জেলেদের ফাঁদে প্রচুর পরিমাণে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা পড়ছে!

Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা: উপকূলের পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়ে গেছে আরও এক সপ্তাহ আগেই। তবুও জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে নিয়মিত। এ ব্যাপারে জেলেদের দাবি, নদীতে এখনও ডিম ছাড়ছে ইলিশ। তাদের মতে এবারের নিষেধাজ্ঞার সময় আগাম হয়ে গেছে। কিন্তু মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশের প্রজননের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার সময় সঠিক ছিল।

 

এ সময়ই বেশি পরিমাণ ইলিশ ডিম ছেড়েছে। এ বিষয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলে রফিক হাং বলেন, ‘আরও ১০দিন অবরোধ থাকলেই মাছ ঠিকমত ডিম ছাড়তে পারত।’ আরেক জেলে বেল্লাল বলেন, ১০ টা মাছ জালে উঠলে তার সাতটাতেই দেখি ডিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় কাটিয়ে পুনরায় জেলেরা এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আগুনমুখা, রামনাবাদ, দারচিরা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন। তবে এসব ইলিশের বেশিরভাগই পেট ডিমে ঠাসা রয়েছে। জেলেদের জালে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব ডিমওয়ালা ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে। গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের কয়েকটি মা ইলিশ কেটে পেটে পরিপক্ক ডিম পাওয়া গেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার পরেও জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় কিছুটা আতংকিত উপকূলীয় জেলেরা। এতে ইলিশ উৎপাদন কমতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

 

এ নিষেধাজ্ঞার সময় সঠিক ছিলনা বলে মনে করছেন তারা। ইলিশ ধরতে ব্যস্ত পটুয়াখালীর জেলেরা। এবার প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের জেলে লিমন মোল্লা বলেন, ‘নদীতে যাইয়া যেসব ইলিশ পাই। সব মাছের প্যাডে ডিম। এহনো অনেক মাছ ডিম ছাড়তে পারে নাই। আর কিছুদিন পর ডিম ছাড়বে। কিন্তু এহনতো অবরোধ নাই।’জেলে মনির হোসেন বলেন, ‘এবার অবরোধ আগে ওইয়া গেছে। একটু পিছাইয়া দিলে সব মাছগুলো ডিম ছাড়তে পারতো। বেশি মাছে ডিম ছাড়লে, নদীতেও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।’ মাছ বাজারে ডিমে ঠাসা ইলিশের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. কামরুল ইসলাম প্রতিবেদকে বলেন, ‘ডিমওয়ালা ইলিশ এখনও থাকবে। ৩-৫ মাস পরেও থাকবে। যেই পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়া দরকার, তা হয়ে গেছে। এ অবরোধে আমরা জেলেদেরকে জাল ফেলা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি। যেই পরিমাণে ইলিশ ডিম দিয়েছে, দিয়ে আবার সাগরে চলে গেছে। যেইটায় ডিম ছাড়েনি, সেইটা আবার সাগর থেকে উঠে আসবে।’ ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশে সব ডিম ছাড়বে।

 

ওই সময়টা ছিল বেশি পরিমাণে ডিম ছাড়ার সময়।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যা আশা করেছি, এবার তার চাইতে বেশি ডিম ছেড়েছে ইলিশ। এ ব্যাপারে গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-বাংলাদেশ প্রকল্পের টিম লিডার প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাব আরো বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ প্রকল্প দ্বারা সারাবছর ব্যাপী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সময়টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়টির ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে ২২ দিনের চাইতে বেশি সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে কিনা তা প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে হবে। বিষয়টি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর তথ্য সংযোজন পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এক সাথে পথ চলা’ প্রতিপাদ্যে ঝিনাইদহে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত 

» ঝিনাইদহে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

» ঝিনাইদহে অনাথ ভবঘুরে এতিম শিশুদের ইচ্ছা পুরণে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান

» শৈলকুপায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে কে এই সুন্দরী প্রার্থী? 

» নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে ৩৫ভরি স্বর্ণ, ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

» রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন

» দখল হয়ে যাচ্ছে তিন যুগ আগের দশমিনার নির্মিত বীজাগার

» খুন করে স্বামীর লাশের পাশেই রাত কাটালেন স্ত্রী!

» নিউজিল্যান্ডে নিহতদের স্মরণসভায় জনতার ঢল

» সাতক্ষীরার তালায় শিয়াল মারা ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জেলেদের ফাঁদে প্রচুর পরিমাণে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা পড়ছে!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা: উপকূলের পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়ে গেছে আরও এক সপ্তাহ আগেই। তবুও জেলেদের জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে নিয়মিত। এ ব্যাপারে জেলেদের দাবি, নদীতে এখনও ডিম ছাড়ছে ইলিশ। তাদের মতে এবারের নিষেধাজ্ঞার সময় আগাম হয়ে গেছে। কিন্তু মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশের প্রজননের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার সময় সঠিক ছিল।

 

এ সময়ই বেশি পরিমাণ ইলিশ ডিম ছেড়েছে। এ বিষয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলে রফিক হাং বলেন, ‘আরও ১০দিন অবরোধ থাকলেই মাছ ঠিকমত ডিম ছাড়তে পারত।’ আরেক জেলে বেল্লাল বলেন, ১০ টা মাছ জালে উঠলে তার সাতটাতেই দেখি ডিম। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় কাটিয়ে পুনরায় জেলেরা এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আগুনমুখা, রামনাবাদ, দারচিরা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদ-নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন। তবে এসব ইলিশের বেশিরভাগই পেট ডিমে ঠাসা রয়েছে। জেলেদের জালে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে এসব ডিমওয়ালা ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে। গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের কয়েকটি মা ইলিশ কেটে পেটে পরিপক্ক ডিম পাওয়া গেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ার পরেও জালে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় কিছুটা আতংকিত উপকূলীয় জেলেরা। এতে ইলিশ উৎপাদন কমতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

 

এ নিষেধাজ্ঞার সময় সঠিক ছিলনা বলে মনে করছেন তারা। ইলিশ ধরতে ব্যস্ত পটুয়াখালীর জেলেরা। এবার প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ রক্ষায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের জেলে লিমন মোল্লা বলেন, ‘নদীতে যাইয়া যেসব ইলিশ পাই। সব মাছের প্যাডে ডিম। এহনো অনেক মাছ ডিম ছাড়তে পারে নাই। আর কিছুদিন পর ডিম ছাড়বে। কিন্তু এহনতো অবরোধ নাই।’জেলে মনির হোসেন বলেন, ‘এবার অবরোধ আগে ওইয়া গেছে। একটু পিছাইয়া দিলে সব মাছগুলো ডিম ছাড়তে পারতো। বেশি মাছে ডিম ছাড়লে, নদীতেও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে।’ মাছ বাজারে ডিমে ঠাসা ইলিশের উপস্থিতির কথা স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. কামরুল ইসলাম প্রতিবেদকে বলেন, ‘ডিমওয়ালা ইলিশ এখনও থাকবে। ৩-৫ মাস পরেও থাকবে। যেই পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়া দরকার, তা হয়ে গেছে। এ অবরোধে আমরা জেলেদেরকে জাল ফেলা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি। যেই পরিমাণে ইলিশ ডিম দিয়েছে, দিয়ে আবার সাগরে চলে গেছে। যেইটায় ডিম ছাড়েনি, সেইটা আবার সাগর থেকে উঠে আসবে।’ ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশে সব ডিম ছাড়বে।

 

ওই সময়টা ছিল বেশি পরিমাণে ডিম ছাড়ার সময়।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যা আশা করেছি, এবার তার চাইতে বেশি ডিম ছেড়েছে ইলিশ। এ ব্যাপারে গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ-বাংলাদেশ প্রকল্পের টিম লিডার প্রফেসর ড. মো. আব্দুল ওহাব আরো বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ প্রকল্প দ্বারা সারাবছর ব্যাপী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সময়টা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়টির ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। তবে ২২ দিনের চাইতে বেশি সময় ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে কিনা তা প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এটা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে হবে। বিষয়টি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর তথ্য সংযোজন পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited