন মাস থাকেন। কুয়াকাটা টুরিস্ট বোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর জানান, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বরে ফটো সাংবাদিক মো. আরিফুর রহমান, হোসাইন আমির, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মাও: মাঈনুল ইসলাম মান্নান ও ঢাকার দুই পর্যটকসহ মোট ১৩ জন সাগরে ঘুরতে যায়। এসময় দৃষ্টি নন্দন এ চরের সন্ধান মেলে। বিজয়ের মাসে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় এর নামকরন করা হয় চর বিজয়। পরবর্তীতে পর্যটকদের দেয়া নামকেই আনুষ্ঠনিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমনের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, কুয়কাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, পর্যটন ব্যবসায়ীরা চর বিজয় পরিদর্শন করে। এসময় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান সৃজনে এসময় প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দরী গাছের চারা রোপন করা হয়। পর্যটক জহিরুল ইসলাম বলেন, গভীর সমুদ্রে এমন নয়নাভিরাম একটি চর আছে, সেটা কল্পনাও করিনি। কী যে ভালো লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো.হোসাইন আমীর জানান, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর অভ্যান্তরে অবস্থিত চর বিজয় জেলেদের কাছে হাইরের চর নামে পরিচিত। সৈকত থেকে টুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছানো যায় এ চরে। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি হাটু পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধু-ধু বালু নিয়ে জেগে উঠে।

 

ফটো সাংবাদিক মো.আরিফুর রহমান জানান, ওই চরে তাবু খাটিয়ে এক রাত থেকেছি। রাত কাটানোর অনুভূতি ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। আশা করি সঠিক তদারকিতে চর বিজয়ে তৈরি হবে একটি বাসযোগ্য নতুন সমভূমি হিসাবে। যাকে ঘিরে কুয়কাটার পর্যটন শিল্পে তৈরি হবে আরেক ভিন্ন মাত্রা। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, আমিও এই চরে গিয়েছি। সবাই মিলে এই চরের নামকরণ করা হয় চর বিজয়। এ ছাড়া ওই দিনই অতিথিরা সবাই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছি। কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম জানান,বঙ্গোপসাগরের গভীরে নতুন চরটিতে অচিরেই বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মৃত্যুশয্যায় বৃদ্ধা মা, পাশে নেই বিসিএস ক্যাডার-বিত্তবান সন্তানেরা

» পদ্মা সেতুর ১ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান

» বুলবুলকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গার্ড অব অনার’, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

» সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নিয়ে বিদিশার আবেগঘন স্ট্যাটাস

» সেই আলোচিত মোটর সাইকেল চালক শাহনাজের দুই মেয়েকে বৃত্তি দিচ্ছে উবার

» বেনাপোলে ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৬জনসহ নিহত ৭

» শহীদ মিনারে আবারো ৩ ধুমপায়ীকে জরিমানা

» ঝিনাইদহে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

» কালীগঞ্জে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সাগর চার জমজ সন্তানকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বাবা-মা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চরে ভীড় বাড়ছে পর্যটকদের

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, ০৪ জানুয়ারী।। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চরে ভীড় বাড়ছে পর্যটকদের। গভীর সমুদ্রে এক চিলতে ভূ-খন্ড। চারিদিকে অথৈ জলরাশি। অসংখ্য পাখির অবাধ বিচরন। আর বালিয়াড়িতে অসংখ্য লাল কাঁকড়ার নৃত্য, যা দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে অবিরত। কুয়াকাটার গঙ্গামতী সৈতক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোনে সাগরে মাঝে জেগে উঠেছে এমনই একটি চর। তবে স্থানীয় জেলেরা এই চরকে হাইরের চর নামেই চেনে। তবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে একদল ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক এ চরকে আবার নতুন করে আবিস্কার করে। যেহেতু তারা বিজয়ের মাসে এই চরের সন্ধান পান তাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এর নাম দিয়েছে চর বিজয়। মনোমুগ্ধকর বিশাল এ চরটি দিনে দিনে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেছে।

স্থানীয় ও জেলেদের বর্ণনা মতে, প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে ওঠা বিশাল একখন্ড ভূমির নাম চর বিজয়। দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার ও প্রস্থে ৩ কিলোমিটার। তবে জোয়ারের সময় দৈর্ঘ্যে ৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ১ কিলোমিটার চর অবশিষ্ট থাকে। আর বর্ষাকালে পুরো চরটি সাগরের জলরাশিতে ডুবে থাকলেও শীত মৌসুমে ফের উঁকি দেয়। ছুটে যায় জেলেরা। মাছ শিকার ও শুঁটকি করার জন্য এখানে তিন মাস থাকেন। কুয়াকাটা টুরিস্ট বোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর জানান, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বরে ফটো সাংবাদিক মো. আরিফুর রহমান, হোসাইন আমির, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মাও: মাঈনুল ইসলাম মান্নান ও ঢাকার দুই পর্যটকসহ মোট ১৩ জন সাগরে ঘুরতে যায়। এসময় দৃষ্টি নন্দন এ চরের সন্ধান মেলে। বিজয়ের মাসে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় এর নামকরন করা হয় চর বিজয়। পরবর্তীতে পর্যটকদের দেয়া নামকেই আনুষ্ঠনিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমনের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, কুয়কাটা পৌর প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, পর্যটন ব্যবসায়ীরা চর বিজয় পরিদর্শন করে। এসময় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান সৃজনে এসময় প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দরী গাছের চারা রোপন করা হয়। পর্যটক জহিরুল ইসলাম বলেন, গভীর সমুদ্রে এমন নয়নাভিরাম একটি চর আছে, সেটা কল্পনাও করিনি। কী যে ভালো লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো.হোসাইন আমীর জানান, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগর অভ্যান্তরে অবস্থিত চর বিজয় জেলেদের কাছে হাইরের চর নামে পরিচিত। সৈকত থেকে টুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছানো যায় এ চরে। বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি হাটু পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধু-ধু বালু নিয়ে জেগে উঠে।

 

ফটো সাংবাদিক মো.আরিফুর রহমান জানান, ওই চরে তাবু খাটিয়ে এক রাত থেকেছি। রাত কাটানোর অনুভূতি ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। আশা করি সঠিক তদারকিতে চর বিজয়ে তৈরি হবে একটি বাসযোগ্য নতুন সমভূমি হিসাবে। যাকে ঘিরে কুয়কাটার পর্যটন শিল্পে তৈরি হবে আরেক ভিন্ন মাত্রা। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, আমিও এই চরে গিয়েছি। সবাই মিলে এই চরের নামকরণ করা হয় চর বিজয়। এ ছাড়া ওই দিনই অতিথিরা সবাই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চরে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছি। কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম জানান,বঙ্গোপসাগরের গভীরে নতুন চরটিতে অচিরেই বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited