আমতলীতে কলেজ ছাত্রীর সাত টুকরো লাশ ঘাতকের স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দি, আইনজীবীসহ গ্রেফতার-২

শাহ্ আলী,বরগুনা: আমতলী এক আইনজীবীর বাসায় কলেজ ছাত্রীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নির্মম ভাবে খুন করে কথিত স্বামী। লাশ গোপন করার জন্য সাত টুকরা করে পানি রাখার দুটি ড্রামে ভরে পালায় ঘাতক। ঘটনার পরপরই গ্রেফতার হয় আলমগীর হোসেন পলাশ নামের ওই ঘাতক।

 

খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এবং লাশ গোপন করার অভিযোগে মাইনুল আহসান বিপ্লব নামের এক আইনজীবীকে মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। আমতলী থানার পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা করে। বুধবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়। গ্রেফতারকৃত আইনজীবীকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানীর জন্য ৩১ অক্টোবর ধার্য্য করেন ম্যাজিষ্ট্রেট। এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভার হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বাসায়। আলমগীর হোসেন পলাশ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসোন্দা গ্রামের আবদুল লতিফ খানের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামী আলমগীর হোসেন পলাশ ও অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করে অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পলাশকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী থানার ওসি শহিদ্যুল্লাহ। অপর আসামী পলাশ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়ার আবেদন করেন। পলাশ ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন যে, বরগুনা সদর উপজেলার গুদিঘাটা গ্রামের মো. মন্নান খানের মেয়ে মালা আকতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার মন দেয়া-নেয়া চলছিল। মালা স¤পর্কে পলাশের মামাতো শালিকা। সপ্তম শ্রেনীতে লেখাপড়া অবস্থায় পলাশের সঙ্গে মালার প্রেমের স¤পর্ক হয়। মালা কলাপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে এ বছর একাদ্বশ শ্রেনীর ছাত্রী। রোববার সন্ধ্যায় পলাশ মালাকে নিয়ে আমতলীর হাসপাতাল সড়কে অ্যাডভোকেট মাইনুল ইসলাম বিপ্লবের বাসায় বেড়াতে আসে। বিপ্লব পলাশের ভাগ্নি জামাতা। তিন দিন পলাশ ও মালা ওই বাসায় অবস্থান করে।

 

মঙ্গলবার সকালে মালা পলাশ বিপ্লবের খালি বাসায় থাকে। এ সময় মালা পলাশকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু পলাশ এতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া ঝাটি হয়। এক পর্যায় পলাশ উত্তেজিত হয়ে ধারালো মাছ কাটার বটি দিয়ে কুপিয়ে মালা আকতারকে খুন করে। এরপর মালার লাশ সাত টুকরো করে বাসার বাথ রুমের দুটি ড্রামে ভরে রাখে। এ সময় ওই বাসায় কেউ ছিলে না। ঘটনা ঘটিয়ে দুপুরে ঘাতক পলাশ আত্মীয় অ্যাাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে ফোনে জানায়। বিপ্লব পলাশকে তার ল’ চেম্বারে আসতে বলেন। পলাশ চেম্বারে গিয়ে বলে ভাগিনা রাগের মাথায় মালাকে খুন করে দুটি ড্রামে ভরে রেখে এসেছি। এখন কি করতে পারি। ওই সময় বিপ্লব লাশ গোপন করার জন্য পলাশের কাছে এক লাখ টাকা দাবী করে। তখন পলাশের কাছে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। তিন হাজার টাকা বিপ্লবকে দিয়ে পাচশত টাকা পলাশ নিয়ে বরগুনা বাকি টাকা আনতে যায়। এই খুনের সঙ্গে আর কেহ জড়িত নয়।

 

স্থানীয়রা জানান, এই ফাকে বিপ্লব তার কিছু বন্ধুদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বন্ধুরা বিপ্লবকে পরামর্শ দেয় পলাশকে পুলিশের হাতে দিতে। বিপ্লব ওই দিন দুপুরে পলাশকে দ্রুত তার বাসায় আসতে বলে। পলাশ বিপ্লবের বাসায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক যুগান্তরকে বুধবার বলেন, এ ঘটনার কথা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে। এর সঙ্গে আর কেঊ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের সার্থে এখনই কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাতিল হচ্ছে এমসিকিউ? বিপদে শিক্ষার্থীরা

» রাজধানীর চকবাজারে আগুন: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯

» আগুন নেভাতে বিমান বাহিনীর দুই হেলিকপ্টার

» আজ অমর একুশে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

» রাজধানীর চকবাজার এলাকায় ভয়াবহ আগুন

» নিজ পরিচয়ে সারাবিশ্বে ও স্বদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

» একুশে স্মৃতি সংসদ সম্মাননা পেলেন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল

» কলাপাড়ায় ছুরিকাঘাতে কলেজ শিক্ষিকা গুরুতর জখম

» চাঁদপুরে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি ও চ্যালেন্জসমূহ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ভিডিও কনফারেন্স

» গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ছয় কোচিং সেন্টার সিলগালা : বেঞ্চ ধ্বংস

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে কলেজ ছাত্রীর সাত টুকরো লাশ ঘাতকের স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দি, আইনজীবীসহ গ্রেফতার-২

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

শাহ্ আলী,বরগুনা: আমতলী এক আইনজীবীর বাসায় কলেজ ছাত্রীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নির্মম ভাবে খুন করে কথিত স্বামী। লাশ গোপন করার জন্য সাত টুকরা করে পানি রাখার দুটি ড্রামে ভরে পালায় ঘাতক। ঘটনার পরপরই গ্রেফতার হয় আলমগীর হোসেন পলাশ নামের ওই ঘাতক।

 

খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এবং লাশ গোপন করার অভিযোগে মাইনুল আহসান বিপ্লব নামের এক আইনজীবীকে মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। আমতলী থানার পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা করে। বুধবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ঘাতক আলমগীর হোসেন পলাশ স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়। গ্রেফতারকৃত আইনজীবীকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানীর জন্য ৩১ অক্টোবর ধার্য্য করেন ম্যাজিষ্ট্রেট। এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভার হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবের বাসায়। আলমগীর হোসেন পলাশ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসোন্দা গ্রামের আবদুল লতিফ খানের ছেলে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত আসামী আলমগীর হোসেন পলাশ ও অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করে অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পলাশকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমতলী থানার ওসি শহিদ্যুল্লাহ। অপর আসামী পলাশ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দেয়ার আবেদন করেন। পলাশ ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মতে ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন যে, বরগুনা সদর উপজেলার গুদিঘাটা গ্রামের মো. মন্নান খানের মেয়ে মালা আকতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার মন দেয়া-নেয়া চলছিল। মালা স¤পর্কে পলাশের মামাতো শালিকা। সপ্তম শ্রেনীতে লেখাপড়া অবস্থায় পলাশের সঙ্গে মালার প্রেমের স¤পর্ক হয়। মালা কলাপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে এ বছর একাদ্বশ শ্রেনীর ছাত্রী। রোববার সন্ধ্যায় পলাশ মালাকে নিয়ে আমতলীর হাসপাতাল সড়কে অ্যাডভোকেট মাইনুল ইসলাম বিপ্লবের বাসায় বেড়াতে আসে। বিপ্লব পলাশের ভাগ্নি জামাতা। তিন দিন পলাশ ও মালা ওই বাসায় অবস্থান করে।

 

মঙ্গলবার সকালে মালা পলাশ বিপ্লবের খালি বাসায় থাকে। এ সময় মালা পলাশকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু পলাশ এতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া ঝাটি হয়। এক পর্যায় পলাশ উত্তেজিত হয়ে ধারালো মাছ কাটার বটি দিয়ে কুপিয়ে মালা আকতারকে খুন করে। এরপর মালার লাশ সাত টুকরো করে বাসার বাথ রুমের দুটি ড্রামে ভরে রাখে। এ সময় ওই বাসায় কেউ ছিলে না। ঘটনা ঘটিয়ে দুপুরে ঘাতক পলাশ আত্মীয় অ্যাাডভোকেট মাইনুল আহসান বিপ্লবকে ফোনে জানায়। বিপ্লব পলাশকে তার ল’ চেম্বারে আসতে বলেন। পলাশ চেম্বারে গিয়ে বলে ভাগিনা রাগের মাথায় মালাকে খুন করে দুটি ড্রামে ভরে রেখে এসেছি। এখন কি করতে পারি। ওই সময় বিপ্লব লাশ গোপন করার জন্য পলাশের কাছে এক লাখ টাকা দাবী করে। তখন পলাশের কাছে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। তিন হাজার টাকা বিপ্লবকে দিয়ে পাচশত টাকা পলাশ নিয়ে বরগুনা বাকি টাকা আনতে যায়। এই খুনের সঙ্গে আর কেহ জড়িত নয়।

 

স্থানীয়রা জানান, এই ফাকে বিপ্লব তার কিছু বন্ধুদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। বন্ধুরা বিপ্লবকে পরামর্শ দেয় পলাশকে পুলিশের হাতে দিতে। বিপ্লব ওই দিন দুপুরে পলাশকে দ্রুত তার বাসায় আসতে বলে। পলাশ বিপ্লবের বাসায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক যুগান্তরকে বুধবার বলেন, এ ঘটনার কথা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে। এর সঙ্গে আর কেঊ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের সার্থে এখনই কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited