বনফুলের সুগন্ধ নারায়ণগঞ্জে !

রনজিৎ মোদক: ঋতুরাজ বসন্তে ফুলের সম্ভার, বর্তমান সমাজে অতীতের চেয়ে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুল স্বর্গীয় সম্পদ, ফুল পবিত্রতার প্রতীক। প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জ্বিত ফুলে ফুলে। দেশের অন্যান্য জেলার সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও এখন প্রচুর ফুল চাষ হচ্ছে।

 

এই ফুল চাষকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। ফুল বনে ফোটে, অজানা নেই কারো। বনপথে বনফুল সুগন্ধ ছড়াতো। এই বনফুলের সুগন্ধে বনহরিণী থমকে দাড়াতো। কুড়োসর্প ফুলের গন্ধে মোহিত হয়ে কুস্বভাব ভুলে যেতো। ফুল মানেই ভালবাসার এক স্বপ্নীল ছোঁয়া। সমাজে সৌখিন বিলাসী পরিবারগুলোই তাদের বাড়ি কিংবা বাসার বারান্দায় ফুলের বাগান করতো। দিন দিন ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুল একসময় বিদেশ থেকে আমদানী করা হতো, বর্তমানে ফুলের চাহিদা পুরণের লক্ষ্যে ফসলের জমিতে ফুল চাষ করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, যশোরের গদখালীসহ নার্সারীগুলো বিভিন্ন ফুলের চাষ করছে।

 

ঢাকার শাহবাগ এলাকায় একসময় অল্পকিছু দোকানীতে ফুল বিক্রি করা হতো, বর্তমানে সেখানে বিশাল ফুলের মার্কেট গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত বুধবার ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রায় দুইকোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কালী বাজার মোড়ে রয়েছে ফুলের বাজার। সকাল-সন্ধ্যা প্রচুর ফুল বিক্রি হচ্ছে। পুরুষের চেয়ে নারী’রাই ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয় বেশি।

 

বর্হিবিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখি ইতালিয়ানরা কোনো আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বেড়াতে গেলে শুভেচ্ছা স্বরূপ ফুল নিয়ে যায়। যেখানে আমাদের বাংলাদেশে কোনো আত্মীয়/বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বেড়াতে গেলে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যায়। ইতালির শহরগুলোতে প্রচুর পরিমানে ফুলের দোকান রয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রচুর ফুল চাষ হয় এবং তারা বিদেশে ফুল রপ্তানি করছে। বিশেষ করে হিন্দু সনাতনী পরিবারগুলো পূজার অর্ঘ্য হিসেবে ফুল ব্যবহার করছে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ব্যাক্তিগত ফুলবাগানেও আশি হাজার গোলাপ গাছ ছিল।

 

ফুলের চাহিদা বাংলাদেশে আরো বাড়বে বলে মনে করেন ফুল ব্যবসায়ীরা। ফুল আমাদের প্রায় দৈনন্দিন কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন- ঘর সাজানো, মালা গাথাঁ, সভা-সেমিনার ও উৎসবাদি, শুভেচ্ছাসহ অনেক ক্ষেত্রেই এখন ফুল ব্যবহৃত হচ্ছে। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের “ফুলের ফসল” কবিতায় কবি বলেছেন- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা/ খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি’/দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী!…

 

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে সকলের মনে প্রানে বয়ে যাক বসন্তের শতত বহমান ফুল¬ধারা। সবার জীবনে বসন্ত বয়ে আনুক অনাবিল সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তির পরশ। জীবন হয়ে উঠুক পাহাড়ের ন্যায় বিশাল ও কুসুমের ন্যায় কমল ,বসন্তের এই দিনে আমাদের শ্লোগান হোক, বাংলা বাঙালির গর্ব, ফাগুনের রঙে ভাসছে সাংস্কৃতিক রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে । অ¤্র গাছের ডালে মুকুলের দোলা। ফুটেছে পলাশ, শিমুল। পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখির কলতান। এসেছে বসন্ত। আর সেই বসন্তের রঙে ভাসছে বাঙ্গালিরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ছয় কোচিং সেন্টার সিলগালা : বেঞ্চ ধ্বংস

» গোপালগঞ্জে বিআরডিবি’র ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

» সৌদি আরবকে ইইউ’র কালো তালিকা ভুক্ত করায় নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

» দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফুলচাষে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ৬০ কোটি টাকাফুল বিক্রি

» যশোরের নাভারন প্রতিবন্ধী স্কুলে পথের আলো সংস্থার মোটর রিক্সা ভ্যান দান

» যশোরের শার্শায় মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

» গলাচিপায় বীজ আলুর মাঠ দিবস পালিত

» ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সময়ের দাবি: ভাষাসৈনিক লায়ন শামসুল হুদা

» বই কিনুন, বই পড়ুন, নিজেকে সমৃদ্ধ করুন: যুবলীগ চেয়ারম্যাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী

» ঝিনাইদহে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বনফুলের সুগন্ধ নারায়ণগঞ্জে !

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

রনজিৎ মোদক: ঋতুরাজ বসন্তে ফুলের সম্ভার, বর্তমান সমাজে অতীতের চেয়ে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুল স্বর্গীয় সম্পদ, ফুল পবিত্রতার প্রতীক। প্রকৃতি অপরূপ সাজে সজ্জ্বিত ফুলে ফুলে। দেশের অন্যান্য জেলার সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায়ও এখন প্রচুর ফুল চাষ হচ্ছে।

 

এই ফুল চাষকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। ফুল বনে ফোটে, অজানা নেই কারো। বনপথে বনফুল সুগন্ধ ছড়াতো। এই বনফুলের সুগন্ধে বনহরিণী থমকে দাড়াতো। কুড়োসর্প ফুলের গন্ধে মোহিত হয়ে কুস্বভাব ভুলে যেতো। ফুল মানেই ভালবাসার এক স্বপ্নীল ছোঁয়া। সমাজে সৌখিন বিলাসী পরিবারগুলোই তাদের বাড়ি কিংবা বাসার বারান্দায় ফুলের বাগান করতো। দিন দিন ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুল একসময় বিদেশ থেকে আমদানী করা হতো, বর্তমানে ফুলের চাহিদা পুরণের লক্ষ্যে ফসলের জমিতে ফুল চাষ করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, যশোরের গদখালীসহ নার্সারীগুলো বিভিন্ন ফুলের চাষ করছে।

 

ঢাকার শাহবাগ এলাকায় একসময় অল্পকিছু দোকানীতে ফুল বিক্রি করা হতো, বর্তমানে সেখানে বিশাল ফুলের মার্কেট গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত বুধবার ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রায় দুইকোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কালী বাজার মোড়ে রয়েছে ফুলের বাজার। সকাল-সন্ধ্যা প্রচুর ফুল বিক্রি হচ্ছে। পুরুষের চেয়ে নারী’রাই ফুলের প্রতি আকৃষ্ট হয় বেশি।

 

বর্হিবিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখি ইতালিয়ানরা কোনো আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বেড়াতে গেলে শুভেচ্ছা স্বরূপ ফুল নিয়ে যায়। যেখানে আমাদের বাংলাদেশে কোনো আত্মীয়/বন্ধু-বান্ধবদের বাসায় বেড়াতে গেলে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যায়। ইতালির শহরগুলোতে প্রচুর পরিমানে ফুলের দোকান রয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রচুর ফুল চাষ হয় এবং তারা বিদেশে ফুল রপ্তানি করছে। বিশেষ করে হিন্দু সনাতনী পরিবারগুলো পূজার অর্ঘ্য হিসেবে ফুল ব্যবহার করছে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হোসেনের ব্যাক্তিগত ফুলবাগানেও আশি হাজার গোলাপ গাছ ছিল।

 

ফুলের চাহিদা বাংলাদেশে আরো বাড়বে বলে মনে করেন ফুল ব্যবসায়ীরা। ফুল আমাদের প্রায় দৈনন্দিন কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন- ঘর সাজানো, মালা গাথাঁ, সভা-সেমিনার ও উৎসবাদি, শুভেচ্ছাসহ অনেক ক্ষেত্রেই এখন ফুল ব্যবহৃত হচ্ছে। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের “ফুলের ফসল” কবিতায় কবি বলেছেন- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা/ খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি’/দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী!…

 

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে সকলের মনে প্রানে বয়ে যাক বসন্তের শতত বহমান ফুল¬ধারা। সবার জীবনে বসন্ত বয়ে আনুক অনাবিল সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তির পরশ। জীবন হয়ে উঠুক পাহাড়ের ন্যায় বিশাল ও কুসুমের ন্যায় কমল ,বসন্তের এই দিনে আমাদের শ্লোগান হোক, বাংলা বাঙালির গর্ব, ফাগুনের রঙে ভাসছে সাংস্কৃতিক রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে । অ¤্র গাছের ডালে মুকুলের দোলা। ফুটেছে পলাশ, শিমুল। পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখির কলতান। এসেছে বসন্ত। আর সেই বসন্তের রঙে ভাসছে বাঙ্গালিরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited