ক্ষেত জুড়ে উকি দিচ্ছে সোনালী ধানের শীষ: মাঠে ঘ্রাণ বইছে পাকা ধানের উপকূলের কৃষক পরিবার প্রস্ততি নিচ্ছে নবান্নের

Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৬ নভেম্বর।। নতুন ধানের সঙ্গে মিশে আছে উপকূলের কৃষকের স্বপ্ন। ক্ষেত জুড়ে উকি দিচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের ঘ্রাণ বইছে। ফসল ঘরে তোলার আসায় প্রতিটি কৃষক পরিবারের চোখে মুখে লেগে আছে সোনালী স্বপ্ন পূরনের ছাপ। ক’দিন পরেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকরা ক্ষেতের স্বপ্নের সোনালী ধান কাটা শুরু করবে। অধিকাংশ কৃষক পরিবার আগাম নবান্ন উৎসবের প্রস্ততিও নিয়েছে। তবে বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠবে এমন আশায় দিন গুনছেন হাজারো কৃষক।

 

কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার আয়তন ৪৯২১০২ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে পৌরসভা ২টি, ইউনিয়ন ১২ টি, গ্রাম ২৪৭টি। এখানে মোট জমির পরিমান ৪৯২১০ হেক্টর। যার মধ্যে কৃষি জমি ৪০৯৪০ হেক্টর। এবছর উফসী জাতের ২৪১০০ হেক্টার ও স্থানীয় জাতের ১০৪০০ হেক্টার জমিতে আমন আমন ধানের আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রাম-গায়ের কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ধান কাটার অপেক্ষায় রয়েছে। বাতাসে সেলালী ধানের শিষ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে পোতা বাঁশের কঁঞ্চি ও গাছের ডালের উপর ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা ওইসব পাখিরা খেয়ে ফেলছে। আবার অনেকে অধিক ধান পাওয়ার আশায় নিজ নিজ জমিতে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ করছে। কেউ আবার ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে। তবে কখন নতুন ধান ঘরে তুলবে এ স্বপ্নে বিভোর উপকূলের ওইসব কৃষকরা। তবে আর কিছু দিন পর ধান কাটা শুরু হবে। তাই প্রতিটি বাড়ি বাড়ি চলছে নতুন ধান ঘরে তোলার নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতি।

 

একধিক কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জমি চাষ থেকে শুরু করে রোপন ও ক্ষেতের নিয়মিত পরিচর্যা করায় ফসলও ভালো হয়েছে। তবে দেখা দিয়েছে ক্ষেতে ইদুরের উপদ্রব। কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, অতি বৃষ্টি বা অতিরিক্ত খরার কারনে এবছর তেমন কোনো সমস্যায় পরতে হয়নি। রোগ-বালাই ও পোকায় বেশি একটা আক্রমণ করতে পারেনি। তবে প্রকৃতি অনুকুলে থাকলে স্বপ্নের সোনালী ধান যথাসময়ে ঘরে তুলতে পারবে এমন আশা করেছেন তিনি। অপর এক কৃষক মন্নান মুসল্লী জানান, তিনি ৮ একর জমি চাষ করেছে ফসলও ভাল হয়েছে আর কয়েক দিন পর তিনি ধান কাটা শুরু করবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ নেই। দুই চার দিনের মধ্যে কৃষকদের ধান কাটার উৎসব শুরু হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবে এমনটাই তিনি আশা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাগেরহাটে ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

» এবার রংপুরে অসহায় কৃষকদের ধান কাটছেন কলেজের ছাত্রীরা

» কলাপাড়া হাসপাতালে নানা সমস্যা নিয়ে কথা বললেন ডা: চিন্ময়

» নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

» বান্দরবানে যেীথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ র্শীষ সন্ত্রাসী আটক

» গলাচিপায় উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

» বান্দরবানের শান্তিকে বিনষ্ট করতে হত্যা কান্ড ও অপহরন চালাচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনী বলেন : আ’নেএীবৃন্দ

» মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশের ইফতার মাহফিল

» রাণীনগরে ধানের মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বিএনপি’র মানব বন্ধন

» নওগাঁয় গাছ থেকে ঝড়ে পড়া আম থেকে নানা রকমের আচাড় ও সুস্বাদু খাবার তৈরীতে উদ্যোমী গ্রামীন নারীরাগ্রামীন নারীরা: অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com



আজ শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্ষেত জুড়ে উকি দিচ্ছে সোনালী ধানের শীষ: মাঠে ঘ্রাণ বইছে পাকা ধানের উপকূলের কৃষক পরিবার প্রস্ততি নিচ্ছে নবান্নের

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৬ নভেম্বর।। নতুন ধানের সঙ্গে মিশে আছে উপকূলের কৃষকের স্বপ্ন। ক্ষেত জুড়ে উকি দিচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের ঘ্রাণ বইছে। ফসল ঘরে তোলার আসায় প্রতিটি কৃষক পরিবারের চোখে মুখে লেগে আছে সোনালী স্বপ্ন পূরনের ছাপ। ক’দিন পরেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকরা ক্ষেতের স্বপ্নের সোনালী ধান কাটা শুরু করবে। অধিকাংশ কৃষক পরিবার আগাম নবান্ন উৎসবের প্রস্ততিও নিয়েছে। তবে বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠবে এমন আশায় দিন গুনছেন হাজারো কৃষক।

 

কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার আয়তন ৪৯২১০২ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে পৌরসভা ২টি, ইউনিয়ন ১২ টি, গ্রাম ২৪৭টি। এখানে মোট জমির পরিমান ৪৯২১০ হেক্টর। যার মধ্যে কৃষি জমি ৪০৯৪০ হেক্টর। এবছর উফসী জাতের ২৪১০০ হেক্টার ও স্থানীয় জাতের ১০৪০০ হেক্টার জমিতে আমন আমন ধানের আবাদ হয়েছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রাম-গায়ের কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ধান কাটার অপেক্ষায় রয়েছে। বাতাসে সেলালী ধানের শিষ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে পোতা বাঁশের কঁঞ্চি ও গাছের ডালের উপর ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা ওইসব পাখিরা খেয়ে ফেলছে। আবার অনেকে অধিক ধান পাওয়ার আশায় নিজ নিজ জমিতে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ করছে। কেউ আবার ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে। তবে কখন নতুন ধান ঘরে তুলবে এ স্বপ্নে বিভোর উপকূলের ওইসব কৃষকরা। তবে আর কিছু দিন পর ধান কাটা শুরু হবে। তাই প্রতিটি বাড়ি বাড়ি চলছে নতুন ধান ঘরে তোলার নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতি।

 

একধিক কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জমি চাষ থেকে শুরু করে রোপন ও ক্ষেতের নিয়মিত পরিচর্যা করায় ফসলও ভালো হয়েছে। তবে দেখা দিয়েছে ক্ষেতে ইদুরের উপদ্রব। কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, অতি বৃষ্টি বা অতিরিক্ত খরার কারনে এবছর তেমন কোনো সমস্যায় পরতে হয়নি। রোগ-বালাই ও পোকায় বেশি একটা আক্রমণ করতে পারেনি। তবে প্রকৃতি অনুকুলে থাকলে স্বপ্নের সোনালী ধান যথাসময়ে ঘরে তুলতে পারবে এমন আশা করেছেন তিনি। অপর এক কৃষক মন্নান মুসল্লী জানান, তিনি ৮ একর জমি চাষ করেছে ফসলও ভাল হয়েছে আর কয়েক দিন পর তিনি ধান কাটা শুরু করবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ নেই। দুই চার দিনের মধ্যে কৃষকদের ধান কাটার উৎসব শুরু হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবে এমনটাই তিনি আশা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ







সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited