মহিপুরে বসত ঘর কুপিয়ে লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে মামলা! 

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা পটুয়াখালী:- জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পটুয়াখালী জেলা কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে বসত ঘর কুপিয়ে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের মহিলাসহ তিনজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১২ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরও অজ্ঞাত ১০ জনের নামে একটি মামলা করা হয়েছে।

 

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, তুলাতলী গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক শিকদারের জমিতে তার আপন ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা রাত ২ টার দিকে টিলার মেশিন নিয়ে চাষ করতে যায়। বৃদ্ধ আঃ রাজ্জাক শিকদার (৮৫) টের পেয়ে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে রশি দিয়ে বেঁধে হালচাষ শুরু করেন। এ খবর পেয়ে তার ছেলে আঃ রশিদ শিকদার (৪৫) ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩৫) এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষরা তাদের বেধড়ক মারধর করেন এবং তাদের বসত ঘর কুপিয়ে লুটপাট চালায়। এসময় প্রতিপক্ষরা তাদের ঘরে থাকা ৬৪ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করেন। তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষরা চলে যায়। পরে মহিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

সরেজমিনে বৃদ্ধ আঃ রাজ্জাক শিকদার দাবী করে বলেন, প্রতিপক্ষরা হাইকোর্টের নিষেজ্ঞাধা অমান্য করে আমার জমি চাষাবাদ করতে পারে এমন আশংকা নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মহিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশনা মোতাবেক মহিপুর থানার এসআই কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জমি চাষাবাদ করতে নিষেধ করেন এবং তাদের কাগজ পত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা তার নিষেধ অমান্য করে থানায় না গিয়ে রাতে জমি চাষ করতে নামে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। আমাকে উদ্ধার করতে গেলে ছেলে ও পুত্রবধুকে মারধর করে এবং বসত ঘুর কুপিয়ে লুটপাট চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ গিয়ে আমাদের রক্ষা করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

 

মামলার আসামীরা হলেন, মোঃ খলিল সিকদার (৩৫), মোঃ হানিফ সিকদার (২২), আঃ রহিম সিকদার (৪৫), আঃ হাই সিকদার (৭৫), কুদ্দুস সিকদার (৩৫), সিদ্দিক সিকদার (২৮), মোঃ শহিদুল সিকদার (২৫), মোঃ জলিল সিকদার (৪০), আঃ ছত্তার খাঁ (৫০), মোঃ মিলন খাঁ (৩০), মোঃ মনির (২৫), মোঃ মেনাজ সিকদারসহ (৪৫)আরো অজ্ঞত ১০/১২জন।

 

মারধরের শিকার শাহিদা বেগম তার শরীরের জখমের চিহৃ দেখিয়ে বলেন, আমার শ্বশুড় ও স্বামীকে মারধর করতে দেখে আমি গেলে প্রতিপক্ষরা আমাকেও মারধর করে। এরা প্রভাবশালী বিধায় আমরা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল শিকদার লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা রাতের আধারে জমি চাষ করতে নেমেছি সত্য। কিন্তু মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। তারা নিজেরা জখম হয়ে ও ঘরের টিন কুপিয়ে মামলা করছে।

 

আঃ কুদ্দুস শিকদার বলেন, আমার দাদা জীবিত অবস্থায় বড় দুই ছেলের নামে তিন একর করে ছয় একর জমি বন্দোবস্ত নেয়। আমার বাবার বয়স অল্প থাকায় তার নামে কোন জমি বন্দোবস্ত হয়নি। পরবর্তীতে দাদা কালু শিকদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিন ছেলের মধ্যে সমান অংশে ভাগ করে দেন। সেই থেকে আমরা জমি ভোগ দখল করছি। সালিশগণের সিদ্ধান্ত মতে পরবর্তীতে জমির দলিল দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দলিল না দিয়ে ১১ বছর চট্টগ্রাম গিয়ে বসবাস করেন।

 

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম বেপারী বলেন, খলিল শিকদার গং রাতে জমি চাষাবাদ করতে গেলে থানা থেকে আমাকে জানানো হয় এবং রাতেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাজ্জাক শিকদার জমিতে গেলে আমি সেখানে গিয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই জমিতে নামতে নিষেধ করছি।

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার এসআই কামাল হোসেন বলেন, গভীর রাতে জমি চাষাবাদ করা নিয়ে মারামারি হয় এমন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জমিতে কোন পক্ষকে পায়নি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হয়েছে। রাজ্জাক শিকদার গংদের মামলাটি থানায় তদন্তাধীন আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ র‌্যাবের অভিযান, রাইফেল উদ্ধার

» মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজদেশে ফেরত নিতে হবে: ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত

» ১৩ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাংক এ মুশফিকুর রহিম

» গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে পারবেন না পর্যবেক্ষকরা

» পর্ন ওয়েবসাইট বন্ধ কি সম্ভব?

» ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে

» শিকাগোর হাসপাতালে বন্দুক হামলায় ৩ জন নিহত

» কুয়াকাটায় ২১ নভেম্বর থেকে তিনদিন ব্যাপী গঙ্গাস্নান ও রাসমেলা শুরু হবে

» কলাপাড়ায় বিপুল পরিমান জাটকা জব্দ

» বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মহিপুরে বসত ঘর কুপিয়ে লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে মামলা! 

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা পটুয়াখালী:- জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পটুয়াখালী জেলা কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে বসত ঘর কুপিয়ে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের মহিলাসহ তিনজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১২ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরও অজ্ঞাত ১০ জনের নামে একটি মামলা করা হয়েছে।

 

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, তুলাতলী গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক শিকদারের জমিতে তার আপন ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা রাত ২ টার দিকে টিলার মেশিন নিয়ে চাষ করতে যায়। বৃদ্ধ আঃ রাজ্জাক শিকদার (৮৫) টের পেয়ে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাকে রশি দিয়ে বেঁধে হালচাষ শুরু করেন। এ খবর পেয়ে তার ছেলে আঃ রশিদ শিকদার (৪৫) ও তার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩৫) এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষরা তাদের বেধড়ক মারধর করেন এবং তাদের বসত ঘর কুপিয়ে লুটপাট চালায়। এসময় প্রতিপক্ষরা তাদের ঘরে থাকা ৬৪ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করেন। তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষরা চলে যায়। পরে মহিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

সরেজমিনে বৃদ্ধ আঃ রাজ্জাক শিকদার দাবী করে বলেন, প্রতিপক্ষরা হাইকোর্টের নিষেজ্ঞাধা অমান্য করে আমার জমি চাষাবাদ করতে পারে এমন আশংকা নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মহিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি দেখার জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশনা মোতাবেক মহিপুর থানার এসআই কামাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জমি চাষাবাদ করতে নিষেধ করেন এবং তাদের কাগজ পত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা তার নিষেধ অমান্য করে থানায় না গিয়ে রাতে জমি চাষ করতে নামে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। আমাকে উদ্ধার করতে গেলে ছেলে ও পুত্রবধুকে মারধর করে এবং বসত ঘুর কুপিয়ে লুটপাট চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ গিয়ে আমাদের রক্ষা করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

 

মামলার আসামীরা হলেন, মোঃ খলিল সিকদার (৩৫), মোঃ হানিফ সিকদার (২২), আঃ রহিম সিকদার (৪৫), আঃ হাই সিকদার (৭৫), কুদ্দুস সিকদার (৩৫), সিদ্দিক সিকদার (২৮), মোঃ শহিদুল সিকদার (২৫), মোঃ জলিল সিকদার (৪০), আঃ ছত্তার খাঁ (৫০), মোঃ মিলন খাঁ (৩০), মোঃ মনির (২৫), মোঃ মেনাজ সিকদারসহ (৪৫)আরো অজ্ঞত ১০/১২জন।

 

মারধরের শিকার শাহিদা বেগম তার শরীরের জখমের চিহৃ দেখিয়ে বলেন, আমার শ্বশুড় ও স্বামীকে মারধর করতে দেখে আমি গেলে প্রতিপক্ষরা আমাকেও মারধর করে। এরা প্রভাবশালী বিধায় আমরা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকি।

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল শিকদার লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা রাতের আধারে জমি চাষ করতে নেমেছি সত্য। কিন্তু মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ সত্য নয়। তারা নিজেরা জখম হয়ে ও ঘরের টিন কুপিয়ে মামলা করছে।

 

আঃ কুদ্দুস শিকদার বলেন, আমার দাদা জীবিত অবস্থায় বড় দুই ছেলের নামে তিন একর করে ছয় একর জমি বন্দোবস্ত নেয়। আমার বাবার বয়স অল্প থাকায় তার নামে কোন জমি বন্দোবস্ত হয়নি। পরবর্তীতে দাদা কালু শিকদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিন ছেলের মধ্যে সমান অংশে ভাগ করে দেন। সেই থেকে আমরা জমি ভোগ দখল করছি। সালিশগণের সিদ্ধান্ত মতে পরবর্তীতে জমির দলিল দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দলিল না দিয়ে ১১ বছর চট্টগ্রাম গিয়ে বসবাস করেন।

 

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম বেপারী বলেন, খলিল শিকদার গং রাতে জমি চাষাবাদ করতে গেলে থানা থেকে আমাকে জানানো হয় এবং রাতেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে রাজ্জাক শিকদার জমিতে গেলে আমি সেখানে গিয়ে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই জমিতে নামতে নিষেধ করছি।

 

এ বিষয়ে মহিপুর থানার এসআই কামাল হোসেন বলেন, গভীর রাতে জমি চাষাবাদ করা নিয়ে মারামারি হয় এমন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে জমিতে কোন পক্ষকে পায়নি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হয়েছে। রাজ্জাক শিকদার গংদের মামলাটি থানায় তদন্তাধীন আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited