মৌলভীবাজার বিআরটিএর কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ) রোজিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলার যানজট নিরসন ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম বাইক (অটো টেম্পো) রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মৌলভীবাজারে নির্দিষ্ট সাড়ে ৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া সিন্ধান্ত থাকলেও তা অমান্য করে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজারে ২শত ৫১টি। আবারও নতুন করে অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ফন্দি ফিকিরে ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পরেছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মৌলভীবাজার অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকুরীহিন চাকুরেরা। শমসেরনগর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য মো. আব্দুর রহমানের সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি ভাবে নির্ধারিত ৩ হাজার ৫শত টি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিন্ধান্ত মতে মৌলভীবাজার জেলায় আর কোনো সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

কিন্ত পরবর্তীকালে কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্য ও অবৈধ উৎকোচ নিয়ে গোপন সিন্ডিকেট মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলায় সিরিয়াল থÑ১১ সিনিয়ালে ১০,০০০ টি ও থ-১২ সিরিয়ালে ৫ হাজার ২শত ৫১টি মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ২শত ৫১টি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। আর প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কোটি কোটি টাকার ঘুস গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ মৌলভীবাজার অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকুরীহিন চাকরদের বিরুদ্ধে। মো. আব্দুর রহমান জানান- সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে টাকার কাছে বন্দি। রেজিস্ট্রেশনের টাকায় সিন্ডিকেট প্রভাবশালীদের এবং সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তাদের উদর ভারী করা হয়েছে। যে কারণে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন ক্রেতা জনসাধারণ সবসময় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কোটি কোটি টাকা গোপন ঘুস বাণিজ্যে সকলে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। এর সঙ্গে জড়িত মৌলভীবাজার জেলার বিআরটিএর বড়কর্তা, মেঝ কর্তা ও বিভিন্ন সংঘটনের সভাপতি-সম্পাদক ও সদস্যরা।

 

ঘুস বাণিজ্যের কারণে অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়ায় চরম আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা জেলায় মানুষ সিএনজি যানজটের কবলে পড়েছে। এ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন বিআরটিএ অফিসে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও দস্তুর মত অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করা-ই শুধু নয়, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ গোটা অফিসটি নিয়ন্ত্রণও করে এখানকার এসব চাকুরীহীন চাকুরেরা।সোনার ডিম নামে পরিচিত এখানকার চাকুরীহীন চাকুরেরাই কর্মকর্তা-হর্তাকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এডি জয়নাল আবেদীন নিয়মিত অফিসে আসেননা। অফিসের সকল জরুরী কাজ সম্পন্ন করেন এ সব দালালরা। এখানকার প্রধান দালাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শাহজাহান, কুমিলালার রসুলপুরের শিমুল ও আবুল কাসেম, চাঁদপুরের দুই ভাই করিম ও রহিম এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় দুই ভাই শাকিল ও জামিল দস্তুর মত অফিসের ভিতরে অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করছে প্রকাশ্যে। এছাড়া, অফিসে ও বাইরে যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই কাজ করে সুন্দর আলী, দেলোয়ার হোসেন তরফদার (তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানার সাধারন ডায়রী নং- ৫৪০, তারিখ ঃ ১১/০৯/২০১৭ইং), মাহমুদ ও রিপনসহ অনেকেই। দীর্ঘদিন থেকে একটি দালালচক্র বিআরটিএ অফিসকে ঘিরে রেখেছে। প্রয়োজনীয় কাজে আসা লোকজনকে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

বিআরটিএ’ অফিস জেলার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। অফিসটিতে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বলতে রয়েছেন এডি জয়নাল আবেদীন, ও এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসান ও অফিস সহকারী নজরুল । বাকীরা সবাই চাকুরীহীন চাকুরে। এ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্ণীতির সংবাদ অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। গত ১৩ আগষ্ট বিকাল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল- বশিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসের এক চাকুরীহীন চাকর সদর উপজেলার আব্দুল মতলিব এর পুত্র কয়ছর (৫২) কে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ইং আইনে ৫শত টাকা জরিমানা ও জুড়ী উপজেলার জাঙ্গিরাই গ্রামের অদু মিয়ার পুত্র হেলাল উদ্দিন (৪১)কে ৫শত টাকা জরিমানা ও দালালীর দায়ে ১২ দিনের সাজা প্রদান করা হয়। এ সময় কয়ছর (৫২) জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবং হেলাল উদ্দিন (৪১)কে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।

 

কয়ছর জরিমানার টাকা পরিশোধ করেই সরকারী অফিসে পুনরায় চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে অফিস করতে থাকলে সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের অভিযানেও দালাল মুক্ত হয়নি মৌলভীবাজার বিআরটিএ “নামীয় শিরোনামে জাতীয় দৈনিক আমাদের কন্ঠ, স্থানীয় দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ ও সাপ্তাহিক সুরমার ঢেউ পত্রিকাসাহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পুনরায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিআরটিএ দালাল দোলোয়ার হোসেন তরফদার এ প্রতিবেদককে ০১৭১৫-৮৫৮৫৯৫ নম্বর যুক্ত মোবাইল ফোন থেকে হুমকি প্রদান করে। এ ব্যাপরে ভবিষ্যত নিরাপত্তা চেয়ে এ প্রতিবেদক মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাধারন ডাইরী (নং- ৫৪০, তারিখ:১১/০৯/২০১৭ইং) করেন। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» শৈলকুপায় নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তলোন করায় নদী ভাঙ্গনের কবলে বসতভিটা

» ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান, গাঁজা ও ইয়াবাসহ চার জন গ্রেফতার

» নষ্ট হচ্ছে ৫০ বিঘা জমির আবাদি ফসল, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

» ঝিনাইদহের চাকলা পাড়ার আলোচিত মিনি পতিতালয় ও মাদকের গডফাদার এলাকাবাসীর অভিযোগ

» মেয়র প্রার্থীর মা স্ত্রী ও ভাইসহ ৫ জনকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালো নৌকার সমর্থকরা

» আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট: অভিনেত্রী সানাই সুপ্রভা আটক

» দ্বিতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে আনলেন শার্শার উদ্ভাবক মিজান

» গলাচিপায় ৭ লক্ষ ২৪ হাজার রেণু পোনা জব্দ

» সাধারণ মানুষের জন্য গ্রাম আদালত কতটা প্রয়োজন: একটি নিরীক্ষা

» র‌্যাব-৬ এর পৃথক দুটি অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার বিআরটিএর কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ) রোজিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলার যানজট নিরসন ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম বাইক (অটো টেম্পো) রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মৌলভীবাজারে নির্দিষ্ট সাড়ে ৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া সিন্ধান্ত থাকলেও তা অমান্য করে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজারে ২শত ৫১টি। আবারও নতুন করে অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ফন্দি ফিকিরে ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পরেছেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মৌলভীবাজার অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকুরীহিন চাকুরেরা। শমসেরনগর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সদস্য মো. আব্দুর রহমানের সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত অভিযোগে সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি ভাবে নির্ধারিত ৩ হাজার ৫শত টি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিন্ধান্ত মতে মৌলভীবাজার জেলায় আর কোনো সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

কিন্ত পরবর্তীকালে কোটি কোটি টাকা ঘুস বাণিজ্য ও অবৈধ উৎকোচ নিয়ে গোপন সিন্ডিকেট মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলায় সিরিয়াল থÑ১১ সিনিয়ালে ১০,০০০ টি ও থ-১২ সিরিয়ালে ৫ হাজার ২শত ৫১টি মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ২শত ৫১টি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। আর প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে কোটি কোটি টাকার ঘুস গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বিআরটিএ মৌলভীবাজার অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চাকুরীহিন চাকরদের বিরুদ্ধে। মো. আব্দুর রহমান জানান- সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে টাকার কাছে বন্দি। রেজিস্ট্রেশনের টাকায় সিন্ডিকেট প্রভাবশালীদের এবং সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তাদের উদর ভারী করা হয়েছে। যে কারণে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন ক্রেতা জনসাধারণ সবসময় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কোটি কোটি টাকা গোপন ঘুস বাণিজ্যে সকলে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। এর সঙ্গে জড়িত মৌলভীবাজার জেলার বিআরটিএর বড়কর্তা, মেঝ কর্তা ও বিভিন্ন সংঘটনের সভাপতি-সম্পাদক ও সদস্যরা।

 

ঘুস বাণিজ্যের কারণে অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘুস বাণিজ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত সিএনজি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়ায় চরম আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সারা জেলায় মানুষ সিএনজি যানজটের কবলে পড়েছে। এ নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন বিআরটিএ অফিসে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করলেও দস্তুর মত অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করা-ই শুধু নয়, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ গোটা অফিসটি নিয়ন্ত্রণও করে এখানকার এসব চাকুরীহীন চাকুরেরা।সোনার ডিম নামে পরিচিত এখানকার চাকুরীহীন চাকুরেরাই কর্মকর্তা-হর্তাকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এডি জয়নাল আবেদীন নিয়মিত অফিসে আসেননা। অফিসের সকল জরুরী কাজ সম্পন্ন করেন এ সব দালালরা। এখানকার প্রধান দালাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শাহজাহান, কুমিলালার রসুলপুরের শিমুল ও আবুল কাসেম, চাঁদপুরের দুই ভাই করিম ও রহিম এবং মৌলভীবাজারের স্থানীয় দুই ভাই শাকিল ও জামিল দস্তুর মত অফিসের ভিতরে অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করছে প্রকাশ্যে। এছাড়া, অফিসে ও বাইরে যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানেই কাজ করে সুন্দর আলী, দেলোয়ার হোসেন তরফদার (তার বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার মডেল থানার সাধারন ডায়রী নং- ৫৪০, তারিখ ঃ ১১/০৯/২০১৭ইং), মাহমুদ ও রিপনসহ অনেকেই। দীর্ঘদিন থেকে একটি দালালচক্র বিআরটিএ অফিসকে ঘিরে রেখেছে। প্রয়োজনীয় কাজে আসা লোকজনকে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

বিআরটিএ’ অফিস জেলার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান। অফিসটিতে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বলতে রয়েছেন এডি জয়নাল আবেদীন, ও এসিস্ট্যান্ট এমভিআই (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত) হাসান ও অফিস সহকারী নজরুল । বাকীরা সবাই চাকুরীহীন চাকুরে। এ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্ণীতির সংবাদ অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের টনক নড়ে। গত ১৩ আগষ্ট বিকাল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল- বশিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে মৌলভীবাজার বিআরটিএ অফিসের এক চাকুরীহীন চাকর সদর উপজেলার আব্দুল মতলিব এর পুত্র কয়ছর (৫২) কে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ইং আইনে ৫শত টাকা জরিমানা ও জুড়ী উপজেলার জাঙ্গিরাই গ্রামের অদু মিয়ার পুত্র হেলাল উদ্দিন (৪১)কে ৫শত টাকা জরিমানা ও দালালীর দায়ে ১২ দিনের সাজা প্রদান করা হয়। এ সময় কয়ছর (৫২) জরিমানার টাকা পরিশোধ করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবং হেলাল উদ্দিন (৪১)কে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।

 

কয়ছর জরিমানার টাকা পরিশোধ করেই সরকারী অফিসে পুনরায় চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে অফিস করতে থাকলে সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের অভিযানেও দালাল মুক্ত হয়নি মৌলভীবাজার বিআরটিএ “নামীয় শিরোনামে জাতীয় দৈনিক আমাদের কন্ঠ, স্থানীয় দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ ও সাপ্তাহিক সুরমার ঢেউ পত্রিকাসাহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় পুনরায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিআরটিএ দালাল দোলোয়ার হোসেন তরফদার এ প্রতিবেদককে ০১৭১৫-৮৫৮৫৯৫ নম্বর যুক্ত মোবাইল ফোন থেকে হুমকি প্রদান করে। এ ব্যাপরে ভবিষ্যত নিরাপত্তা চেয়ে এ প্রতিবেদক মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাধারন ডাইরী (নং- ৫৪০, তারিখ:১১/০৯/২০১৭ইং) করেন। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited