হামলা-বাঁধা ভুলে ফের রাজপথে শিক্ষার্থীরা

Spread the love

আগের দিনের হামলা-বাঁধা আর সব ভীতিকে পেছনে ফেলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অষ্টম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে ঢাকার বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকার দীর্ঘসময়ের জন্য নিশ্চল হয়ে পড়ে। রোববার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের আয়োজনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স ও মার্কেটিং বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগে যায় শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগে নিরাপদ সড়ক চেয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে অংশ নেয়। মুহূর্তেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে সাইন্সল্যাবে যান। দুপুর পৌনে একটার দিকে তারা মিছিল নিয়ে জিগাতলায় অবস্থান নেন। সেখানে তারা নিরাপদ সড়ক, বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়। জিগাতলায় অবস্থান নেয়ার পর শুরুতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ঘিরে ছিল। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়তে থাকে। পুলিশ এক পর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এরপর শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে ছড়িয়ে পড়েন। বাকিরা সাইন্স ল্যাব হয়ে শাহবাগে ফিরে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফার্মগেট এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের মিছিলে হামলা চালায়। মুহূর্তেই মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।আন্দোলনকারীরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে গেলে সেখানেও হামলা করা হয়। হামলাকারীরা ইউনিভার্সিটির ভবনের কাচ ভাঙচুর করেন। ১৫ মিনিট পর তারা চলে যান। তবে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে রামপুরা ব্রিজের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিল ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে বনশ্রীর রাজধানী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড্ডা থেকে রামপুরার দিকে আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের একটি মিছিল আসে। শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি এসে মিছিলটি থেমে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে লাঠি নিয়ে ধাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এছাড়া রামপুরা এলাকায় বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। তারা মেরুল-বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে এগোতে থাকেন। রামপুরা ব্রিজের কাছে তখন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইমপেরিয়াল কলেজ, খিলগাঁও ওমেন্স স্কুল ও কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান করছিলেন।

 

ওই যুবকদের দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনের গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নেয় পুলিশ। এ বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের একজন আহত হয়েছে, এমন গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল চারজন নিহত হওয়ার গুজবের কথাও তারা বলছে। আমরা তাদের লাঠিসোটা ফেলে রাস্তার এক প্রান্তে অবস্থান নিতে বলেছি। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায়ও সকাল থেকে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। হাউজ বিল্ডিং এলাকার আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সেখানে যুক্ত হয়।

 

দুপুর ১টার দিকে হাউজ বিল্ডিং এলাকার গোলচত্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে কয়েকজনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। বিকাল ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হাতে লাঠিসোটা ও রড নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। ঘটনাস্থলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ হাউস বিল্ডিং থেকে জসীমউদ্দীন হয়ে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

 

উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মাদ্রাসার টাকা যেত প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে

» ঝিনাইদহে হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী আ’লীগ কর্মীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

» নওগাঁয় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে পান্তা-ইলিশ উৎসব

» গ্রাম আদালত বিষয়ক বাৎসরিক রিভিউ সভা অনুষ্ঠিত গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে

» কোটি জেলের বেকারত্বের আশংকা: ভরা মৌসুমে সমুদ্রে ৬৫দিন অবরোধের প্রতিবাদে মাঠে নামছেন জেলেরা

» শার্শায় প্রতিপক্ষের আঘাতে দম্পত্তি আহত মামলা না করার হুমকি

» সিরাজগঞ্জে ভাবীকে বিয়ে করল ছোট ভাই, বউ ফিরে পেতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

» দশমিনায় ১৫ জেলের জেল ১লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ

» গলাচিপায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৫তলাএকাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

» দশমিনা-উলানিয়া সড়ক না যেন মরণ ফাঁদ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হামলা-বাঁধা ভুলে ফের রাজপথে শিক্ষার্থীরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

আগের দিনের হামলা-বাঁধা আর সব ভীতিকে পেছনে ফেলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অষ্টম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে ঢাকার বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকার দীর্ঘসময়ের জন্য নিশ্চল হয়ে পড়ে। রোববার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের আয়োজনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স ও মার্কেটিং বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগে যায় শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগে নিরাপদ সড়ক চেয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে অংশ নেয়। মুহূর্তেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে সাইন্সল্যাবে যান। দুপুর পৌনে একটার দিকে তারা মিছিল নিয়ে জিগাতলায় অবস্থান নেন। সেখানে তারা নিরাপদ সড়ক, বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়। জিগাতলায় অবস্থান নেয়ার পর শুরুতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ঘিরে ছিল। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়তে থাকে। পুলিশ এক পর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এরপর শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে ছড়িয়ে পড়েন। বাকিরা সাইন্স ল্যাব হয়ে শাহবাগে ফিরে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, একদল শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফার্মগেট এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারি এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের মিছিলে হামলা চালায়। মুহূর্তেই মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।আন্দোলনকারীরা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে গেলে সেখানেও হামলা করা হয়। হামলাকারীরা ইউনিভার্সিটির ভবনের কাচ ভাঙচুর করেন। ১৫ মিনিট পর তারা চলে যান। তবে তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে রামপুরা ব্রিজের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিল ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে বনশ্রীর রাজধানী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড্ডা থেকে রামপুরার দিকে আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের একটি মিছিল আসে। শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি এসে মিছিলটি থেমে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে লাঠি নিয়ে ধাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এছাড়া রামপুরা এলাকায় বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। তারা মেরুল-বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোটা নিয়ে এগোতে থাকেন। রামপুরা ব্রিজের কাছে তখন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইমপেরিয়াল কলেজ, খিলগাঁও ওমেন্স স্কুল ও কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান করছিলেন।

 

ওই যুবকদের দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনের গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নেয় পুলিশ। এ বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের একজন আহত হয়েছে, এমন গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল চারজন নিহত হওয়ার গুজবের কথাও তারা বলছে। আমরা তাদের লাঠিসোটা ফেলে রাস্তার এক প্রান্তে অবস্থান নিতে বলেছি। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায়ও সকাল থেকে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। হাউজ বিল্ডিং এলাকার আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সেখানে যুক্ত হয়।

 

দুপুর ১টার দিকে হাউজ বিল্ডিং এলাকার গোলচত্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে কয়েকজনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতাদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটে। বিকাল ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা হাতে লাঠিসোটা ও রড নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। ঘটনাস্থলে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভ হাউস বিল্ডিং থেকে জসীমউদ্দীন হয়ে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

 

উল্লেখ্য, ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় নিহত হন মিম ও করিম নামে দুই শিক্ষার্থী। ওই দুর্ঘটনায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহতও হন। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited