পলাশ দেব নাথ এর কবিতা : বাংলাদেশ

পলাশ দেব নাথ এর কবিতা : বাংলাদেশ

উনিশ শত সাতচল্লিশ থেকে শুরু করে আজ অবধি,
সাক্ষী আছে পাহাড় পর্বত কত সাগর নদী।
রক্তকণা বয়ে নিতে নদী হয়নি অস্থির,
জানতো নদী রক্তে মিশে আছে বাংলার বীর।
পাহাড় দেখেছে অনেক কিছু তবু অশ্রু আসেনি চোঁখে,
কত শহিদের দেহখানি ঠাই দিয়েছে তার বুকে।
কিসের নামাজ কিসের জানাজা গায়ে না দিয়ে কাপন,
এক কবরে কত শহিদকে করা হয়েছে দাফন।

 

বায়ান্নতে মায়ের ভাষা রক্ষা করতে গিয়ে,
রফিক জব্বারের মত অনেকের প্রাণ আসতে হয়েছে দিয়ে।
যুক্তফ্রন্ট আর মুজিবনগর সরকার করে গঠন,
একুশদফা ভিত্তির উপর চুয়ান্নর নির্বাচন।
ছয়ষষ্টিতে ছয়দফা শুনে কেউ থাকেনি স্থীর,
শপথ করে পথে নামে বাংলার সকল বীর।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আরো কত আন্দোলন,
সকল কথা শুনলে আজো শিউরে উঠে মন।
ছিলনা পরিচয় বুদ্ধিজিবী, কিংবা মাঠের চাষী,
সবাই বলেছেন মায়ের সন্তান আমি মাকেই ভালোবাসি।

 

সত্তরেতে দলীয়ভাবে করে নির্বাচন,
শেখ মুজিবুর জয়লাভ করে পাননি যোগ্য আসন।
পরে দিলেন তিনি ভাষন,
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
সাত মার্চে বঙ্গবন্ধুর শুনে এমন বাণী,
হাসি মুখে যুদ্ধে গিয়ে দিয়েছে প্রাণখানি।
মাকে বলেছে মাগো আমি ফিরে আসবো আবার,
স্ত্রীকে বলেছে যতনে রাধিও আমার প্রিয় খাবার।
ভাগ্য দোষে অনেকই আর ফিরে আসেনি,
শুনলে চোঁখে ঝড়ে পানি, বাংলার করুণ কাহিনী।

 

প্রথম থেকেই থেকেই পাকিস্থানিরা করেছে বাংলা শোষন,
ঠিকমত পায়নি বাঙ্গালী খাবার কিংবা বসন।
কত রাজাকার করেছে আবার তাদের সাহায্য,
ওরা পাপি বলেই গ্রাহ্য।
পচিঁশে মার্চ কালো রাতে নির্মম হত্যা,
গুলি ছুড়ে ওরা উড়িয়ে দিয়েছে কত জনার মাথা।
ছাব্বিশে মার্চ পেলাম আমরা প্রিয় স্বাধীনতা।
ওরা ছিল কত পাষান,
ইতিহাসে তখন নির্মম ছিল পশ্চিম পাকিস্থান।
যে মেয়েরা লজ্জায় থাকতো আড়ালে সর্বক্ষণ,
সেই মেয়েকেও তখন ওরা করেছে ধর্ষণ।
যারা হারিয়েছে নিজের মান অনেকের হয়েছে মরণ,
তারা আজ বীরাঙ্গনা নারী গৌরবের উদাহরণ।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বয়ে গেলো আরেক ঝড়,
বুদ্ধিজিবীরাও বাঁচতে পারেনি চৌদ্দই ডিসেম্বর।

 

দেখে বাঙ্গালীর আত্মবলি দেখে জীবন বাজি,
আত্ম সমর্পন করতে বাদ্য হলেন নিয়াজী।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এত আন্দোলনের পর,
বিজয় পতাকা উড়লো শেষে ষোলই ডিসেম্বর।
মা বোন যারা সুরক্ষার জন্য ছিলেন ভারত বর্ষে,
নিজের দেশে ফিরলেন শেষে আনন্দ উল্লাসে।
শত কবিতা লিখে বাংলার ইতিহাস হবেনা শেষ,
অনেক ত্যাগে অর্জিত মোদের সোনার বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র কিনলেন হিরো আলম

» খালেদার জন্য ৩ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

» বিএনপির হাল ধরতে আসছেন ডা. জোবাইদা রহমান!

» মহাজোটের শরিক হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবে জাপা

» নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর, পুনঃতফসিল ঘোষণা

» আগৈলঝাড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় যুবলীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

» কলাপাড়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

» পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী আগামী ২১ নভেম্বর

» ঐক্যফ্রন্ট ও জোটকে ৮০ আসন দিতে চায় বিএনপি

» মাশরাফির মনোনয়নে নড়াইলে আনন্দ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পলাশ দেব নাথ এর কবিতা : বাংলাদেশ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

পলাশ দেব নাথ এর কবিতা : বাংলাদেশ

উনিশ শত সাতচল্লিশ থেকে শুরু করে আজ অবধি,
সাক্ষী আছে পাহাড় পর্বত কত সাগর নদী।
রক্তকণা বয়ে নিতে নদী হয়নি অস্থির,
জানতো নদী রক্তে মিশে আছে বাংলার বীর।
পাহাড় দেখেছে অনেক কিছু তবু অশ্রু আসেনি চোঁখে,
কত শহিদের দেহখানি ঠাই দিয়েছে তার বুকে।
কিসের নামাজ কিসের জানাজা গায়ে না দিয়ে কাপন,
এক কবরে কত শহিদকে করা হয়েছে দাফন।

 

বায়ান্নতে মায়ের ভাষা রক্ষা করতে গিয়ে,
রফিক জব্বারের মত অনেকের প্রাণ আসতে হয়েছে দিয়ে।
যুক্তফ্রন্ট আর মুজিবনগর সরকার করে গঠন,
একুশদফা ভিত্তির উপর চুয়ান্নর নির্বাচন।
ছয়ষষ্টিতে ছয়দফা শুনে কেউ থাকেনি স্থীর,
শপথ করে পথে নামে বাংলার সকল বীর।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আরো কত আন্দোলন,
সকল কথা শুনলে আজো শিউরে উঠে মন।
ছিলনা পরিচয় বুদ্ধিজিবী, কিংবা মাঠের চাষী,
সবাই বলেছেন মায়ের সন্তান আমি মাকেই ভালোবাসি।

 

সত্তরেতে দলীয়ভাবে করে নির্বাচন,
শেখ মুজিবুর জয়লাভ করে পাননি যোগ্য আসন।
পরে দিলেন তিনি ভাষন,
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
সাত মার্চে বঙ্গবন্ধুর শুনে এমন বাণী,
হাসি মুখে যুদ্ধে গিয়ে দিয়েছে প্রাণখানি।
মাকে বলেছে মাগো আমি ফিরে আসবো আবার,
স্ত্রীকে বলেছে যতনে রাধিও আমার প্রিয় খাবার।
ভাগ্য দোষে অনেকই আর ফিরে আসেনি,
শুনলে চোঁখে ঝড়ে পানি, বাংলার করুণ কাহিনী।

 

প্রথম থেকেই থেকেই পাকিস্থানিরা করেছে বাংলা শোষন,
ঠিকমত পায়নি বাঙ্গালী খাবার কিংবা বসন।
কত রাজাকার করেছে আবার তাদের সাহায্য,
ওরা পাপি বলেই গ্রাহ্য।
পচিঁশে মার্চ কালো রাতে নির্মম হত্যা,
গুলি ছুড়ে ওরা উড়িয়ে দিয়েছে কত জনার মাথা।
ছাব্বিশে মার্চ পেলাম আমরা প্রিয় স্বাধীনতা।
ওরা ছিল কত পাষান,
ইতিহাসে তখন নির্মম ছিল পশ্চিম পাকিস্থান।
যে মেয়েরা লজ্জায় থাকতো আড়ালে সর্বক্ষণ,
সেই মেয়েকেও তখন ওরা করেছে ধর্ষণ।
যারা হারিয়েছে নিজের মান অনেকের হয়েছে মরণ,
তারা আজ বীরাঙ্গনা নারী গৌরবের উদাহরণ।
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বয়ে গেলো আরেক ঝড়,
বুদ্ধিজিবীরাও বাঁচতে পারেনি চৌদ্দই ডিসেম্বর।

 

দেখে বাঙ্গালীর আত্মবলি দেখে জীবন বাজি,
আত্ম সমর্পন করতে বাদ্য হলেন নিয়াজী।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এত আন্দোলনের পর,
বিজয় পতাকা উড়লো শেষে ষোলই ডিসেম্বর।
মা বোন যারা সুরক্ষার জন্য ছিলেন ভারত বর্ষে,
নিজের দেশে ফিরলেন শেষে আনন্দ উল্লাসে।
শত কবিতা লিখে বাংলার ইতিহাস হবেনা শেষ,
অনেক ত্যাগে অর্জিত মোদের সোনার বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited