সেই শিশুকে দত্তক নিতে থানায় ভিড়

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নান্দাইল উপজেলার ঘোষপালা নামক স্থানে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পান কলেজছাত্র আনিছুর রহমান হৃদয়। এক রকম ভয়ে আৎকে উঠলে বাড়ি থেকে বড় ভাই মিজানকে ডেকে এনে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সন্ধান পাওয়া সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের। খালি গায়ে দুই পা ওপরে উঠিয়ে কান্না করছে আর শীতে কাঁপছে। এ অবস্থায় দুই ভাই নিজেদের শরীরের শার্ট খুলে শিশুটিকে মুড়িয়ে নিয়ে যায় থানায়। পরে ওসি কুড়িয়ে পাওয়া ওই শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এভাবেই অল্পের জন্য রক্ষা পায় নবজাতকটি।

 

আজ সোমবার পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা শিশুটিকে দেখতে যেমন ভিড় জমিয়েছে উৎসুক লোকজন। তেমনি প্রায় ২০ জন নিঃসন্তান দম্পত্তি নবজাতককে দত্তক নিতে ওসি বরাবর আবেদন করেন। ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া তাদের জানিয়েছেন, ওই শিশুটিকে এখন পেতে হলে আদালতে যেতে হবে। সকল কিছু সেখানের এখতিয়ার।আনিছুর রহমান হৃদয় জানান, তিনি গতকাল রবিবার নান্দাইল সদরে গিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তিনি বাড়ির কাছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নেমে ইজিবাইকের ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। এ সময় দেখতে পান দুই যুবক-যুবতী সড়কের নিচ থেকে সড়কে উঠে এসে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়। এতে সন্দেহ হলে তিনি কিছুটা দূরে শিশুর কান্না শুনতে পান।

 

পরে মোবাইল ফোনে তার বড় ভাই মিজানকে ডেকে এনে কান্নার আওয়াজের স্থান খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে মোবাইলের আলো জ্বেলে দেখতে পান কাপড় বিহীন এক শিশু নড়াচড়া করে কান্না করছে। পরে নিজের গায়ের শার্ট খুলে শিশুটিকে মুড়িয়ে দুই ভাই মিলে নান্দাইল থানায় চলে আসেন। পরে নিজের কক্ষে বসা ওসি শিশুটিকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দ্রুত গাড়ি বের করে শিশুটিকে নিয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নির্ঝর সাহা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিশুটিকে বিপদমুক্ত বলে ঘোষণা করেন।

 

তবে এই মূহুর্তে শিশুটির বুকের দুধের প্রয়োজন রয়েছে বলে চিকিৎসক জানালে হাসপাতালেই প্রসূতি কোনো নারীকে খোঁজ করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাৎক্ষণিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো কোনো প্রসূতি নারীকে না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ওসি কামরুল ইসলাম দৌড়ে শহরে গিয়ে দুধ ও ফিডার কিনে আনেন। এভাবেই ধান খেতে ফেলে যাওয়া নাম না জানা এক শিশুর জীবন রক্ষা পায়। হাসপাতালের খাতায় কন্যা শিশুটির নাম লেখা হয় উত্তরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজদেশে ফেরত নিতে হবে: ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত

» ১৩ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাংক এ মুশফিকুর রহিম

» গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে পারবেন না পর্যবেক্ষকরা

» পর্ন ওয়েবসাইট বন্ধ কি সম্ভব?

» ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে

» শিকাগোর হাসপাতালে বন্দুক হামলায় ৩ জন নিহত

» কুয়াকাটায় ২১ নভেম্বর থেকে তিনদিন ব্যাপী গঙ্গাস্নান ও রাসমেলা শুরু হবে

» কলাপাড়ায় বিপুল পরিমান জাটকা জব্দ

» বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন

» মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি রাশিয়া: পুতিন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সেই শিশুকে দত্তক নিতে থানায় ভিড়

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নান্দাইল উপজেলার ঘোষপালা নামক স্থানে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুর কান্নার আওয়াজ পান কলেজছাত্র আনিছুর রহমান হৃদয়। এক রকম ভয়ে আৎকে উঠলে বাড়ি থেকে বড় ভাই মিজানকে ডেকে এনে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সন্ধান পাওয়া সদ্য জন্ম নেওয়া এক নবজাতকের। খালি গায়ে দুই পা ওপরে উঠিয়ে কান্না করছে আর শীতে কাঁপছে। এ অবস্থায় দুই ভাই নিজেদের শরীরের শার্ট খুলে শিশুটিকে মুড়িয়ে নিয়ে যায় থানায়। পরে ওসি কুড়িয়ে পাওয়া ওই শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এভাবেই অল্পের জন্য রক্ষা পায় নবজাতকটি।

 

আজ সোমবার পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা শিশুটিকে দেখতে যেমন ভিড় জমিয়েছে উৎসুক লোকজন। তেমনি প্রায় ২০ জন নিঃসন্তান দম্পত্তি নবজাতককে দত্তক নিতে ওসি বরাবর আবেদন করেন। ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া তাদের জানিয়েছেন, ওই শিশুটিকে এখন পেতে হলে আদালতে যেতে হবে। সকল কিছু সেখানের এখতিয়ার।আনিছুর রহমান হৃদয় জানান, তিনি গতকাল রবিবার নান্দাইল সদরে গিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তিনি বাড়ির কাছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নেমে ইজিবাইকের ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। এ সময় দেখতে পান দুই যুবক-যুবতী সড়কের নিচ থেকে সড়কে উঠে এসে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠে দ্রুত চলে যায়। এতে সন্দেহ হলে তিনি কিছুটা দূরে শিশুর কান্না শুনতে পান।

 

পরে মোবাইল ফোনে তার বড় ভাই মিজানকে ডেকে এনে কান্নার আওয়াজের স্থান খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে মোবাইলের আলো জ্বেলে দেখতে পান কাপড় বিহীন এক শিশু নড়াচড়া করে কান্না করছে। পরে নিজের গায়ের শার্ট খুলে শিশুটিকে মুড়িয়ে দুই ভাই মিলে নান্দাইল থানায় চলে আসেন। পরে নিজের কক্ষে বসা ওসি শিশুটিকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দ্রুত গাড়ি বের করে শিশুটিকে নিয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নির্ঝর সাহা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিশুটিকে বিপদমুক্ত বলে ঘোষণা করেন।

 

তবে এই মূহুর্তে শিশুটির বুকের দুধের প্রয়োজন রয়েছে বলে চিকিৎসক জানালে হাসপাতালেই প্রসূতি কোনো নারীকে খোঁজ করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাৎক্ষণিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো কোনো প্রসূতি নারীকে না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ওসি কামরুল ইসলাম দৌড়ে শহরে গিয়ে দুধ ও ফিডার কিনে আনেন। এভাবেই ধান খেতে ফেলে যাওয়া নাম না জানা এক শিশুর জীবন রক্ষা পায়। হাসপাতালের খাতায় কন্যা শিশুটির নাম লেখা হয় উত্তরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited