এবার কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে রিট হচ্ছে হাইকোর্টে

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও আদিবাসী সংগঠনগুলো।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালতে গেলে কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত টিকবে না। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক হয়, এমন কিছু উচ্চ আদালত গ্রহণ করেন না।

 

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে সুযোগের সমতা অংশের ১৯-এর (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ একইভাবে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা অংশের ২৯-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমতা থাকিবে।’ অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

 

অনুচ্ছেদ (৩)-এ ‘এই অনুচ্ছেদের কোন কিছু—(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে, (খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মালম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধানসংবলিত যে কোন আইন কার্যকরা করা হইতে, (গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

 

সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের (উপজাতি) জন্য শতকরা ৫ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অধিকার খর্ব অর্থাৎ যদি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।

 

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী গতকাল বলেন, এক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর দাবির মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সব কোটা প্রথা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৩০ ভাগ কোটা বহাল করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। শেষ পর্যন্ত এটা বাতিল করা হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।এদিকে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ আহ্বান করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

সর্বশেষ আপডেট



» বাগেরহাটে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» রাজাপুরে মা ইলিশ আহরন নিষিদ্ধ বিষয়ক মাসিক আইন শৃংখলার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

» বেনাপোল শহরবাসীর স্যানিটেশন বিষয়ক আপসারন পর্যালোচনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

» দশমিনায় বীজবর্ধন খামার তেঁতুলিয়ার নদী গিলে ঘাচ্ছে

» শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে অনন্য: এনামুল হক শামীম

» দশমিনায় রাকিব হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

» কি আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে? কেন এতো উদ্বেগ?

» আসুন সর্বোচ্চ সুবিধা দেব : মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

» ফতুল্লায় ছিচকে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

» গোপালগঞ্জে ১৭টি দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এবার কোটা বাতিলের বিরুদ্ধে রিট হচ্ছে হাইকোর্টে

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ও আদিবাসী সংগঠনগুলো।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আদালতে গেলে কোটা পদ্ধতি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত টিকবে না। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক হয়, এমন কিছু উচ্চ আদালত গ্রহণ করেন না।

 

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে সুযোগের সমতা অংশের ১৯-এর (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ একইভাবে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা অংশের ২৯-এর (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সমতা থাকিবে।’ অনুচ্ছেদ (২)-এ বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।

 

অনুচ্ছেদ (৩)-এ ‘এই অনুচ্ছেদের কোন কিছু—(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে, (খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়গত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মালম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধানসংবলিত যে কোন আইন কার্যকরা করা হইতে, (গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে, রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

 

সংবিধানের ৭-এর (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল হইবে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের (উপজাতি) জন্য শতকরা ৫ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অধিকার খর্ব অর্থাৎ যদি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।

 

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী গতকাল বলেন, এক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর দাবির মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সব কোটা প্রথা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের শতকরা ৩০ ভাগ কোটা বহাল করেন। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আপত্তি নেই। শেষ পর্যন্ত এটা বাতিল করা হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।এদিকে কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রতিবাদে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ আহ্বান করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited