নেই কোন প্রতিকার প্রতিরোধ !! কালের বিবর্তনে দখল হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার দুই তীর

রনজিৎ মোদক:-  ঢাকা জেলায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদী। দিন দিন বুড়ি হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা। আগের মতো আর নেই তার যৌবনের উত্তাল উচ্ছাস। নেই ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে দখল হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার দুই তীর। দূষণের কারণে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষিত পানি ও দূর্গন্ধের কারণে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার স্বাস্থ্যগত পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গা নদীর অতীত ঐতিহ্য আমাদের অনেকের জানা। বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩০২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বুড়িগঙ্গা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৪৭।

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। ৪০০ বছর আগে এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। ব্রহ্মপুত্র আর শীতলক্ষ্যার পানি এক ¯্রােতে মিশে বুড়িগঙ্গা নদীর সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটা ধলেশ্বরীর শাখাবিশেষ। কথিত আছে, গঙ্গা নদীর একটি ধারা প্রাচীনকালে ধলেশ্বরী হয়ে সোজা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিশেছিল। পরে গঙ্গার সেই ধারাটির গতিপথ পরিবর্তন হলে গঙ্গার সাথে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে প্রাচীন গঙ্গা এই পথে প্রবাহিত হতো বলেই এমন নামকরণ। মূলত ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গার উৎপত্তি। কলাতিয়া এর উৎপত্তিস্থল।

 

বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করেছিলেন, বাংলার সুবাদার মুকাররম খাঁ। তার শাসনামলে শহরের যেসকল অংশ নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, সেখানে প্রতি রাতে আলোক সজ্জা করা হতো। এছাড়া নদীর বুকে অংসখ্য নৌকাতে জ্বলতো ফানুস বাতি। তখন বুড়িগঙ্গার তীরে অপরূপ সৌন্দের্য্যরে সৃষ্টি হতো। ১৮০০ সালে টেইলর বুড়িগঙ্গা নদী দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- “বর্ষাকালে যখন বুড়িগঙ্গা পানিতে ভরপুর থাকে, তখন ঢেকাকে দেখায় ভেনিসের মতো।”

 

বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে যাতায়াত পথে বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে ঢাকা আসতো। তারা এই নদীর পানি পান করতো এবং পাশ্ববর্তী তীরের বসতি মানুষ এই নদীতে গোসল ও পানি ব্যবহার করতো । বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ব্যাবহার করতো। বিশেষ করে হিন্দু-সনাতন ধর্মের মানুষ এই নদীকে মায়ের মত পূজা দিতো। মাঘী পূর্ণিমায় পাগলা পাগল নাথ ঘাটে ¯œান উৎসব পালিত হয়। যার ধারায় এখনো উৎযাপিত হয়ে আসছে।

 

বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা বর্তমানে উৎসমুখটি ভরাট হওয়ায় পুরানো কোন চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন যদিও এই নদীতে জোয়ার-ভাটা হওয়া সত্ত্বেও পানি দূষণের কোনো পরিবর্তণ হচ্ছেনা। পানি দূষণের ফলে নদীতে মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্বাস হতে কষ্ট হয়, এতো বড় একটা নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যদিও বর্ষা মৌসুমে পানির আংশিক পরিবর্তন দেখা মিললেও বর্ষার শেষে বাকি দীর্ঘ ৮ মাস পানির রঙ মিশ্র কালো ও দূর্গন্ধময়। এতে করে নদীর পাশ্ববর্তী স্বাস্থ্যগত পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন। বর্তমান সরকার যদিও নদীর তীরবর্তী অবৈধ দখলমুক্ত ও পরিবেশ রক্ষায় ফুটব্রীজ করে দিলেও সেগুলো যতেœর অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মুন্সিখোলা, চাকদা, শ্যামপুর এলাকার একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার স¦ার্থে এই রাস্তা ব্যবহার করছে।

 

নেই কোন প্রতিকার প্রতিরোধ !! তাহলে কি বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব দিন দিন হারিয়ে যাবে? বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ আমরা সবাই জানি। কিন্তু এভাবে যদি নদী তার নাব্যতা ও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে, তাহলে বাংলাদেশ একসময় মরুভূমির দেশে পরিণত হবে। জনসাধারন চায় নদী তার নাব্যতা ও ঐতিহ্য ফিরে পাক। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ছয় কোচিং সেন্টার সিলগালা : বেঞ্চ ধ্বংস

» গোপালগঞ্জে বিআরডিবি’র ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানবন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

» সৌদি আরবকে ইইউ’র কালো তালিকা ভুক্ত করায় নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

» দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ফুলচাষে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ৬০ কোটি টাকাফুল বিক্রি

» যশোরের নাভারন প্রতিবন্ধী স্কুলে পথের আলো সংস্থার মোটর রিক্সা ভ্যান দান

» যশোরের শার্শায় মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

» গলাচিপায় বীজ আলুর মাঠ দিবস পালিত

» ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া সময়ের দাবি: ভাষাসৈনিক লায়ন শামসুল হুদা

» বই কিনুন, বই পড়ুন, নিজেকে সমৃদ্ধ করুন: যুবলীগ চেয়ারম্যাম মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী

» ঝিনাইদহে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নেই কোন প্রতিকার প্রতিরোধ !! কালের বিবর্তনে দখল হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার দুই তীর

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

রনজিৎ মোদক:-  ঢাকা জেলায় অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদী। দিন দিন বুড়ি হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গা। আগের মতো আর নেই তার যৌবনের উত্তাল উচ্ছাস। নেই ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে দখল হয়ে যাচ্ছে বুড়িগঙ্গার দুই তীর। দূষণের কারণে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূষিত পানি ও দূর্গন্ধের কারণে নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার স্বাস্থ্যগত পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গা নদীর অতীত ঐতিহ্য আমাদের অনেকের জানা। বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩০২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক বুড়িগঙ্গা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৪৭।

 

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। ৪০০ বছর আগে এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। ব্রহ্মপুত্র আর শীতলক্ষ্যার পানি এক ¯্রােতে মিশে বুড়িগঙ্গা নদীর সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে এটা ধলেশ্বরীর শাখাবিশেষ। কথিত আছে, গঙ্গা নদীর একটি ধারা প্রাচীনকালে ধলেশ্বরী হয়ে সোজা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মিশেছিল। পরে গঙ্গার সেই ধারাটির গতিপথ পরিবর্তন হলে গঙ্গার সাথে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে প্রাচীন গঙ্গা এই পথে প্রবাহিত হতো বলেই এমন নামকরণ। মূলত ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গার উৎপত্তি। কলাতিয়া এর উৎপত্তিস্থল।

 

বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করেছিলেন, বাংলার সুবাদার মুকাররম খাঁ। তার শাসনামলে শহরের যেসকল অংশ নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, সেখানে প্রতি রাতে আলোক সজ্জা করা হতো। এছাড়া নদীর বুকে অংসখ্য নৌকাতে জ্বলতো ফানুস বাতি। তখন বুড়িগঙ্গার তীরে অপরূপ সৌন্দের্য্যরে সৃষ্টি হতো। ১৮০০ সালে টেইলর বুড়িগঙ্গা নদী দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- “বর্ষাকালে যখন বুড়িগঙ্গা পানিতে ভরপুর থাকে, তখন ঢেকাকে দেখায় ভেনিসের মতো।”

 

বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে যাতায়াত পথে বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে ঢাকা আসতো। তারা এই নদীর পানি পান করতো এবং পাশ্ববর্তী তীরের বসতি মানুষ এই নদীতে গোসল ও পানি ব্যবহার করতো । বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ব্যাবহার করতো। বিশেষ করে হিন্দু-সনাতন ধর্মের মানুষ এই নদীকে মায়ের মত পূজা দিতো। মাঘী পূর্ণিমায় পাগলা পাগল নাথ ঘাটে ¯œান উৎসব পালিত হয়। যার ধারায় এখনো উৎযাপিত হয়ে আসছে।

 

বুড়িগঙ্গা নদীর অবস্থা বর্তমানে উৎসমুখটি ভরাট হওয়ায় পুরানো কোন চিহ্ন খোঁজে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন যদিও এই নদীতে জোয়ার-ভাটা হওয়া সত্ত্বেও পানি দূষণের কোনো পরিবর্তণ হচ্ছেনা। পানি দূষণের ফলে নদীতে মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিশ্বাস হতে কষ্ট হয়, এতো বড় একটা নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যদিও বর্ষা মৌসুমে পানির আংশিক পরিবর্তন দেখা মিললেও বর্ষার শেষে বাকি দীর্ঘ ৮ মাস পানির রঙ মিশ্র কালো ও দূর্গন্ধময়। এতে করে নদীর পাশ্ববর্তী স্বাস্থ্যগত পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন। বর্তমান সরকার যদিও নদীর তীরবর্তী অবৈধ দখলমুক্ত ও পরিবেশ রক্ষায় ফুটব্রীজ করে দিলেও সেগুলো যতেœর অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মুন্সিখোলা, চাকদা, শ্যামপুর এলাকার একশ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার স¦ার্থে এই রাস্তা ব্যবহার করছে।

 

নেই কোন প্রতিকার প্রতিরোধ !! তাহলে কি বুড়িগঙ্গার অস্তিত্ব দিন দিন হারিয়ে যাবে? বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ আমরা সবাই জানি। কিন্তু এভাবে যদি নদী তার নাব্যতা ও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলে, তাহলে বাংলাদেশ একসময় মরুভূমির দেশে পরিণত হবে। জনসাধারন চায় নদী তার নাব্যতা ও ঐতিহ্য ফিরে পাক। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited