দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৌমাছি পালনে সম্ভাবনার নবদিগন্ত

Spread the love

এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির,দক্ষিণাঞ্চল: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটসহ ১০ জেলার বংশ পরম্পরায় মধু সংগ্রহ করতে বাদায় (বন-বাদাড়ে) যেতেন মিজান কিন্তু এখন আর যান না। বাদা ছেড়েছেন বছর ছয়েক আগে।তাই বলে যে মৌ-মধু-মৌমাছির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে, তা নয়। আগে সুন্দরবনে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করলেও এখন বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি পালন করে তা থেকেই সংগ্রহ করেন মধু। শুধু মিজান নন, সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের প্রায় পাঁচশ’ যুবক মৌমাছি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন ঘুরছেন সারাদেশে। ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে পালন করছেন মৌমাছি। আর তাতেই উৎপাদন হচ্ছে অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও রপ্তানিযোগ্য মধু। বিসিক সাতক্ষীরা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সাল থেকে তরুণদের ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বিসিক। এ পর্যন্ত ৪৮টি ব্যাচে তালা ও শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকার ৪৯৩ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মৌমাছি পালনে ৫২ জনকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ঋণ। সূত্র আরও জানায়, প্রশিক্ষিতরা ২৯৫টি ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার গড়ে তুলেছেন।

 

এসব মৌ খামার নিয়ে সারাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের মিজানের বাড়িতে দেওয়া হয় মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ। মিজানও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এখান থেকেই।তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার একশত’ ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্স রয়েছে। সেগুলো এখন উপজেলা তালায়। বাক্সগুলো সেখানে রাখা হয়েছে রানি মৌমাছি উৎপাদনের জন্য। রানি মৌমাছি জন্মালেই বাক্সগুলো নিয়ে যাওয়া হবে বিভিন্ন প্রান্তে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে। ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে মৌমাছি পালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি বাক্সে একটি করে রানি মৌমাছি থাকে। যার রং লাল, আকারে অন্য মাছির তুলনায় দ্বিগুণ।

 

সন্ধ্যার পর মৌমাছিগুলো বাক্সে ফিরলে নেট দিয়ে ঢেকে যে কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। গাড়িতে করে নিয়ে পরের দিন সকালে বাক্সের মুখ খুলে দেওয়া হয়। রানি মৌমাছির গায়ে বিশেষ ধরনের ঘ্রাণ থাকে। তাই বাক্সগুলো যেখানেই নেওয়া হোক না কেন, মৌমাছিরা ছত্রভঙ্গ হয় না। আর রানি মৌমাছি জীবনকালে মাত্র একবার মিলনের জন্য বাক্স থেকে বের হয়, জানান মিজান। তিনি বলেন, প্রতিটি মৌ বাক্সে বছরে ন্যূনতম এক মণ মধু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বরই ফুলের মধু আট হাজার, কালোজিরার মধু ১৫ হাজার, ধনিয়ার মধু ছয় হাজার ও লিচু ফুলের মধু আট হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়।

 

মৌ চাষি হাজরাকাটি গ্রামের কহিনূর বলেন, মৌমাছি পালন অত্যন্ত লাভজনক। সারাদেশে বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে সারাদেশে সাতক্ষীরার তরুণরাই ২৯৫টি ভ্রাম্যমাণ খামারে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন করছেন। তবে, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাবে বাংলাদেশে উৎপাদিত উন্নতমানের মধু রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে বিসিক সাতক্ষীরা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক ফারুখী নাজনীন সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১২-১৩ অর্থ-বছরে বিসিক তালা ও শ্যামনগরের তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই সফল। এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।

 

তিনি আরো বলেন, কয়েকটি কোম্পানি চাষিদের কাছ থেকে মধু কিনে রপ্তানি করে। এতে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মৌচাষিরা যাতে সরাসরি মধু রপ্তানি করতে পারে, সেজন্য সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীতে মধু রিফ্রেশনার সেন্টারের জন্য দু’টি প্লট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু শুনছি, এটি সাতক্ষীরা থেকে কেটে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাতক্ষীরাতেই মধু রিফ্রেশনার সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছি। এটা হলে মধু রপ্তানির পথে সব বাধা কেটে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও প্রকাশ: তদন্ত শুরু, বেপরোয়া এসআই মিজান ভুক্তভোগীদের নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা

» গাইবান্ধায় ধান ক্ষেতে উদ্ধার হওয়া নবজাতক পেলো বাবা-মা

» কোটালীপাড়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান

» বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো ধর্ষক পথে গ্রেফতার

» চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মাহফুজ উল্লাহ

» শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলা: সারাদেশে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

» নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা, সেই মনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

» ব্রুনাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বোমা হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৮

» দশমিনায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com

x

আজ সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মৌমাছি পালনে সম্ভাবনার নবদিগন্ত

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির,দক্ষিণাঞ্চল: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাটসহ ১০ জেলার বংশ পরম্পরায় মধু সংগ্রহ করতে বাদায় (বন-বাদাড়ে) যেতেন মিজান কিন্তু এখন আর যান না। বাদা ছেড়েছেন বছর ছয়েক আগে।তাই বলে যে মৌ-মধু-মৌমাছির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে, তা নয়। আগে সুন্দরবনে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করলেও এখন বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি পালন করে তা থেকেই সংগ্রহ করেন মধু। শুধু মিজান নন, সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের প্রায় পাঁচশ’ যুবক মৌমাছি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন ঘুরছেন সারাদেশে। ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে পালন করছেন মৌমাছি। আর তাতেই উৎপাদন হচ্ছে অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও রপ্তানিযোগ্য মধু। বিসিক সাতক্ষীরা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সাল থেকে তরুণদের ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে বিসিক। এ পর্যন্ত ৪৮টি ব্যাচে তালা ও শ্যামনগরের উপকূলীয় এলাকার ৪৯৩ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মৌমাছি পালনে ৫২ জনকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ঋণ। সূত্র আরও জানায়, প্রশিক্ষিতরা ২৯৫টি ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার গড়ে তুলেছেন।

 

এসব মৌ খামার নিয়ে সারাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের মিজানের বাড়িতে দেওয়া হয় মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ। মিজানও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এখান থেকেই।তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার একশত’ ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্স রয়েছে। সেগুলো এখন উপজেলা তালায়। বাক্সগুলো সেখানে রাখা হয়েছে রানি মৌমাছি উৎপাদনের জন্য। রানি মৌমাছি জন্মালেই বাক্সগুলো নিয়ে যাওয়া হবে বিভিন্ন প্রান্তে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে। ভ্রাম্যমাণ মৌ বাক্সে মৌমাছি পালনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি বাক্সে একটি করে রানি মৌমাছি থাকে। যার রং লাল, আকারে অন্য মাছির তুলনায় দ্বিগুণ।

 

সন্ধ্যার পর মৌমাছিগুলো বাক্সে ফিরলে নেট দিয়ে ঢেকে যে কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। গাড়িতে করে নিয়ে পরের দিন সকালে বাক্সের মুখ খুলে দেওয়া হয়। রানি মৌমাছির গায়ে বিশেষ ধরনের ঘ্রাণ থাকে। তাই বাক্সগুলো যেখানেই নেওয়া হোক না কেন, মৌমাছিরা ছত্রভঙ্গ হয় না। আর রানি মৌমাছি জীবনকালে মাত্র একবার মিলনের জন্য বাক্স থেকে বের হয়, জানান মিজান। তিনি বলেন, প্রতিটি মৌ বাক্সে বছরে ন্যূনতম এক মণ মধু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বরই ফুলের মধু আট হাজার, কালোজিরার মধু ১৫ হাজার, ধনিয়ার মধু ছয় হাজার ও লিচু ফুলের মধু আট হাজার টাকা মণ বিক্রি হয়।

 

মৌ চাষি হাজরাকাটি গ্রামের কহিনূর বলেন, মৌমাছি পালন অত্যন্ত লাভজনক। সারাদেশে বৈজ্ঞানিকভাবে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদন করা সম্ভব। বর্তমানে সারাদেশে সাতক্ষীরার তরুণরাই ২৯৫টি ভ্রাম্যমাণ খামারে মৌমাছি পালন ও মধু উৎপাদন করছেন। তবে, প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাবে বাংলাদেশে উৎপাদিত উন্নতমানের মধু রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে বিসিক সাতক্ষীরা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক ফারুখী নাজনীন সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১২-১৩ অর্থ-বছরে বিসিক তালা ও শ্যামনগরের তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। এক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই সফল। এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।

 

তিনি আরো বলেন, কয়েকটি কোম্পানি চাষিদের কাছ থেকে মধু কিনে রপ্তানি করে। এতে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। মৌচাষিরা যাতে সরাসরি মধু রপ্তানি করতে পারে, সেজন্য সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীতে মধু রিফ্রেশনার সেন্টারের জন্য দু’টি প্লট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু শুনছি, এটি সাতক্ষীরা থেকে কেটে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সাতক্ষীরাতেই মধু রিফ্রেশনার সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছি। এটা হলে মধু রপ্তানির পথে সব বাধা কেটে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited