শ্রীমঙ্গলে স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশের উপর ঘরের আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তার স্ত্রী শিরিন

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: শ্রীমঙ্গলে মাকে অন্যত্র রেখে স্ত্রীর সাথে থাকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারুকুল ইসলামকে হত্যা করেন তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, স্ত্রীর বড় ভাই ইউনুস হোসেন সুজন ও শাশুড়ি মালেকা বেগম।

 

দুই বছরের একমাত্র মেয়ে ফাইজা তাবাছুম রাহা’র সামনে এ নির্মম হত্যাকান্ডটি ঘটে। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে দেখাতে মেঝেতে শুইয়ে লাশের উপর ঘরের আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তার স্ত্রী শিরিন। হত্যাকান্ড চলা কালে শ^াশুড়ী মালেকা বেগম বাসার বাহিরে দাঁড়িয়ে কেউ আসে কি না তা পাহারা দেয়। বাসার মালামাল সরাতে গিয়ে দূর্ঘটনায় মারা গেছেন ফারুকুল বলে চিৎকার করেন স্ত্রী শিরিন। পিবিআইর তদন্তে ফারুকুল ইসলাম হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

এজাহার সুত্রে জানাযায়, নিহত ফারুকুল ইসলামের মা জয়না বেগম গত ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীমঙ্গল থানায় ছেলে হত্যার দায়ে স্ত্রী শিরিন আক্তার (২৫) সহ আরো ২/৩ জন অজ্ঞাত নামাদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ কামাল উদ্দিন মামলার একমাত্র ফরুকুলের স্ত্রী শিরিন আক্তার (২৫) কে অভিযুক্ত করে গত ৩১/১০/২০১৭ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদী উক্ত রিপোর্টের উপর আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে আদালত বাদীনির না-রাজী গ্রহন করে অধিকতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিবিআই, মৌলভীবাজারকে নির্দেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ গত ১ মার্চ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম, কে তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

সোর্স নিয়োগ করে ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে গত ৩০ মে হবিগঞ্জ জেলা শায়েস্তাগঞ্জ বিশ্বরোড হতে শিরীন আক্তারের আপন ভাই মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে গত ১ জুন বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিম ফারুকুল ইসলামকে হত্যার বর্ননা দিয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যলয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান- ৩ বছর মন দেয়া নেয়ার পর নিহত ফারুকুল ইসলাম ২০১০ সালে ৯ নভেম্বর আসামী শিরিন আক্তারকে বিবাহ করেন। নিহত ফারুকুল একজন সিএনজি পাম্প এর মেকানিক ছিলেন। এই ছাড়া তার ১টি মাইক্রবাস ও একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। মাইক্রবাসটি যা তিনি ভাড়া খাটাতেন এবং প্রাইভেটকারে তিনি নিজে চলতেন। স্ত্রী শিরিন আক্তারের পরিবারের আর্থিক অবস্থার অসচ্ছল থাকায় ভিকটিম আসামীর পরিবারকে আর্থিক সহ অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে উক্ত পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজনকে শায়েস্তাগঞ্জ জি.এস ব্রাদার সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে নজেল ম্যান হিসেবে চাকুরী দেয়। দাম্পত্য জীবনে ফাইজা তাবাছুম রাহা নামে একজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

বিবাহের পর হইতে নিহত ফারুকুল ইসলাম এর স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ফারুকুলের মা অত্র মামলার বাদীনি জয়না বেগমকে নিয়ে একত্রে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু শিরিন আক্তার ভিকটিমের মা তাদের সাথে থাকুক তা সহ্য করতে না পারাসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারনে ফারুকুলের সাথে স্ত্রী শিরিন আক্তারের মতবিরোধ দেখা দেয়। উক্ত বিরোধ নিস্পিত্তি কল্পে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। পরবর্তীতে ফারুকুল স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তার কন্যা সন্তাকে নিয়ে বিরামপুর সুরভীপাড়া রহিম লন্ডনীর বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস শুরু করে। ফারুকুল দীর্ঘ দিন তার মাকে ছেড়ে আলাদা ভাবে বসবাস করা মনে মনে মেনে নিতে পারেন নি। তাই ফারুকুল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে পুনরায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে তার মাতা জয়না বেগমের সহিত নিজ বাড়ী নোয়াগাঁও সাকিনে বসবাসের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। উক্ত সিদ্ধান্ত স্ত্রী শিরিন আক্তার সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেননি।

 

ফলে এ বিষয় নিয়ে পূনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। স্ত্রী শিরিন আক্তার প্রথমে ফারুকুলকে বুঝানোর চেষ্টা করেন, এতে ভিকটিম রাজী না হলে তার মা মালেকা বেগম ও ভাই মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজনকে দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক গত ২৪/০৭/২০১৮ তারিখে সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার সময় তার ভাই মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন ও শাশুরী মালেকা বেগম ফরুকুলের ভাড়াটিয়া বাসায় আসে। বাসায় এসে মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন, মালেকা বেগম ও শিরিন আক্তার বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে পূনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করিলে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকিলে মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজন ভিকটিমের সামনে থেকে জোরে গলা চেপে ধরে দেওয়ালের পাশে থাকা সেলাই মেশিনের উপর আছাড় মারে ও ঝাপটে ধরে ফরুকুলের মুখ মন্ডলে ৩/৪ টি বক্সিং মারে। এতে ফরুকুল কিছু দূর সরে গিয়ে প্রতিহিত করার চেষ্টা করিলে ফরুকুলের স্ত্রী শিরিন আক্তারের হাতে থাকা স্ট্রীলের ট্রে দিয়ে তাকে ২/৩ টি বাড়ী মারে।

 

এতে মুখমন্ডল ও মাথা রক্তাক্ত হলে মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন প্রথমে সেলাই মেশিনটি উপরে তুলে ফরুকুলের মুখ মন্ডলের উপর ছুড়ে মারেও রান্নাঘরের খালি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আঘাত করে। ক্রমাগত আঘাতের কারনে ফরুকুলের মাথা ও মুখমন্ডল থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে নিঁেস্তজ হয়ে যায়। মৃত্যু নিঁিশ্চত করে শিরিন আক্তারের সহযোগিতায় ফরুকুকে মেঝেতে শুইয়ে তার উপর বিছানার আসবাব পত্র সোফার কুশন সহ অন্যান্য আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। পুরো ঘটনার সময় শিরিনের মা মালেকা বেগম বাসার বাহিরে দাড়িয়ে কেউ আসে কি না তা পাহারা দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে শ^াশুরী মালেকা বেগম ফরুকুলের মেয়েকে কোলে নিয়ে ও মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন কে বাসা থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য স্ত্রী শিরিন আক্তার গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাগেরহাটে ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

» এবার রংপুরে অসহায় কৃষকদের ধান কাটছেন কলেজের ছাত্রীরা

» কলাপাড়া হাসপাতালে নানা সমস্যা নিয়ে কথা বললেন ডা: চিন্ময়

» নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট ঘোষণা

» বান্দরবানে যেীথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ র্শীষ সন্ত্রাসী আটক

» গলাচিপায় উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

» বান্দরবানের শান্তিকে বিনষ্ট করতে হত্যা কান্ড ও অপহরন চালাচ্ছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনী বলেন : আ’নেএীবৃন্দ

» মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশের ইফতার মাহফিল

» রাণীনগরে ধানের মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বিএনপি’র মানব বন্ধন

» নওগাঁয় গাছ থেকে ঝড়ে পড়া আম থেকে নানা রকমের আচাড় ও সুস্বাদু খাবার তৈরীতে উদ্যোমী গ্রামীন নারীরাগ্রামীন নারীরা: অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com



আজ শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে স্বামীর মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশের উপর ঘরের আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তার স্ত্রী শিরিন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: শ্রীমঙ্গলে মাকে অন্যত্র রেখে স্ত্রীর সাথে থাকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারুকুল ইসলামকে হত্যা করেন তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, স্ত্রীর বড় ভাই ইউনুস হোসেন সুজন ও শাশুড়ি মালেকা বেগম।

 

দুই বছরের একমাত্র মেয়ে ফাইজা তাবাছুম রাহা’র সামনে এ নির্মম হত্যাকান্ডটি ঘটে। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে দেখাতে মেঝেতে শুইয়ে লাশের উপর ঘরের আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তার স্ত্রী শিরিন। হত্যাকান্ড চলা কালে শ^াশুড়ী মালেকা বেগম বাসার বাহিরে দাঁড়িয়ে কেউ আসে কি না তা পাহারা দেয়। বাসার মালামাল সরাতে গিয়ে দূর্ঘটনায় মারা গেছেন ফারুকুল বলে চিৎকার করেন স্ত্রী শিরিন। পিবিআইর তদন্তে ফারুকুল ইসলাম হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

এজাহার সুত্রে জানাযায়, নিহত ফারুকুল ইসলামের মা জয়না বেগম গত ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই শ্রীমঙ্গল থানায় ছেলে হত্যার দায়ে স্ত্রী শিরিন আক্তার (২৫) সহ আরো ২/৩ জন অজ্ঞাত নামাদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ কামাল উদ্দিন মামলার একমাত্র ফরুকুলের স্ত্রী শিরিন আক্তার (২৫) কে অভিযুক্ত করে গত ৩১/১০/২০১৭ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বাদী উক্ত রিপোর্টের উপর আদালতে না-রাজী দাখিল করিলে আদালত বাদীনির না-রাজী গ্রহন করে অধিকতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিবিআই, মৌলভীবাজারকে নির্দেশ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশ গত ১ মার্চ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম, কে তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

সোর্স নিয়োগ করে ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে গত ৩০ মে হবিগঞ্জ জেলা শায়েস্তাগঞ্জ বিশ্বরোড হতে শিরীন আক্তারের আপন ভাই মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজন (২৭) কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে গত ১ জুন বিজ্ঞ আদালতে ভিকটিম ফারুকুল ইসলামকে হত্যার বর্ননা দিয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যলয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান- ৩ বছর মন দেয়া নেয়ার পর নিহত ফারুকুল ইসলাম ২০১০ সালে ৯ নভেম্বর আসামী শিরিন আক্তারকে বিবাহ করেন। নিহত ফারুকুল একজন সিএনজি পাম্প এর মেকানিক ছিলেন। এই ছাড়া তার ১টি মাইক্রবাস ও একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। মাইক্রবাসটি যা তিনি ভাড়া খাটাতেন এবং প্রাইভেটকারে তিনি নিজে চলতেন। স্ত্রী শিরিন আক্তারের পরিবারের আর্থিক অবস্থার অসচ্ছল থাকায় ভিকটিম আসামীর পরিবারকে আর্থিক সহ অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে উক্ত পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজনকে শায়েস্তাগঞ্জ জি.এস ব্রাদার সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে নজেল ম্যান হিসেবে চাকুরী দেয়। দাম্পত্য জীবনে ফাইজা তাবাছুম রাহা নামে একজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

 

বিবাহের পর হইতে নিহত ফারুকুল ইসলাম এর স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ফারুকুলের মা অত্র মামলার বাদীনি জয়না বেগমকে নিয়ে একত্রে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু শিরিন আক্তার ভিকটিমের মা তাদের সাথে থাকুক তা সহ্য করতে না পারাসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারনে ফারুকুলের সাথে স্ত্রী শিরিন আক্তারের মতবিরোধ দেখা দেয়। উক্ত বিরোধ নিস্পিত্তি কল্পে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। পরবর্তীতে ফারুকুল স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তার কন্যা সন্তাকে নিয়ে বিরামপুর সুরভীপাড়া রহিম লন্ডনীর বাড়ীতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস শুরু করে। ফারুকুল দীর্ঘ দিন তার মাকে ছেড়ে আলাদা ভাবে বসবাস করা মনে মনে মেনে নিতে পারেন নি। তাই ফারুকুল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে পুনরায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে তার মাতা জয়না বেগমের সহিত নিজ বাড়ী নোয়াগাঁও সাকিনে বসবাসের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। উক্ত সিদ্ধান্ত স্ত্রী শিরিন আক্তার সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেননি।

 

ফলে এ বিষয় নিয়ে পূনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। স্ত্রী শিরিন আক্তার প্রথমে ফারুকুলকে বুঝানোর চেষ্টা করেন, এতে ভিকটিম রাজী না হলে তার মা মালেকা বেগম ও ভাই মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজনকে দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক গত ২৪/০৭/২০১৮ তারিখে সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার সময় তার ভাই মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন ও শাশুরী মালেকা বেগম ফরুকুলের ভাড়াটিয়া বাসায় আসে। বাসায় এসে মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন, মালেকা বেগম ও শিরিন আক্তার বাসা ছেড়ে দেওয়া নিয়ে পূনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করিলে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকিলে মোঃ ইউনুছ হোসেন সুজন ভিকটিমের সামনে থেকে জোরে গলা চেপে ধরে দেওয়ালের পাশে থাকা সেলাই মেশিনের উপর আছাড় মারে ও ঝাপটে ধরে ফরুকুলের মুখ মন্ডলে ৩/৪ টি বক্সিং মারে। এতে ফরুকুল কিছু দূর সরে গিয়ে প্রতিহিত করার চেষ্টা করিলে ফরুকুলের স্ত্রী শিরিন আক্তারের হাতে থাকা স্ট্রীলের ট্রে দিয়ে তাকে ২/৩ টি বাড়ী মারে।

 

এতে মুখমন্ডল ও মাথা রক্তাক্ত হলে মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন প্রথমে সেলাই মেশিনটি উপরে তুলে ফরুকুলের মুখ মন্ডলের উপর ছুড়ে মারেও রান্নাঘরের খালি গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে আঘাত করে। ক্রমাগত আঘাতের কারনে ফরুকুলের মাথা ও মুখমন্ডল থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে নিঁেস্তজ হয়ে যায়। মৃত্যু নিঁিশ্চত করে শিরিন আক্তারের সহযোগিতায় ফরুকুকে মেঝেতে শুইয়ে তার উপর বিছানার আসবাব পত্র সোফার কুশন সহ অন্যান্য আসবাব পত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে। পুরো ঘটনার সময় শিরিনের মা মালেকা বেগম বাসার বাহিরে দাড়িয়ে কেউ আসে কি না তা পাহারা দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে শ^াশুরী মালেকা বেগম ফরুকুলের মেয়েকে কোলে নিয়ে ও মোঃ ইউনুস হোসেন সুজন কে বাসা থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য স্ত্রী শিরিন আক্তার গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ







সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited