কুয়াকাটায় এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়- ১ কেজি মিষ্টিও বিক্রি হয়নি এবছর

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) থেকে॥ সদ্য প্রকাশিত এস এস সি পরিক্ষায় পর্যটন নগরী কুয়াকাটাসহ মহিপুর থানা এলাকার স্কুল গুলোতে রেজাল্ট বিপর্যয়ে হতাশ হয়ে পরেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

 

এসএসসি পরিক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে মিষ্টির দোকানীরা অতিরিক্ত মিষ্টি তৈরী করে রাখলেও ১ কেজি মিষ্টিও বিক্রি হয়নি এবছর। এমন ফল বিপর্যয়ে ভেঙ্গে পরেছেন অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও। সারা বছর শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য মাসে মাসে অতিরিক্ত টাকা খরচসহ শিক্ষকদের সমাদর,ভুরিভোজ কোন কিছুই কাজে আসেনি। অভিভাবকদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে মানসম্মত ফলাফল করলেও মহিপুর থানা এলাকার স্কুল গুলোতে এমন ফল বিপর্যয়ে স্কুল গুলোর লেখাপড়ার মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

এহেন ফল বিপর্যয়ের পক্ষে বিপক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। অন্যদিকে কুয়াকাটার মিষ্টির দোকানী গোবিন্দ ঘোষ জানান,পরিক্ষার ফল প্রকাশের প্রতিবছর মনকে মন মিষ্টি বিক্রি করলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১ কেজি মিষ্টি বিক্রি করতে পারেনি। কুয়াকাটা পৌর এলাকার একমাত্র স্কুল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১০ জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়েছেন, সেখানে পাশ করেছে মাত্র ৩৮জন। লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ৬২ জন,পাশ করেছে ২৫জন। ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ৮৮ জন,পাশ করেছে ৩৯ জন। মহিপুর থানা সদরে অবস্থিত কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ১৯৩ জন,পাশ করেছে ১২৯ জন। ধুলাস্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮৬ জন পরিক্ষা দিয়েছেন পাশ করেছে ৪৮ জন।

 

মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে গড়ে ৪০% ভাগ পাশ করেছে। এ প্লাস কিংবা জিপিএ-৫ পায়নি কোন শিক্ষার্থীই। অপর দিকে দাখিল মাদ্রাসা গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে ফলাফল বিপর্যয় ঘটলেও মাদ্রাসা গুলোতে ৭০ থেকে ৮০% পাশ করেছে। এমন ফলাফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। রোববার ফল প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষকদের নিয়ে সভা ডেকে ফল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা চাইবেন।

 

কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোঃ নজরুল দফাদার,আলমগীর হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক এমন রেজাল্ট বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের দ্বায়ী করেছেন। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,শিক্ষকদের সরকার বেতন ভাতা বাড়িয়ে দ্বিগুন করলেও শিক্ষার মান বাড়াতে তাদের ভিতর তেমন কোন উদ্দিপনা দেখা যায় না। ক্লাসে না পড়িয়ে একেক জন শিক্ষক ৪০-৫০জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনুচ্ছক একাধিক অভিভাবক বলেন, মুল বই না পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনায় উৎসাহিত করছেন এবং শিক্ষকরাও গাইড বই দিয়ে পড়াচ্ছেন,যার ফলে প্রশ্নের ধরণ বুঝতে না পারায় রেজাল্ট বিপর্যয় হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

 

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ভাবে প্রস্ততি নিয়েছে সেই অনুযায়ী ফলাফল করেছে। তবে সৃজনশীল প্রশ্ন বুঝতে না পারার কারণকেও ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান,যে সকল স্কুল গুলোতে খারাপ ফলাফল করেছে তাদেরকে নিয়ে খুব শীগ্রই বসা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মৌলভীবাজারে মহিলা সমাবেশ

» বান্দরবানে শ্রী শ্রী রামঠাকুরের ১৫৯ তম আবির্ভাব উৎসব উদ্যাপিত

» বান্দরবানে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এাণ বিতরন করেছে বান্দরবান সেনাবাহিনীর ২৬ বীর

» কলাপাড়ায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করলেন এমপি মহিব

» রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নাই: যুবলীগ চেয়ারম্যাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী

» জা‌বি‌তে ঠাকুরগাঁও জেলা স‌মি‌তির মানববন্ধন

» প্রধানমন্ত্রীর অবসর সিদ্ধান্তে যা বলছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান

» বেনাপোল পুটখালী সীমান্তে ১৪ পিস স্বর্ণের বারসহ আটক-১

» ঝিনাইদহে মুসা মিয়া বুদ্ধি বিকাশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ঢাকা রোটারি ক্লাবের কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

» মুক্তিযুদ্ধের পর আরেক যুদ্ধ জয়! বীরাঙ্গণার স্বীকৃতি পেলেন ঝিনাইদহের ২ নারী

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়- ১ কেজি মিষ্টিও বিক্রি হয়নি এবছর

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

আনোয়ার হোসেন আনু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) থেকে॥ সদ্য প্রকাশিত এস এস সি পরিক্ষায় পর্যটন নগরী কুয়াকাটাসহ মহিপুর থানা এলাকার স্কুল গুলোতে রেজাল্ট বিপর্যয়ে হতাশ হয়ে পরেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

 

এসএসসি পরিক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে মিষ্টির দোকানীরা অতিরিক্ত মিষ্টি তৈরী করে রাখলেও ১ কেজি মিষ্টিও বিক্রি হয়নি এবছর। এমন ফল বিপর্যয়ে ভেঙ্গে পরেছেন অভিভাবক এবং শিক্ষকরাও। সারা বছর শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য মাসে মাসে অতিরিক্ত টাকা খরচসহ শিক্ষকদের সমাদর,ভুরিভোজ কোন কিছুই কাজে আসেনি। অভিভাবকদের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের। সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে মানসম্মত ফলাফল করলেও মহিপুর থানা এলাকার স্কুল গুলোতে এমন ফল বিপর্যয়ে স্কুল গুলোর লেখাপড়ার মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

এহেন ফল বিপর্যয়ের পক্ষে বিপক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। অন্যদিকে কুয়াকাটার মিষ্টির দোকানী গোবিন্দ ঘোষ জানান,পরিক্ষার ফল প্রকাশের প্রতিবছর মনকে মন মিষ্টি বিক্রি করলেও এ বছর এখন পর্যন্ত ১ কেজি মিষ্টি বিক্রি করতে পারেনি। কুয়াকাটা পৌর এলাকার একমাত্র স্কুল বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১০ জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়েছেন, সেখানে পাশ করেছে মাত্র ৩৮জন। লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর একে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ৬২ জন,পাশ করেছে ২৫জন। ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ৮৮ জন,পাশ করেছে ৩৯ জন। মহিপুর থানা সদরে অবস্থিত কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিক্ষা দিয়েছে ১৯৩ জন,পাশ করেছে ১২৯ জন। ধুলাস্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮৬ জন পরিক্ষা দিয়েছেন পাশ করেছে ৪৮ জন।

 

মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে গড়ে ৪০% ভাগ পাশ করেছে। এ প্লাস কিংবা জিপিএ-৫ পায়নি কোন শিক্ষার্থীই। অপর দিকে দাখিল মাদ্রাসা গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে ফলাফল বিপর্যয় ঘটলেও মাদ্রাসা গুলোতে ৭০ থেকে ৮০% পাশ করেছে। এমন ফলাফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। রোববার ফল প্রকাশের পরদিন মঙ্গলবার কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষকদের নিয়ে সভা ডেকে ফল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা চাইবেন।

 

কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মোঃ নজরুল দফাদার,আলমগীর হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক এমন রেজাল্ট বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের দ্বায়ী করেছেন। অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,শিক্ষকদের সরকার বেতন ভাতা বাড়িয়ে দ্বিগুন করলেও শিক্ষার মান বাড়াতে তাদের ভিতর তেমন কোন উদ্দিপনা দেখা যায় না। ক্লাসে না পড়িয়ে একেক জন শিক্ষক ৪০-৫০জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনুচ্ছক একাধিক অভিভাবক বলেন, মুল বই না পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনায় উৎসাহিত করছেন এবং শিক্ষকরাও গাইড বই দিয়ে পড়াচ্ছেন,যার ফলে প্রশ্নের ধরণ বুঝতে না পারায় রেজাল্ট বিপর্যয় হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

 

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ভাবে প্রস্ততি নিয়েছে সেই অনুযায়ী ফলাফল করেছে। তবে সৃজনশীল প্রশ্ন বুঝতে না পারার কারণকেও ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান,যে সকল স্কুল গুলোতে খারাপ ফলাফল করেছে তাদেরকে নিয়ে খুব শীগ্রই বসা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited