পলাশকে নিয়ে চিন্তিত শামীম: সুবিধাজনক স্থানে শাহআলম

কুয়াকাটা নিউজ:- ঢাকার অত্যান্ত নিকটতম নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটি প্রায় সাত লক্ষাধীক ভোটারের অধ্যুষিত এলাকা। এ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পেতে বহু আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ।

 

তারা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিসহ নানা সামাজিক কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার হয়েই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রার্থীরা।

 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেএম শামীম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজের বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে কেন্দ্রে ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আগের অবস্থান হারিয়েছেন শামীম ওসমান। ঘনিষ্ঠজনরা এক এক করে সরে যাওয়ার ফলে শহরে তাঁর ব্যবসায়িক এবং আধিপত্যের জায়গাগুলো অনেকটাই দূর্বল হয়ে পরেছে।

 

শামীম ওসমানের সাথে ইতিমধ্যেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা সহ আরো অনেক একনিষ্ঠ সমর্থকেরা।

 

এ ছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদা মালা ও ইয়াসমিন চৌধুরীও শামীমের কাছ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ পর্যন্ত সব হজম করলেও যুব মহিলা লীগের জেলা কমিটিতে বাগড়া দিয়েছেন শামীম ওসমান। গত বছরের মে মাসে ইয়াসমিন চৌধুরীকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও নুরুন নাহারকে মহানগরের আহ্বায়ক করে কমিটি করে দেয় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ। কিন্তু শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে ১৩ দিনের মাথায় কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর শামীমের পছন্দে সাদিয়া আফরিনকে জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও সুইটি ইয়াসমিনকে মহানগরীর আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

 

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে শামীম ওসমান ১ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এরপর থেকেই মূলত তাদের দুজনের রাজনৈতিক দ্বন্ধ ব্যক্তিগত পর্যায়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০১৬ সালে শামীম ওসমান আর দলীয় মনোনয়ন পাননি। জনমতে হেরে যাওয়া এবং বারবার বিতর্কে জড়ানোয় কেন্দ্রে গুরুত্ব কমেছে শামীম ওসমানের।

 

এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো দুই জন রয়েছে। তারা হলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান নিজের লোক হওয়ায় তাকে নিয়ে তেমন একটা ভাবছেন না শামীম ওসমান। মজিবুরকে যেভাবে বলবেন, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন বলে বিশ্বাস শামীম ওসমানের।

 

তবে কাউসার আহমেদের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় ভাবিয়ে তুলেছে শামীম ওসমানকে, এমনটাই ধারনা করছেন দলের শীর্ষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীর। কারন, একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে পলাশের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও ক্লিন ইমেইজ। তিনি বর্তমানে দানবীর হিসেবেও খ্যাত হয়েছেন। বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা প্রদান সহ শ্রমিকদের কল্যাণে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ফলে, ফতুল্লার এক তীতৃয়াংশ জনসর্মথক আজ তার দখলে। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাটাও কম নয়। তাই, এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ভিতরে ভিতরে চলছে চরম কোন্দল। ইতিমধ্যেই সেই কোন্দল অনেকটা প্রকাশ্যে রূপ নিতে শুরু করেছে।

 

সম্প্রতি সময়ে দৈনিক যুগান্তর সহ কয়েকটি পত্রিকায় পলাশকে নূর হোসেনের মত গডফাদার আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায়, তিনি অভিযোগ করেছিলেন নির্বাচনে অংশগ্রহন করার ইচ্ছাপোষনের কারণেই তাকে একটি কুচক্রিমহল গডফাদার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি যেন দলীয় মনোনয়ন না পান এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য উঠেপরে লেগেছে একটি মহল। তারা পলাশকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

 

এদিকে, পলাশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মানববন্ধন সহ বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। তারা এ অপপ্রচার বন্ধ ও সংবাদ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করে বলেছিলেন, একজন গডফাদারের নির্দেশেই পলাশকে গডফাদার বানানো চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এও বলেছে যে, যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা: আইভিকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিলো তাদের ইন্দনেই সাংবাদিকরা এ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এ নিয়ে চলছে সরগরম অবস্থা।

 

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির চারজন নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তারা হলেন, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম, বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার পারভেজ আহম্মেদ।

 

শাহ আলম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে মাত্র আড়াইশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে বিএনপি মনে করে শাহআলমকে জোর করে হারানো হয়েছিল। নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে শাহ আলমের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

 

অধ্যাপক মামুন নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তিনি ক্লিন ইমেজের এবং সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত।

 

সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন সংগ্রামে ধারাবাহিক ভূমিকা পালনের কারণে ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে ক্রমান্বয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেছেন। দলের উচ্চ পর্যায় তার সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের কথা জানেন।

 

অপরদিকে গিয়াস উদ্দিন অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেসময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী দখল, ভূমি দখল, দলীয় কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে  ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি কৃষকলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। বারবার দল বদলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ গিয়াস উদ্দিন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ২০১০ সালে ১৫ আগস্টের কর্মসূচিও পালন করেছেন।

 

শুধু তাই নয়, গেলো ৮ বছরে বিএনপি ঘোষিত কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে একবারের জন্যও তাকে রাজপথে দেখা যাননি। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতেও যাননি তিনি। সর্বশেষ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলের চেয়ারপার্সনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সঠিকভাবে কাজ করেননি গিয়াসউদ্দিন। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। এসব কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা এখন নড়বড়ে।

 

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে শাহ আলমই এগিয়ে রয়েছেন। তার পরের অবস্থান অধ্যাপক মামুন মাহমুদের। মামুন মাহমুদ ও শাহ আলমের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা। আর এ দুই শক্তিশালী নেতার সঙ্গেই রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের চরম বৈরিতা।

 

অন্যদিকে, এ আসনে  জাতীয় পার্টির নেতা খোকা মোল্লা তার দলের কাছে এবারো মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানাগেছে। তিনি গতবার এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

 

তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জানাগেছে, খোকা মোল্লা সদর উপজেলা যে কমিটি গঠন করেছিলো, তা সম্পূর্ন অবৈধ। এ অবৈধ কমিটি নিয়ে তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমিনুল হক প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জাতীয় পার্টির যে কমিটি খোকা মোল্লা গঠন করেছেন, এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে আমাদের এমপি সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাথে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আমাদের কমিটি ছাড়া আর কোন কমিটি নাই। তাহলে, এ থেকেই প্রমানিত হয়, খোকা মোল্লার কমিটি অবৈধ। আগামীতে জাতীয় পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে খোকা মোল্লাকে এই অবৈধ কমিটি নিয়ে কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

সর্বশেষ আপডেট



» বাগেরহাটে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» রাজাপুরে মা ইলিশ আহরন নিষিদ্ধ বিষয়ক মাসিক আইন শৃংখলার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

» বেনাপোল শহরবাসীর স্যানিটেশন বিষয়ক আপসারন পর্যালোচনা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

» দশমিনায় বীজবর্ধন খামার তেঁতুলিয়ার নদী গিলে ঘাচ্ছে

» শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে অনন্য: এনামুল হক শামীম

» দশমিনায় রাকিব হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

» কি আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে? কেন এতো উদ্বেগ?

» আসুন সর্বোচ্চ সুবিধা দেব : মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

» ফতুল্লায় ছিচকে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

» গোপালগঞ্জে ১৭টি দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পলাশকে নিয়ে চিন্তিত শামীম: সুবিধাজনক স্থানে শাহআলম

কুয়াকাটা নিউজ:- ঢাকার অত্যান্ত নিকটতম নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটি প্রায় সাত লক্ষাধীক ভোটারের অধ্যুষিত এলাকা। এ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পেতে বহু আগে থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ।

 

তারা নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিসহ নানা সামাজিক কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার হয়েই কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রার্থীরা।

 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেএম শামীম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজের বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে কেন্দ্রে ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে আগের অবস্থান হারিয়েছেন শামীম ওসমান। ঘনিষ্ঠজনরা এক এক করে সরে যাওয়ার ফলে শহরে তাঁর ব্যবসায়িক এবং আধিপত্যের জায়গাগুলো অনেকটাই দূর্বল হয়ে পরেছে।

 

শামীম ওসমানের সাথে ইতিমধ্যেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা সহ আরো অনেক একনিষ্ঠ সমর্থকেরা।

 

এ ছাড়া আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদা মালা ও ইয়াসমিন চৌধুরীও শামীমের কাছ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ পর্যন্ত সব হজম করলেও যুব মহিলা লীগের জেলা কমিটিতে বাগড়া দিয়েছেন শামীম ওসমান। গত বছরের মে মাসে ইয়াসমিন চৌধুরীকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও নুরুন নাহারকে মহানগরের আহ্বায়ক করে কমিটি করে দেয় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ। কিন্তু শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপে ১৩ দিনের মাথায় কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর শামীমের পছন্দে সাদিয়া আফরিনকে জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও সুইটি ইয়াসমিনকে মহানগরীর আহ্বায়ক করে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

 

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে শামীম ওসমান ১ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এরপর থেকেই মূলত তাদের দুজনের রাজনৈতিক দ্বন্ধ ব্যক্তিগত পর্যায়ে পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০১৬ সালে শামীম ওসমান আর দলীয় মনোনয়ন পাননি। জনমতে হেরে যাওয়া এবং বারবার বিতর্কে জড়ানোয় কেন্দ্রে গুরুত্ব কমেছে শামীম ওসমানের।

 

এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো দুই জন রয়েছে। তারা হলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহম্মেদ পলাশ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান নিজের লোক হওয়ায় তাকে নিয়ে তেমন একটা ভাবছেন না শামীম ওসমান। মজিবুরকে যেভাবে বলবেন, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন বলে বিশ্বাস শামীম ওসমানের।

 

তবে কাউসার আহমেদের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় ভাবিয়ে তুলেছে শামীম ওসমানকে, এমনটাই ধারনা করছেন দলের শীর্ষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীর। কারন, একজন শ্রমিকনেতা হিসেবে পলাশের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও ক্লিন ইমেইজ। তিনি বর্তমানে দানবীর হিসেবেও খ্যাত হয়েছেন। বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা প্রদান সহ শ্রমিকদের কল্যাণে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ফলে, ফতুল্লার এক তীতৃয়াংশ জনসর্মথক আজ তার দখলে। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাটাও কম নয়। তাই, এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ভিতরে ভিতরে চলছে চরম কোন্দল। ইতিমধ্যেই সেই কোন্দল অনেকটা প্রকাশ্যে রূপ নিতে শুরু করেছে।

 

সম্প্রতি সময়ে দৈনিক যুগান্তর সহ কয়েকটি পত্রিকায় পলাশকে নূর হোসেনের মত গডফাদার আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায়, তিনি অভিযোগ করেছিলেন নির্বাচনে অংশগ্রহন করার ইচ্ছাপোষনের কারণেই তাকে একটি কুচক্রিমহল গডফাদার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি যেন দলীয় মনোনয়ন না পান এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য উঠেপরে লেগেছে একটি মহল। তারা পলাশকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

 

এদিকে, পলাশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মানববন্ধন সহ বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। তারা এ অপপ্রচার বন্ধ ও সংবাদ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করে বলেছিলেন, একজন গডফাদারের নির্দেশেই পলাশকে গডফাদার বানানো চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এও বলেছে যে, যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা: আইভিকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিলো তাদের ইন্দনেই সাংবাদিকরা এ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এ নিয়ে চলছে সরগরম অবস্থা।

 

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির চারজন নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইছেন। তারা হলেন, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম, বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার পারভেজ আহম্মেদ।

 

শাহ আলম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে মাত্র আড়াইশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে বিএনপি মনে করে শাহআলমকে জোর করে হারানো হয়েছিল। নিজ দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে শাহ আলমের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

 

অধ্যাপক মামুন নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তিনি ক্লিন ইমেজের এবং সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত।

 

সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন সংগ্রামে ধারাবাহিক ভূমিকা পালনের কারণে ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে ক্রমান্বয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ লাভ করেছেন। দলের উচ্চ পর্যায় তার সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের কথা জানেন।

 

অপরদিকে গিয়াস উদ্দিন অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেসময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী দখল, ভূমি দখল, দলীয় কর্মীদের হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগে  ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনের কিছুদিন আগে তিনি কৃষকলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। বারবার দল বদলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ গিয়াস উদ্দিন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ২০১০ সালে ১৫ আগস্টের কর্মসূচিও পালন করেছেন।

 

শুধু তাই নয়, গেলো ৮ বছরে বিএনপি ঘোষিত কোনো আন্দোলন কর্মসূচিতে একবারের জন্যও তাকে রাজপথে দেখা যাননি। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতেও যাননি তিনি। সর্বশেষ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলের চেয়ারপার্সনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সঠিকভাবে কাজ করেননি গিয়াসউদ্দিন। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। এসব কারণে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা এখন নড়বড়ে।

 

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে শাহ আলমই এগিয়ে রয়েছেন। তার পরের অবস্থান অধ্যাপক মামুন মাহমুদের। মামুন মাহমুদ ও শাহ আলমের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা। আর এ দুই শক্তিশালী নেতার সঙ্গেই রয়েছে গিয়াস উদ্দিনের চরম বৈরিতা।

 

অন্যদিকে, এ আসনে  জাতীয় পার্টির নেতা খোকা মোল্লা তার দলের কাছে এবারো মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানাগেছে। তিনি গতবার এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। পরে দলীয় নির্দেশে তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

 

তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জানাগেছে, খোকা মোল্লা সদর উপজেলা যে কমিটি গঠন করেছিলো, তা সম্পূর্ন অবৈধ। এ অবৈধ কমিটি নিয়ে তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আমিনুল হক প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জাতীয় পার্টির যে কমিটি খোকা মোল্লা গঠন করেছেন, এ ব্যাপারে ইতিপূর্বে আমাদের এমপি সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাথে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আমাদের কমিটি ছাড়া আর কোন কমিটি নাই। তাহলে, এ থেকেই প্রমানিত হয়, খোকা মোল্লার কমিটি অবৈধ। আগামীতে জাতীয় পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে খোকা মোল্লাকে এই অবৈধ কমিটি নিয়ে কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited