নৈস্বর্গিক শোভামণ্ডিত ও পাখির কলতানে মুখোরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Spread the love

সাগর কর্মকার, জাবি প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা। সবুজ গাছপালা আর লতাপাতায় ঘেরা ৭০০ একর ভূমি। এর সৌন্দর্য আরো বহুগুনে বেড়ে যায় যখন শীত আসে। প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলে ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে পাখির ঠোঁটের ডগায়।নৈস্বর্গিক শোভামণ্ডিত ও  পাখির কলতানে মুখোরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহনীয় প্রকৃতির সবুজ ক্যাম্পাস। পাখির কিচির-মিচির আওয়াজে ঘুম ভাঙে সবার, বলা চলে শীতের সময়ে অতিথি পাখির সাথে বসবাসের দূর্লভ সুযোগ মেলে ক্যাম্পাসবাসীর।দূরদিগন্ত থেকে উড়ে আসে অনেক পরিযায়ী পাখি। হেমন্তের পাকা ধানের সুবাস শেষ হলেই উত্তরের হিমেল বাতাসে ভর করে ওরা ভিড় জমায় আমাদের দেশে। এসব পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল দূরের পথ উড়ে আমাদের দেশে আসে তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচার জন্য।

বাংলাদেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে তার মধ্যে জাবি ক্যাম্পাস অন্যতম। অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আর শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরের মতো এবারও অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে এ ক্যাম্পাসে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙে অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে। লেকজুড়ে হাজার হাজার লাল,নীল শাপলার মাঝে পাখিদের ওড়াউড়িতে চোখ জুড়িয়ে যায় ঘুরতে আসা পাখি প্রেমীদের। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে অতিথি পাখিরা। আবার মার্চের শেষদিকে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। বর্তমানে এ ক্যাম্পাসে ১৯৫ প্রজাতির পাখি আছে। যার মধ্যে ১২৬টি প্রজাতি দেশীয় এবং ৬৯টি অতিথি পাখি। অতিথি পাখিদের মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, কোম্বডাক, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি ও পাতারী অন্যতম। এছাড়া মানিক জোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখি।আর এদের আগমন হয় দূর সাইবেরিযা, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, হিমালয়ের পাদদেশ, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে।

আসতে শুরু করে নভেম্বর মাসে এবং এপ্রিল পর্যন্ত থাকে। এই অল্পদিনেই এরা হয়ে যায় আমাদের বন্ধু। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ওই পাখিরা। জাবিতে আসা পাখির মধ্যে অধিকাংশই জলচর ও হাঁস-প্রজাতি। বৃক্ষচারী পাখিও আছে, তবে সংখ্যা কম। জীবজগতের মধ্যে পাখিরাই সর্বাধিক পরিযায়ী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় প্রায় ১৫টি লেকের মধ্যে পরিবহন চত্ত্বর, রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও বিশ্ববিদ্যালয়  সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকেই অতিথি পাখির সমাগম ঘটে সবচেয়ে বেশি।বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে খাবার ও পাখি বসবাসের পরিবেশ পাখিদের অনূকুলে থাকায় পাখি বেশি এসেছে।শহরের ব্যস্তময় যান্ত্রিক জীবন আর ইট পাথরে ঘেরা ধুলাবালি থেকে হাফ ছেড়ে বাচঁতে ইতিমধ্যে অসংখ্য দর্শণার্থী ভিড় করছে ক্যাম্পাসে।

 

অতিথি পাখির আগমন যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্যে প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের লেকগুলো প্রশাসনিকভাবে সংরক্ষিত ঘোষনা করা হয়েছে। বেশ কিছু লেক আর এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। লেকগুলোতে মাছ ধরাও নিষিদ্ধ। ক্যাম্পাসে প্রতি বছর পাখি মেলার আয়োজন করা হয় যেখানে বিচিত্র প্রজাতির হরেক রকমের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি দেখার সবচেয়ে ভাল সময় হল শীতের সকাল ও বিকাল। বিকালে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেশি থাকে। অনেক আলোকচিত্রী ও এখানে আসেন। ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। যেমন সংরক্ষিত ও অভয়ারণ্য ঘোষিত এলাকায় গাড়ির হর্ণ না বাজানো, গোলমাল না করা, শিস না বাজানো, ঢিল না ছোঁড়া সর্বোপরি পাখিদের বিরক্তি ও ভীতির কারণ হয় এমন কিছু না করা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বঙ্গোপসাগরে ইলিশ মৌসুমে অবরোধ বাতিলের দাবিতে মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন ও সমাবেশ

» যশোরের শার্শায় সড়ক দুর্ঘটনায় চটপটি বিক্রেতা নিহত

» মাদ্রাসার টাকা যেত প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে

» ঝিনাইদহে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী আ’লীগ কর্মীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

» নওগাঁয় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে পান্তা-ইলিশ উৎসব

» গ্রাম আদালত বিষয়ক বাৎসরিক রিভিউ সভা অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে

» কোটি জেলের বেকারত্বের আশংকা: ভরা মৌসুমে সমুদ্রে ৬৫দিন অবরোধের প্রতিবাদে মাঠে নামছেন জেলেরা

» শার্শায় প্রতিপক্ষের আঘাতে দম্পত্তি আহত মামলা না করার হুমকি

» সিরাজগঞ্জে ভাবীকে বিয়ে করল ছোট ভাই, বউ ফিরে পেতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

» দশমিনায় ১৫ জেলের জেল ১লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নৈস্বর্গিক শোভামণ্ডিত ও পাখির কলতানে মুখোরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সাগর কর্মকার, জাবি প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা। সবুজ গাছপালা আর লতাপাতায় ঘেরা ৭০০ একর ভূমি। এর সৌন্দর্য আরো বহুগুনে বেড়ে যায় যখন শীত আসে। প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হলে ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে পাখির ঠোঁটের ডগায়।নৈস্বর্গিক শোভামণ্ডিত ও  পাখির কলতানে মুখোরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহনীয় প্রকৃতির সবুজ ক্যাম্পাস। পাখির কিচির-মিচির আওয়াজে ঘুম ভাঙে সবার, বলা চলে শীতের সময়ে অতিথি পাখির সাথে বসবাসের দূর্লভ সুযোগ মেলে ক্যাম্পাসবাসীর।দূরদিগন্ত থেকে উড়ে আসে অনেক পরিযায়ী পাখি। হেমন্তের পাকা ধানের সুবাস শেষ হলেই উত্তরের হিমেল বাতাসে ভর করে ওরা ভিড় জমায় আমাদের দেশে। এসব পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল দূরের পথ উড়ে আমাদের দেশে আসে তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচার জন্য।

বাংলাদেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে তার মধ্যে জাবি ক্যাম্পাস অন্যতম। অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আর শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরের মতো এবারও অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে এ ক্যাম্পাসে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙে অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে। লেকজুড়ে হাজার হাজার লাল,নীল শাপলার মাঝে পাখিদের ওড়াউড়িতে চোখ জুড়িয়ে যায় ঘুরতে আসা পাখি প্রেমীদের। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে অতিথি পাখিরা। আবার মার্চের শেষদিকে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। বর্তমানে এ ক্যাম্পাসে ১৯৫ প্রজাতির পাখি আছে। যার মধ্যে ১২৬টি প্রজাতি দেশীয় এবং ৬৯টি অতিথি পাখি। অতিথি পাখিদের মধ্যে সরালি, পচার্ড, ফ্লাইফেচার, কোম্বডাক, গার্গেনী, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি ও পাতারী অন্যতম। এছাড়া মানিক জোড়, কলাই, ছোট নগ, জলপিপি, নাকতা, খঞ্জনা, চিতাটুপি, লাল গুড়গুটি প্রভৃতি পাখি।আর এদের আগমন হয় দূর সাইবেরিযা, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, হিমালয়ের পাদদেশ, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে।

আসতে শুরু করে নভেম্বর মাসে এবং এপ্রিল পর্যন্ত থাকে। এই অল্পদিনেই এরা হয়ে যায় আমাদের বন্ধু। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ওই পাখিরা। জাবিতে আসা পাখির মধ্যে অধিকাংশই জলচর ও হাঁস-প্রজাতি। বৃক্ষচারী পাখিও আছে, তবে সংখ্যা কম। জীবজগতের মধ্যে পাখিরাই সর্বাধিক পরিযায়ী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় প্রায় ১৫টি লেকের মধ্যে পরিবহন চত্ত্বর, রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক ও বিশ্ববিদ্যালয়  সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকেই অতিথি পাখির সমাগম ঘটে সবচেয়ে বেশি।বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশের লেকে খাবার ও পাখি বসবাসের পরিবেশ পাখিদের অনূকুলে থাকায় পাখি বেশি এসেছে।শহরের ব্যস্তময় যান্ত্রিক জীবন আর ইট পাথরে ঘেরা ধুলাবালি থেকে হাফ ছেড়ে বাচঁতে ইতিমধ্যে অসংখ্য দর্শণার্থী ভিড় করছে ক্যাম্পাসে।

 

অতিথি পাখির আগমন যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্যে প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের লেকগুলো প্রশাসনিকভাবে সংরক্ষিত ঘোষনা করা হয়েছে। বেশ কিছু লেক আর এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। লেকগুলোতে মাছ ধরাও নিষিদ্ধ। ক্যাম্পাসে প্রতি বছর পাখি মেলার আয়োজন করা হয় যেখানে বিচিত্র প্রজাতির হরেক রকমের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি দেখার সবচেয়ে ভাল সময় হল শীতের সকাল ও বিকাল। বিকালে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেশি থাকে। অনেক আলোকচিত্রী ও এখানে আসেন। ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। যেমন সংরক্ষিত ও অভয়ারণ্য ঘোষিত এলাকায় গাড়ির হর্ণ না বাজানো, গোলমাল না করা, শিস না বাজানো, ঢিল না ছোঁড়া সর্বোপরি পাখিদের বিরক্তি ও ভীতির কারণ হয় এমন কিছু না করা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited