মৌলভীবাজারে ব্যর্থ হচ্ছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  যতাযত ভাবে আইন প্রয়োগ করতে না পরায় ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম। আর, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের সর্বত্রই দেদারসে সংঘটিত হচ্ছে অভিশপ্ত বাল্যবিয়ে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গায় ধারাবাহিকভাবে ৩টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ সহযোগীতায়। এছাড়াও, সংঘটনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২টি বাল্যবিয়ে। প্রথম বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইং বুধবার রাতে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা বাজারের ইউসুফ টেইলারের ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা উর্মি বেগম এবং বর একই এলাকার মনির মিয়ার পুত্র রুমেল মিয়া (গণি ড্রাইভারের ভাতিজা)।

 

এরপর ২য় বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে গত ৮ মার্চ বৃহষ্পতিবার রাতে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা এলাকার মোঃ মানিক মিয়ার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা মিথিলা আক্তার এবং বর একই উপজেলার মাধবপুর পুরানবাড়ী (টিপরাবাড়ী) এলাকার মোহাম্মদ আলী কালা। এরপর ৩য় বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে আজ ৯ মার্চ শুক্রবার দুপুরে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা এলাকার মুজিবুর রহমানের এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী মারজানা আক্তার তান্নি এবং বর মৌলভীবাজার শহরের গুলবাগ (বেরীরচর) এলাকার লাতু মিয়ার পুত্র পলাশ আহমদ। আর, এ প্রতিটি বাল্যবিয়েতেই প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য। জানা গেছে- প্রথমে কালেঙ্গা বাজারের ইউসুফ টেইলারের ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা উর্মি বেগমের বিয়ে ঠিক হয় মাধবপুর পুরানবাড়ী (টিপরাবাড়ী) এলাকার মোহাম্মদ আলী কালা এর সাথে।

 

বিয়ের ধার্য্য তারিখ ছিল গত ৮ মার্চ। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলমান অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারী কনে উর্মি বেগম একই এলাকার মনির মিয়ার পুত্র রুমেল মিয়া (গণি ড্রাইভারের ভাতিজা) এর সাথে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই মুজিব মেম্বারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বর রুমেল মিয়ার বাড়ীতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এমতাবস্থায়, উর্মি বেগমের পিতা ইউসুফ টেইলার একই তারিখে অর্থাৎ পূর্বধার্য্যকৃত ৮ মার্চে একই বর মোহাম্মদ আলী কালা এর সাথে তার আপন ভাগ্নী মোঃ মানিক মিয়ার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা মিথিলা আক্তারের বিয়ে পাকাপোক্ত করে। ধার্য্য তারিখে যথারীতি বিয়ের অনুষ্ঠানও শুরু হয়। এ খবর পেয়ে কমলগঞ্জের ইউএনও এর নির্দেশে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ বিয়েবাড়ীতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়।

 

কিন্তু, কনেপক্ষ ও বরপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ওইদিনই সন্ধার দিকে কনেপক্ষ কনেকে নিয়ে বরের বাড়ীতে চলে যায় এবং সেখানে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মিথিলা আক্তারের বাল্যবিয়ের পরদিনই আজ ৯ মার্চ ৩য় বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে কালেঙ্গা এলাকার মুজিবুর রহমানের এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী মারজানা আক্তার তান্নি এবং মৌলভীবাজার শহরের গুলবাগ (বেরীরচর) এলাকার লাতু মিয়ার পুত্র পলাশ আহমদের মধ্যে। এর আগে রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নস্থিত বালিগাও গ্রামের নুরু মিয়ার সাথে করিমপুর গ্রামের ছমির মিয়ার কন্যা খলাগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ডলি বেগমের বিয়ের দিন ধার্য্য হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার।

 

বিষয়টি সাংবাদিকরা জেনে যাবার কারণে উভয়পক্ষ মিলে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয় এবং সন্ধার পর পরই কনে ডলি বেগমকে বর নুরু মিয়ার বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই রাতেই অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে নিবন্ধন ছাড়াই একজন মৌলভী সাহেবকে দিয়ে আক্দ এর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে এ বাল্যবিয়েটিও সংঘটিত হয় কনের ওয়ার্ড মেম্বার লিটন মিয়ার প্রত্যক্ষ্য সহযোগীতায়। এভাবেই, এ সময়ের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বাল্যবিয়ে সংঘটনের খবর জানা গেছে। এভাবেই শুধু মৌলভীবাজার জেলাই নয়, দেশের সর্বত্রই অহরহ বাল্যবিয়ে সংঘটিত হচ্ছে এবং প্রতিটি বাল্যবিয়েতে প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকার প্রতিটি বাল্য বাল্যবিয়ের তথ্য ইউএনও-কে জানানো হলে, ইউএনও পুলিশ পাঠিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করান। কিন্তু, পুলিশ চলে যাবার পর গোপনে সেই বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়ে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায়। কিন্তু, বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট ইউএনও আর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননা।

 

কমলগঞ্জের ইউএনও মো. মাহমুদুল হক জানান- আজ ১১ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্গলা মিটিং বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বছরখানেক পূর্বে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন সংশোধন করে অর্থদন্ড ও শাস্তির পরিমান বাড়ানো হলেও, তা মোবাইলকোর্টের সিডিউলভূক্ত না থাকায় গোপনে সংঘটনকৃত বাল্যবিয়ের বর-কনে উভয়পক্ষের অভিভাবককে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা।’ সারাদেশেই এ অবস্থা বিরাজমান। কোন ইউএনও-ই বাল্যবিয়ের বর-কনের অভিভাবককে শাস্তির আওতায় আনতে পারছেননা বাল্যবিয়ে মোবাইলকোর্টের সিডিউলভূক্ত না থাকায়।

 

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বাল্যবিয়ের অভিভাবকদেরকে শাস্তির আনার জন্য মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করতে না পারার কারণেই, বাল্যবিয়ে বন্ধ তো নয়ই বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সাংবাদিকরাসহ সচেতন নাগরিকরা তৎপড় থাকলেও, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ করতে না পারার কারণে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

সর্বশেষ আপডেট



» গোপালগঞ্জে ১৭টি দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

» কলাপাড়ায় এক বছরের জন্য মহিপুর থানা ও কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের দু’টি নতুন কমিটির অনুমোদন

» নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহম্মেদ

» বেনাপোলের পাঠবাড়ি দুইদিন ব্যাপি নির্জন উৎসব সমাপ্ত

» বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে রবি’র বিক্রয় প্রতিনিধিকে মারপিট করে টাকা মোবাইল ছিনতাই

» সাপাহারে উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» সাপাহারে মীনা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, র‌্যালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

» কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রিটের শুনানি মঙ্গলবার

» লন্ডনে  বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

» কুলাউড়ায় সাংবাদিক এর ছোট বোনের মৃত্যুতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

 



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ব্যর্থ হচ্ছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  যতাযত ভাবে আইন প্রয়োগ করতে না পরায় ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম। আর, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের সর্বত্রই দেদারসে সংঘটিত হচ্ছে অভিশপ্ত বাল্যবিয়ে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গায় ধারাবাহিকভাবে ৩টি বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ সহযোগীতায়। এছাড়াও, সংঘটনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২টি বাল্যবিয়ে। প্রথম বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ইং বুধবার রাতে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা বাজারের ইউসুফ টেইলারের ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা উর্মি বেগম এবং বর একই এলাকার মনির মিয়ার পুত্র রুমেল মিয়া (গণি ড্রাইভারের ভাতিজা)।

 

এরপর ২য় বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে গত ৮ মার্চ বৃহষ্পতিবার রাতে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা এলাকার মোঃ মানিক মিয়ার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা মিথিলা আক্তার এবং বর একই উপজেলার মাধবপুর পুরানবাড়ী (টিপরাবাড়ী) এলাকার মোহাম্মদ আলী কালা। এরপর ৩য় বাল্যবিয়েটি সংঘটিত হয়েছে আজ ৯ মার্চ শুক্রবার দুপুরে। এ বাল্যবিয়ের কনে- কালেঙ্গা এলাকার মুজিবুর রহমানের এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী মারজানা আক্তার তান্নি এবং বর মৌলভীবাজার শহরের গুলবাগ (বেরীরচর) এলাকার লাতু মিয়ার পুত্র পলাশ আহমদ। আর, এ প্রতিটি বাল্যবিয়েতেই প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য। জানা গেছে- প্রথমে কালেঙ্গা বাজারের ইউসুফ টেইলারের ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা উর্মি বেগমের বিয়ে ঠিক হয় মাধবপুর পুরানবাড়ী (টিপরাবাড়ী) এলাকার মোহাম্মদ আলী কালা এর সাথে।

 

বিয়ের ধার্য্য তারিখ ছিল গত ৮ মার্চ। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলমান অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারী কনে উর্মি বেগম একই এলাকার মনির মিয়ার পুত্র রুমেল মিয়া (গণি ড্রাইভারের ভাতিজা) এর সাথে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই মুজিব মেম্বারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বর রুমেল মিয়ার বাড়ীতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এমতাবস্থায়, উর্মি বেগমের পিতা ইউসুফ টেইলার একই তারিখে অর্থাৎ পূর্বধার্য্যকৃত ৮ মার্চে একই বর মোহাম্মদ আলী কালা এর সাথে তার আপন ভাগ্নী মোঃ মানিক মিয়ার ৮ম শ্রেণীতে পড়–য়া কন্যা মিথিলা আক্তারের বিয়ে পাকাপোক্ত করে। ধার্য্য তারিখে যথারীতি বিয়ের অনুষ্ঠানও শুরু হয়। এ খবর পেয়ে কমলগঞ্জের ইউএনও এর নির্দেশে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ বিয়েবাড়ীতে উপস্থিত হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেয়।

 

কিন্তু, কনেপক্ষ ও বরপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ওইদিনই সন্ধার দিকে কনেপক্ষ কনেকে নিয়ে বরের বাড়ীতে চলে যায় এবং সেখানে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মিথিলা আক্তারের বাল্যবিয়ের পরদিনই আজ ৯ মার্চ ৩য় বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়েছে কালেঙ্গা এলাকার মুজিবুর রহমানের এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী মারজানা আক্তার তান্নি এবং মৌলভীবাজার শহরের গুলবাগ (বেরীরচর) এলাকার লাতু মিয়ার পুত্র পলাশ আহমদের মধ্যে। এর আগে রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নস্থিত বালিগাও গ্রামের নুরু মিয়ার সাথে করিমপুর গ্রামের ছমির মিয়ার কন্যা খলাগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ডলি বেগমের বিয়ের দিন ধার্য্য হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার।

 

বিষয়টি সাংবাদিকরা জেনে যাবার কারণে উভয়পক্ষ মিলে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয় এবং সন্ধার পর পরই কনে ডলি বেগমকে বর নুরু মিয়ার বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই রাতেই অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে নিবন্ধন ছাড়াই একজন মৌলভী সাহেবকে দিয়ে আক্দ এর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মুন্সীবাজার ইউপি চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করে এ বাল্যবিয়েটিও সংঘটিত হয় কনের ওয়ার্ড মেম্বার লিটন মিয়ার প্রত্যক্ষ্য সহযোগীতায়। এভাবেই, এ সময়ের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বাল্যবিয়ে সংঘটনের খবর জানা গেছে। এভাবেই শুধু মৌলভীবাজার জেলাই নয়, দেশের সর্বত্রই অহরহ বাল্যবিয়ে সংঘটিত হচ্ছে এবং প্রতিটি বাল্যবিয়েতে প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকার প্রতিটি বাল্য বাল্যবিয়ের তথ্য ইউএনও-কে জানানো হলে, ইউএনও পুলিশ পাঠিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করান। কিন্তু, পুলিশ চলে যাবার পর গোপনে সেই বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয়ে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতায়। কিন্তু, বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট ইউএনও আর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননা।

 

কমলগঞ্জের ইউএনও মো. মাহমুদুল হক জানান- আজ ১১ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্গলা মিটিং বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘বছরখানেক পূর্বে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন সংশোধন করে অর্থদন্ড ও শাস্তির পরিমান বাড়ানো হলেও, তা মোবাইলকোর্টের সিডিউলভূক্ত না থাকায় গোপনে সংঘটনকৃত বাল্যবিয়ের বর-কনে উভয়পক্ষের অভিভাবককে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা।’ সারাদেশেই এ অবস্থা বিরাজমান। কোন ইউএনও-ই বাল্যবিয়ের বর-কনের অভিভাবককে শাস্তির আওতায় আনতে পারছেননা বাল্যবিয়ে মোবাইলকোর্টের সিডিউলভূক্ত না থাকায়।

 

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বাল্যবিয়ের অভিভাবকদেরকে শাস্তির আনার জন্য মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করতে না পারার কারণেই, বাল্যবিয়ে বন্ধ তো নয়ই বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সাংবাদিকরাসহ সচেতন নাগরিকরা তৎপড় থাকলেও, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ করতে না পারার কারণে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম।

নিউজটি শেয়ার করুন:
image_print

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
Email: info@kuakatanews.com
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited