উপকূলের কৃষকরা সুফল পেয়েছে পাচিং পদ্ধতিতে

Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৫নভেম্বর।। ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকাদমনে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকূলের কৃষকরা সুফল পেয়েছে। এ প্রযুক্তি প্রয়োগে ধানের ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োজন হয় না। একর প্রতি ক্ষেতে ১০ থেকে ১২ টি বাঁশের কঁঞ্চি কিংবা গাছের ডাল পুতে দিতে হয়। এ পাচিংয়ের (খুটি) উপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। এর ফলে জমিতে কীটনাশক খরচ কম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া কৃষকরাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে বলে কৃষিবিদরা ধারন করছেন। তবে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাম্পার ফলন পাওয়ার উজ্জল সম্ভাবনায় কৃষকের চোখে মুখে উচ্ছলতা ফুটে উঠেছে।
একাধিকি কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, পোকা দমনে এক সময় জমিতে ব্যপক হরে কীটনাশক ব্যবহার করতো। 

এখন এর প্রবণতা কমে গেছে। প্রত্যান্ত অঞ্চলে কৃষকরা ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কৃষি বান্ধব এ প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার গ্রাম গঞ্জের কৃষকদের ক্ষেত সবুজের সমারোহ। বাতাসে সবুজ শিষ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কঁঞ্চি ও গাছের ডাল পোতা রয়েছে। ওই পাচিং (খুঁটিতে) ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা ওইসব পাখিরা খেয়ে ফেলছে। কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতের ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাধারনত এ আঞ্চলে কৃষকরা দুই ধরনের পাচিং ব্যবহার করে থাকে। যেমন লাইভ পাচিং ও ডেথ পাচিং।

 

কৃষক করিম গাজী জানান, এ বছর আমি ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতির প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এতে খরচ নেই। অপর কৃষক জানান, বাড়ীর গাছ থেকে ডাল কেটে ক্ষেতে পুতে দিয়েছি। ওই ডালে বসা পাখিরাই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে যেমন আর্থিক উপকার হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান বলেন, পাচিং পদ্ধতি কৃষকের কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব একটি পদ্ধতি। কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সকল কৃষকদের পাচিং পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য কাজ করছি। কোন খরচ ছাড়াই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারবে কৃষকরা। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৯০ ভাগ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এক সাথে পথ চলা’ প্রতিপাদ্যে ঝিনাইদহে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত 

» ঝিনাইদহে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

» ঝিনাইদহে অনাথ ভবঘুরে এতিম শিশুদের ইচ্ছা পুরণে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান

» শৈলকুপায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে কে এই সুন্দরী প্রার্থী? 

» নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে ৩৫ভরি স্বর্ণ, ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

» রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন

» দখল হয়ে যাচ্ছে তিন যুগ আগের দশমিনার নির্মিত বীজাগার

» খুন করে স্বামীর লাশের পাশেই রাত কাটালেন স্ত্রী!

» নিউজিল্যান্ডে নিহতদের স্মরণসভায় জনতার ঢল

» সাতক্ষীরার তালায় শিয়াল মারা ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

উপকূলের কৃষকরা সুফল পেয়েছে পাচিং পদ্ধতিতে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৫নভেম্বর।। ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকাদমনে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকূলের কৃষকরা সুফল পেয়েছে। এ প্রযুক্তি প্রয়োগে ধানের ক্ষেতে বালাইনাশক প্রয়োজন হয় না। একর প্রতি ক্ষেতে ১০ থেকে ১২ টি বাঁশের কঁঞ্চি কিংবা গাছের ডাল পুতে দিতে হয়। এ পাচিংয়ের (খুটি) উপর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। এর ফলে জমিতে কীটনাশক খরচ কম ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া কৃষকরাও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে বলে কৃষিবিদরা ধারন করছেন। তবে বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাম্পার ফলন পাওয়ার উজ্জল সম্ভাবনায় কৃষকের চোখে মুখে উচ্ছলতা ফুটে উঠেছে।
একাধিকি কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, পোকা দমনে এক সময় জমিতে ব্যপক হরে কীটনাশক ব্যবহার করতো। 

এখন এর প্রবণতা কমে গেছে। প্রত্যান্ত অঞ্চলে কৃষকরা ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কৃষি বান্ধব এ প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার গ্রাম গঞ্জের কৃষকদের ক্ষেত সবুজের সমারোহ। বাতাসে সবুজ শিষ দুলছে। ক্ষেতের মধ্যে বাঁশের কঁঞ্চি ও গাছের ডাল পোতা রয়েছে। ওই পাচিং (খুঁটিতে) ফিঙ্গে, শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে আছে। সুযোগ বুঝে ধানক্ষেতে থাকা ক্ষতিকর পোকা ওইসব পাখিরা খেয়ে ফেলছে। কৃষি অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতের ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এ সকল পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পাচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেকটা কীটনাশকের ব্যবহার কমে গেছে। উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সাধারনত এ আঞ্চলে কৃষকরা দুই ধরনের পাচিং ব্যবহার করে থাকে। যেমন লাইভ পাচিং ও ডেথ পাচিং।

 

কৃষক করিম গাজী জানান, এ বছর আমি ক্ষেতে পাচিং পদ্ধতির প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এতে খরচ নেই। অপর কৃষক জানান, বাড়ীর গাছ থেকে ডাল কেটে ক্ষেতে পুতে দিয়েছি। ওই ডালে বসা পাখিরাই ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে যেমন আর্থিক উপকার হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান বলেন, পাচিং পদ্ধতি কৃষকের কৃষি ও পরিবেশ বান্ধব একটি পদ্ধতি। কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সকল কৃষকদের পাচিং পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য কাজ করছি। কোন খরচ ছাড়াই এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারবে কৃষকরা। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৯০ ভাগ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited