কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটে জলাবদ্ধতা॥ দুর্ভোগে ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাট (পটুয়াখালী) থেকে॥ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা ঘাট নির্মান করায় পৌর এলাকার রাখাইন মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার প্রানকেন্দ্র আদিবাসী রাখাইন  সম্প্রদায়ের মহিলা মার্কেটের মাঠ বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই মাঠের পানি পচে দুর্গন্ধ হওয়ায়  পর্যটকসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে মাঠ টই টুম্বর । ভ্যান চালক ভ্যান চালিয়ে কাঁদা লাাগায় সে ওই পানিতে ভ্যান পরিস্কার করতে আছে। প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে কুয়াকাটার প্রানকেন্দ্র হিসেকে খ্যাত রাখাইন মহিলা মার্কেটের মাঠের অধিকাংশ পানিতে তলিয়ে থাকে । এ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থ না থাকায় পানি গুলো পচে দুর্গদ্ধের পাশাপাশি মশার সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় রোগ জীবানু। ওই মাঠের চার দিকে বিভিন্ন বস্ত্র বিতান, বিপনি,রাখাইন সম্প্রদায়ের মন্দির এবং আবাসিক হোটেল রয়েছে। প্রতিদিন শেষ বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার পর পর্যটকরা ওই মাঠে বসে বাড়তি সময় কাটাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ধসঢ়; রকমের রাখাইন কালচারাল অনুষ্টানসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্টান ওই মাঠে হয়ে থাকে ।

 

বর্তমানে ওই মাঠে জলাবদ্ধতার কারনে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাখাই সম্প্রদায়ের লোকেরা স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের কাছে জলাবদ্ধতার নিরসনের জন্য বার বার ধরনা ধরলেও আজ পর্যন্ত কোন সুফল পায়নি তারা। রাখাইন মার্কেটের পাশে রাখাইন অধ্যুষিত কেরানিপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী হোটেলের পর্যটকরা পচা দূর্গন্ধ নিয়ে বসবাস করছেন।শুধু রাখাইন মার্কেটই নয় বর্তমান পৌর ভবনের আশে পাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত কোন পরিকল্পনা না থাকায় এমন  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কেরানী পাড়ার রাখাইন উসানে জানান, তার ছোট ছোট মেয়েরা না বুজে দূগন্ধযুক্ত পানিতে নামে এবং পানি নিয়ে খেলাধুলা করে। তিনি আতংকে  আছেন কখন এই পানি থেকে রোগের সৃষ্টি হয়।

 

ব্যবসায়ী মিলন জানান,পর্যটকরা কুয়াকাটা বীচে সব কিছু ঘুরে দেখার  পর বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার পর তেমন কোন কাজ না থাকায় অনেকেই ওই মাঠে  বসে বাকি সময় কাটানোর জন্য গিয়ে বসেন ও গল্প করে সময় পার করনে। মাঠে জলাবদ্ধতা বিষয় কথা হয় রাখাইন মাঠ সংলগ্ন ব্যবসায়ী চিংচাথন ও উসো মং বলেন, এ দুর্ভোগ এ বছরে নয় প্রতিবছর বর্ষা মওসুমেই বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি একটু কমে গেলেই পানিতে পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ সময় রাতের চেয়ে দিনে মশার উপদ্রব বেশি থাকে । এ জন্য সারা দিন মশার কয়েল জ্বালিয়ে বেচাকেনা করতে হয়। তিনি আরো বলেন ৮০ শতাংশ জমি রাখাইন মার্কেট করার জন্য এলজিইডিকে আমরা ডিড দিয়েছে এবং কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসবসহ বাঙালিদের অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্টান এ মাঠেই হয়ে থাকে।

 

কেরানিপাড়ার এলাকার কাউন্সিলর তপু জানান, রাখাইন মার্কেটের পানি নিস্কাশনের জন্য আমরা পাইপ দিয়েছি কিন্তু পাইপের মুখে বালি জমা হওয়ার কারনে মুখ আটকে যায় এ জন্য পানি নেমে যেতে পারেনা। তাই আগামি অর্থবছরে মাঠ ভরাট করা হবে বলে আমাকে পৌর মেয়র জানিয়েছেন। এ ব্যাপরে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেব মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন মার্কেটের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতি বছর একটি প্রকল্পের ৭০ হাজার টাকার পাইপ কিনে রাস্তার নিচ দিয়ে পাড়ার মধ্যে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালানোর কারনে পাইপ ফেটে যায়। আগামি বছর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মান করবে ওই সময় রাখাইন মার্কেটের জলাবদ্ধতার জন্য ড্রেন নির্মান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» যশোরের বেনাপোলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ফুটবল প্রশিক্ষন

» আ’লীগ নেতা ভাড়াটে লাঠিয়াল দিয়ে জমি দখল দশমিনায় নারী-পুরুষসহ আহত-১৫

» গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী সভা

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নদীর তীরে অবৈধ ভাবে মাটি কাটায় থানায় পাউবো,র অভিযোগ

» তাদের গন্তব্য ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ভারতের ২১ সাইক্লিষ্টের শ্রদ্ধা নিবেদন

» রাণীনগরে রহিদুল আলমের উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকাবসীর মানববন্ধন

» গলাচিপা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ আহত ২৫

» মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহর পারিশ্রমিক ৩৫ লাখ টাকা করে

» শৈলকুপায় নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তলোন করায় নদী ভাঙ্গনের কবলে বসতভিটা

» ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান, গাঁজা ও ইয়াবাসহ চার জন গ্রেফতার

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটে জলাবদ্ধতা॥ দুর্ভোগে ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাট (পটুয়াখালী) থেকে॥ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা ঘাট নির্মান করায় পৌর এলাকার রাখাইন মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার প্রানকেন্দ্র আদিবাসী রাখাইন  সম্প্রদায়ের মহিলা মার্কেটের মাঠ বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই মাঠের পানি পচে দুর্গন্ধ হওয়ায়  পর্যটকসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে মাঠ টই টুম্বর । ভ্যান চালক ভ্যান চালিয়ে কাঁদা লাাগায় সে ওই পানিতে ভ্যান পরিস্কার করতে আছে। প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে কুয়াকাটার প্রানকেন্দ্র হিসেকে খ্যাত রাখাইন মহিলা মার্কেটের মাঠের অধিকাংশ পানিতে তলিয়ে থাকে । এ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থ না থাকায় পানি গুলো পচে দুর্গদ্ধের পাশাপাশি মশার সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় রোগ জীবানু। ওই মাঠের চার দিকে বিভিন্ন বস্ত্র বিতান, বিপনি,রাখাইন সম্প্রদায়ের মন্দির এবং আবাসিক হোটেল রয়েছে। প্রতিদিন শেষ বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার পর পর্যটকরা ওই মাঠে বসে বাড়তি সময় কাটাকেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ধসঢ়; রকমের রাখাইন কালচারাল অনুষ্টানসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্টান ওই মাঠে হয়ে থাকে ।

 

বর্তমানে ওই মাঠে জলাবদ্ধতার কারনে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাখাই সম্প্রদায়ের লোকেরা স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের কাছে জলাবদ্ধতার নিরসনের জন্য বার বার ধরনা ধরলেও আজ পর্যন্ত কোন সুফল পায়নি তারা। রাখাইন মার্কেটের পাশে রাখাইন অধ্যুষিত কেরানিপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী হোটেলের পর্যটকরা পচা দূর্গন্ধ নিয়ে বসবাস করছেন।শুধু রাখাইন মার্কেটই নয় বর্তমান পৌর ভবনের আশে পাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত কোন পরিকল্পনা না থাকায় এমন  জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কেরানী পাড়ার রাখাইন উসানে জানান, তার ছোট ছোট মেয়েরা না বুজে দূগন্ধযুক্ত পানিতে নামে এবং পানি নিয়ে খেলাধুলা করে। তিনি আতংকে  আছেন কখন এই পানি থেকে রোগের সৃষ্টি হয়।

 

ব্যবসায়ী মিলন জানান,পর্যটকরা কুয়াকাটা বীচে সব কিছু ঘুরে দেখার  পর বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার পর তেমন কোন কাজ না থাকায় অনেকেই ওই মাঠে  বসে বাকি সময় কাটানোর জন্য গিয়ে বসেন ও গল্প করে সময় পার করনে। মাঠে জলাবদ্ধতা বিষয় কথা হয় রাখাইন মাঠ সংলগ্ন ব্যবসায়ী চিংচাথন ও উসো মং বলেন, এ দুর্ভোগ এ বছরে নয় প্রতিবছর বর্ষা মওসুমেই বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি একটু কমে গেলেই পানিতে পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এ সময় রাতের চেয়ে দিনে মশার উপদ্রব বেশি থাকে । এ জন্য সারা দিন মশার কয়েল জ্বালিয়ে বেচাকেনা করতে হয়। তিনি আরো বলেন ৮০ শতাংশ জমি রাখাইন মার্কেট করার জন্য এলজিইডিকে আমরা ডিড দিয়েছে এবং কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসবসহ বাঙালিদের অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্টান এ মাঠেই হয়ে থাকে।

 

কেরানিপাড়ার এলাকার কাউন্সিলর তপু জানান, রাখাইন মার্কেটের পানি নিস্কাশনের জন্য আমরা পাইপ দিয়েছি কিন্তু পাইপের মুখে বালি জমা হওয়ার কারনে মুখ আটকে যায় এ জন্য পানি নেমে যেতে পারেনা। তাই আগামি অর্থবছরে মাঠ ভরাট করা হবে বলে আমাকে পৌর মেয়র জানিয়েছেন। এ ব্যাপরে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেব মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন মার্কেটের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতি বছর একটি প্রকল্পের ৭০ হাজার টাকার পাইপ কিনে রাস্তার নিচ দিয়ে পাড়ার মধ্যে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালানোর কারনে পাইপ ফেটে যায়। আগামি বছর জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৩ কিলোমিটার ড্রেন নির্মান করবে ওই সময় রাখাইন মার্কেটের জলাবদ্ধতার জন্য ড্রেন নির্মান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited