সোনারগাঁয়ে কৌশলে এগুচ্ছেন এমপি খোকা, বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কায়সারের

হাবিবুর রহমান, সোনারগাঁ:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা নিজের ছত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিচক্ষনতার অভাবে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সারের। এছাড়া এই আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা গেলেও খোকা ও কায়সারকে নিয়েই জনগণের কৌতুহল বেশি বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ছত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার সুব্যবহারের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিজের মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, শান্তিময় সমাজ গঠনসহ বিভিন্ন সেক্টরে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

 

বিশেষ করে একজন জাতীয় পার্টির এমপি হয়েও জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ণের জন্য তিনি যেসব ফান্ড নিয়ে আসছেন তা উপজেলাবাসীর মাঝে তার জনপ্রিয়তাকে দিন দিন বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ধারণা, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার যখন এমপি ছিলেন তখনও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

 

কিন্তু এমপি কায়সার তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সোনারগাঁয়ের উন্নয়ণের জন্য তেমন কিছুই আনতে পারেননি। এটা কায়সারের ব্যর্থতা। অথচ জাতীয় পার্টির এমপি হয়েও লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ের উন্নয়ণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন।

 

যার ফল স্বরুপ উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ এবং পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ লিয়াকত হোসেন খোকাকে নিজেদের অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং আগামী সংসদ নির্বাচনেও লিয়াকত হোসেন খোকাকে সমর্থন দেয়ার জন্য তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট দাবি করছেন।

 

অন্যদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন লোক চক্ষুর আড়ালে চলে যান সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার। পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তিনি সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের রাজনীতিতে সরব হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক অপরিপক্কতার কারণে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আব্দুল্লাহ আল কায়সারের।

 

সারাদেশে আওয়ামী প্রেমিরা আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে মেনে চললেও আব্দুল্লাহ আল কায়সার গত ৯ আগস্ট উপজেলার বারদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাদ্যবাজনা নিয়ে গণসংযোগ করে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের প্রতি শ্রদ্ধাশীলদের মাঝে ক্ষোভের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন।

 

তাছাড়া গত ২১ আগস্ট উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবির উপর পা দিয়ে বসে ছবি তুলতে দেখা গেছে আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সাধারণ জনগণের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

 

এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতার অভাবে আব্দুল্লাহ আল কায়সার এখনো পূর্বের ন্যায় কয়েকজন বিতর্কিতদের পরামর্শে চলেন। অথচ তিনি এমপি থাকাকালে ওই বিতর্কিতরাই তাকে নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য কুপথে পরিচালনা করে জনগণের মাঝে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। যার খেসারত স্বরুপ তাকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়।

 

কিন্তু এরপরেও শিক্ষা হয়নি তার। কারণ, আব্দুল্লাহ আল কায়সার রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তবে রাজনীতি শিখে তিনি এমপি হননি। ২০০৮ সালে সারাদেশে নৌকার গণজোঁয়ার থাকায় তিনি এমপি হয়েছিলেন। কিন্তু তখন তার স্থলে অন্য কেউ নৌকার মনোনয়ন পেলে, তিনিই এমপি হয়ে যেতেন।




তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, তাদের বিশ্বাস উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি রাই সোল জু গত ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রাই সোল লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় এ ধারণাটি জোরদার হয়।

 

২০০৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে রাই সোল জুয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম হয়। ২০১৩ সালে ভূমিষ্ঠ হয় দ্বিতীয় সন্তান। বাস্কেট বল তারকা ডেনিস রোডম্যানকে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বলা হয়। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, উন-জু দম্পতির দ্বিতীয় সন্তানটি কন্যা।




মিয়ানমারে মানবতা ও মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত

মিয়ানমারে মানবতা ও মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবিতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সিমান্তে স্বজন ও সহায় সম্বলহারা রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ কিছুতেই থামছে না।

 

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বেপরোয়া গুলির আঘাত ও ক্ষুধার যন্ত্রনায় নদীর তীরে ভাগ্য বিড়ম্বিত এসব বনি আদম। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এসব রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি মিয়ানমারে লুণ্ঠিত মানবতা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সোস্যাইটির চেয়ারম্যান, এশিয়ানমেইলবিডিডটকম এর সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ।

 

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সর্বধর্ম সম্প্রীতি সমাজের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খান, মেরাসালিন নোমানী, মোঃ শহিদুল ইসলাম, শাহিন হাসনাত, কামরুজ্জামান কাজল শাজাহান সাজু, এস এম আলমগীর শাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, হাসান মঞ্জুর রুমি, তাজুল ইসলাম, নিজামউদ্দিন, মতিউর রহমান সরদার, আয়াতুল্লাহ আকতার প্রমুখ।

 

বক্তারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও মানবিক বিপর্যয়ের সুষ্ঠু সমাধান এর জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান, অন্যথায় বাংলাদেশ সিভিল রাইটস্ সোসাইটি ঈদুল আযহার পরে কঠোর ও কঠিন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।




পর্ন তারকা মিয়া খলিফার শিরচ্ছেদের হুমকি

লেবানিজ পর্ন তারকা মিয়া খলিফাকে এবার শিরচ্ছেদের হুমকি দিল আইএস। একটি ভিডিও বার্তায় তারা মিয়াকে ভয়াবহ মৃ্ত্যু দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

 

তবে আইএসের এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে মিয়া খলিফা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আইএসকে পাল্টা জবাব দিযে লিখেছেন, আইএসের হুমকিকে তিনি পরোয়া করেন না। সেই হুমকির ভয়ে নিজের কাজে ও জীবনে ব্যাঘাত ঘটাতে চান না। মিয়া আরও জানিয়েছেন, আগে কট্টরপন্থীদের হুমকিতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন বটে কিন্তু এখন আর এসব পাত্তা দেন না তিনি। হট ফটোশুট, নগ্ন ছবির জন্য বরাবরই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় মিয়া।

 

পর্নছবি তো রয়েইছে। বিশ্বের ১ নম্বর পর্নসাইট পর্নহাবের অন্যতম জনপ্রিয় এই তারকা বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাঁটা পড়েনি। তাঁর আসল নাম কলিস্টা। ১৯৯৩ সালে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে তিনি জন্মান। তবে তার যখন সাত বছর বয়স, তখনই মার্কিন মুলুকে পাকাপাকিভাবে বাস করতে চলে আসে তাঁর পরিবার। পর্নছবিতে কাজ শুরুর আগে ফ্লোরিডায় একটি রেস্তরাঁয় কাজ করতেন তিনি। তবে শোনা যায়, এখন আর তিনি পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন না।




আশ্রয় না দিলে রোহিঙ্গারা যাবে কোথায়?

আশ্রয় না দিলে রোহিঙ্গারা যাবে কোথায়? যখন কোন মানুষের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকে না, তখন তাঁর চেয়ে অসহায় মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতিয়টি পাওয়া যায় না। উদ্ভাস্তু মানুষদের জন্য আইন কোন ধরণের সহায়তা দেয় না, যেটুকু দেয় সেটুকু হচ্ছে নানান রকম বাধা। কাজ করতে গেলে বাধা, কিছু শিখতে গেলে বাধা, লড়তে গেলে বাধা। বাধা দেয়া ছাড়া উদ্ভাস্তুর জন্য আইন আর কোন কাজ করতে পারে না।

 

১৯৬২ সন থেকে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেড়ে নেয়া হয়েছে। এরা নিজ দেশেই, নিজ ভূ-খন্ডেই, নিজ মাতৃভূমিতেই উদ্ভাস্তু জীবন যাপন করছে এরপর থেকে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকায়, এদের নেই ন্যুনতম নাগরিক অধিকার। আইন এদেরকে নিপীড়ন ছাড়া আর কোন ধরণের সহায়তা দেয়নি, নাগরিকত্ব নেই এমন কাউকে সহায়তা দেয়ার কথাও না।

 

আইন বিহীন জনপদে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে এটা তো স্বাভাবিক ব্যপার। আইন ছাড়া সমাজ আর মাতসান্যায়ে তো কোন পার্থক্য থাকার কথা না। প্রায় পঁচিশ লক্ষের মত জনগোষ্ঠীর রোহিঙ্গা জনপদের লোকজনের কাছ থেকে আইনি পরিবেশ আশা করাটাও বাতুলতা। প্রায় একটা প্রজন্ম যদি আইনি পরিবেশ ছাড়া বেড়ে উঠে, আইনের সাথে তাদের পরিচয়ই না ঘটে তাহলে তাদের কাছ থেকে স্বাভাবিক আইনি আচরন আশা করাটা এক ধরণের অলীক-কল্পনা ভিন্ন কিছু নয়।

 

আবার নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের জীবনে তাক করে রাখা বন্দুকের নলটাই শুধু আড়াল হয়েছে, এছাড়া এদের জীবনে আর কোন পরিবর্তন হয়নি। এরা এখনো এদেশে অবৈধ মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। বৈধ-অবৈধতার সীমায় জীবন তো আর থেমে থাকে না, থেমে থাকে না জীবনের প্রয়োজন, যে করেই হোক জীবনের জন্য করতে হয় জীবিকার আয়োজন। ফলে, স্বভাবতই এই পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে জড়িয়েছে নানা অবৈধ কার্যকলাপে, অবৈধতা ছাড়া তাদের জন্য বৈধ কোন পথও তো খোলা নেই। এরা বাংলাদেশের জন্য সমস্যার সৃষ্টি ছাড়া ভিন্ন কোন কিছু দিতে পারেনি। উদ্ভাস্তু জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের কোন ধরণের চিন্তা না করে শুধু আশ্রয় দিলে এই ধরণের সমস্যা তৈরী হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যপার।

 

রিফিউজি কনভেনশনে স্বাক্ষর করা বিশ্বের আটাশটি দেশ রিফিউজিদেরকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে ১৯৫১ সনে। কিন্তু এদের মধ্যেও হাতে গণা কয়েকটি দেশে ব্যতিত আর কেউ রিফিউজিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে নারাজ। হয়ত দেশগুলোর নিজেরাই সমস্যায় জর্জরিত, অন্যদেরকে সহায়তা করার সময় কই? আর যারা সহায়তা করছে, তাঁরা ষোল আনাই করার চেষ্টা করছে, যেন উদ্ভাস্তুরা সত্যিকার অর্থেই পুনর্বাসিত হতে পারে, মিশে যেতে পারে মূল স্রোতে। ২৫ ধরে তো রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়েই রাখা হয়েছে, ফেরত পাঠানো কিংবা পুনর্বাসনের কোন ধরণের ফলপ্রসু চেষ্টা করা হয়নি। ফলে সমস্যা সৃষ্টি ছাড়া এরা আর কিছু করেনি, যা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও স্বাভাবিক।

 

আরেকটা কথা যেনো আমরা ভুলে না যাই, সিরিয়া ক্রাইসিসের সময় এক সাথে দশলক্ষাধিক শরণার্থিকে আশ্রয় দিয়েছিল জার্মানি। এই বৃহৎ সংখ্যার জনগোষ্ঠীর শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিতে গিয়ে জার্মানী যেসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবেলা করছে, স্বয়ংসম্পুর্ন ও উন্নত একটা রাষ্ট্র হওয়ার পরেও তা তাদের জন্য গলার কাটার মতই ঠেকছে। যে জার্মান নাগরিকেরা “ওয়েলকাম রিফিউজি” প্লেকার্ড হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল, ওরাই এখন বলছে “এনাফ ইজ এনাফ, গো ব্যাক রিফিউজিস”।

 

মানবতাবোধ দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশ যদি এখন নতুন করে আরও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়, তাহলে আজকে যারা আশ্রয়ের জন্য কন্ঠ তুলছেন, তারাও যে কাল এনাফ ইজ এনাফ বলে রোহিঙ্গাদের উপর ঝাপিয়ে পড়বেন না, তাঁর নিশ্চয়তা কোথায়? এমনিতেই পাঁচ লক্ষ রোহিঙ্গার কারণে কক্সবাজারসহ গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে দিনের পর দিন সমস্যা বেড়েই চলছে। নতুন করে আবার আশ্রয় দিতে গেলে তা যে গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দেখা দেবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? আর একবার আশ্রয় দিয়ে দিলে তাদেরকে ফেরত পাঠানো যে কি জটিল তা বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের দিকে তাকালে সহজেই বুঝতে পারবেন।

 

তাই, হুজুগে শুধু আশ্রয় দাও, আশ্রয় দাও বলে গলা না ফাটিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি না করে আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান করার জন্য গলা বাড়ান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে পারেন এমন আন্দোলন গড়ে তুলুন। তাতে যদি মায়ানমার সরকার বাধ্য হয় রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে। জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখার জন্য চাপ তৈরিতে আন্দোলন গড়ে তুলুন।

 

হ্যাঁ, যারা বর্তমানে নো-ম্যানস ল্যান্ডে আছে, তাদের জন্য বাড়িয়ে দিন সহায়তার হাত, ওখানে পাঠান রেড-ক্রস (সরি মুসলমানদের তো আবার রেড-ক্রিসেন্ট)। ব্যক্তিগতভাবে ফান্ড সংগ্রহ করে পাঠাতে পারেন নো-ম্যানস ল্যান্ডে। অতি মানবতা দেখাতে গিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তা না করে শুধু আশ্রয় দাও, আশ্রয় দাও বলে চেচালেই সমস্যার সমাধান হবে না, এতে এই রোহিঙ্গারা কড়াই থেকে উনুনেই পড়বে, আর তা সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে অদুর বাংলাদেশের। আসুন, শুধু আশ্রয় দাও, আশ্রয় দাও বলে চিৎকার না করে রোহিঙ্গাদেরকে যে আন্তর্জাতিকভাবে সহায়তা করা হয় সেই দাবী তুলি, সাথে তাদের নাগরিকত্ব যেন ফিরিয়ে দেয়া হয় সেই দাবীতে সোচ্চার হই, কাঁপিয়ে দিই আন্তর্জাতিক অংগন।




রাজশাহীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশসহ নিহত ৪

রাজশাহীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরী ও জেলার গোদাগাড়ী এবং মোহনপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) ছয়জন আহতও হয়েছেন।

 

নিহতরা হলেন, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) সদস্য সেলিম রেজা (৫৩), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের জালাল হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান (১৮), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে আক্তার আলী (৭৫) এবং তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা চুনিয়াপাড়া গ্রামের মিনারুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা খাতুন (৩৫)।

 

আহতরা হলেন, জেলা ডিএসবির এসআই আবদুল কাইয়ুম (৪০), নিহত রুবিনার স্বামী মিনারুল ইসলাম (৪৩), তার মেয়ে ফাতেমা খাতুন (৮), রুবিনার মামাতো বোন সানজিদা খাতুন (৯) এবং দুই মোটরসাইকেল চালক আহসান হাবিব (৪০) এবং জিয়ারুল ইসলাম (৩৫)। তাদের সবাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মোহনপুর থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, নিহত ডিএসবি সদস্য সেলিম রেজা জেলার পবা থানা জোনে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে সেলিম রেজা ও এসআই আবদুল কাইয়ুম রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক হয়ে মোহনপুরের কেশরহাট যাচ্ছিলেন।

 

এ সময় মোহনপুর উপজেলা সদরে বিপরীতমুখি একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এই দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার পর সেলিম রেজা মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও পালিয়ে গেছেন এর চালক ও হেলপার।

 

এদিকে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি জানান, নিহত জাহিদ হাসান একটি ট্রাকের হেলপার ছিলেন। মঙ্গলবার ভোররাত ৩টার দিকে তাদের ট্রাকটি উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ে দাঁড়িয়েছিল। জাহিদ তখন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাকের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে রাজশাহীমুখি একটি ট্রাক এসে জাহিদকে চাপা দেয়।

 

এতে ঘটনাস্থলে জাহিদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গোদাগাড়ী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জাহিদ মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপার ট্রাক ফেলে পালিয়েছেন। পরে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।এরপর ভোর ৬টার দিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গোদাগাড়ীর উজানপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় আক্তার আলী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকেও উদ্ধার করে গোদাগাড়ী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃদ্ধ আক্তার আলী মারা যান।

 

এদিকে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, বেলা ১১টার দিকে নগরীর শিরোইল এলাকায় এক দুর্ঘটনায় রুবিনা খাতুন নামে তানোরের ওই নারী মারা গেছেন। তিনি অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। ওই অটোরিকশায় তার স্বামী, মেয়ে এবং খালাতো বোনও ছিল। তারা আহত হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রাজশাহী রেলস্টেশনের সামনে বেলা ১১টার দিকে একটি বাস, একটি অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে চতুর্মুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই মোটরসাইকেলের চালক আহসান হাবিব ও জিয়ারুল ইসলামসহ অটোরিকশার সব যাত্রী আহত হন। এ সময় আশপাশের লোকজন তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর রুবিনা খাতুন মারা যান। সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা জানিয়েছেন, নিহতদের লাশ হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এসব দুর্ঘটনার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




সাংবাদিকদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ না করে যমুনানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বন্ধ করে দেওয়ায় নিন্দা ও ক্ষোভ ডিআরইউ’র

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: সাংবাদিকদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ না করে ঈদুল আজহার পূর্ব মুহূর্তে অনলাইন নিউজ পোর্টাল যমুনানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বন্ধ করে দেওয়ায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ।

 

সাংবাদিকদের বেতনাদি পরিশোধ না করে বিনা নোটিশে অফিস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যমবিরোধী ও শ্রম আইন পরিপন্থী উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী বিবৃতে নিউজ পোর্টালটির কর্তৃপক্ষকে এ ধরণের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দিয়ে অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক কর্মচারিকে কাজ করার পরিবেশ করে দেওয়ার দাবি জানান।

 

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট ২০১৭) সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিলানী মিল্টন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট সাংবাদিকদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ না করেই বিনা নোটিশে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় যমুনিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কর্তৃপক্ষ। এতে ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটির একজন কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের মানবেতর জীবন যাপনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।




অনলাইনে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে পিআইবি

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: অনলাইনে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর ই-লার্নিং প্লাটফর্ম ‘মুক্তপাঠে’র আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। মঙ্গলবার পিআইবি অডিটরিয়ামে এই কোর্সের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

 

পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ এবং এটুআইর জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা। হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এই কোর্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের দক্ষতার উন্নয়ন হবে। সাংবাদিক ছাড়াও সাধারণ নাগরিক এতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদকর্মীরা এই কোর্সে অংশ নিয়ে ডিজিটাল সাংবাদিক হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইন সাংবাদিকতা সারা পৃথিবীতে আলোড়ন তৈরি করেছে। চিরায়ত সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা এবং অনলাইন সাংবাদিকতা এই তিনটি মাধ্যমে প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সংবাদকর্মীকে আর দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

অনলাইন সাংবাদিকতার ইতিহাস তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইন সাংবাদিকতায় দ্রুত খবর পরিবেশন করার প্রতিযোগিতা চলে। যদি অনেক সময় দ্রুত সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে কখনো কখনো সংবাদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তাই একজন অনলাইন সংবাদকর্মীকে উদ্ভাবনী চিন্তা করতে হবে। তাদেরকে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। কেননা, এই মাধ্যমে সংবাদের সঙ্গে একজন পাঠকও সরাসরি যুক্ত হতে পারেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকতার মৃত্যু ঘটাচ্ছে এই আশঙ্কা প্রকাশ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীরা গণতন্ত্রের পক্ষ নেবেন, কিন্তু রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হবেন না। আপনারা মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে পারেন কিন্তু আপনারা জাতির অভিভাবক হতে পারেন না। আপনারা নিরপেক্ষ হবেন, ষড়যন্ত্রের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, ‘পিআইবি দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে। এই কোর্সকে ফলপ্রসূ করতে হলে শুধু সাংবাদিক নয়, সাধারণ নাগরিকদের কোর্সে অংশভুক্ত করতে হবে। তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ বলেন, ‘অনলাইনে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক রচিত হলো। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কোর্সের বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে এই কোর্স চালু হলো। এই প্লার্টফর্মের মাধ্যমে কম খরচে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয়া যাবে।

 

সাংবাদিকতায় অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্সের বিস্তারিত তুলে ধরে এটুআইর জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাইমুজ্জামান মুক্তা বলেন, ‘এটুআইর সহযোগিতায় পিআইবির মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হলো। যা প্রথম পর্যায়ে বিনামূল্যে পরিচালিত হবে। পিআইবি ডট মুক্তপাঠ ডট জিওভি ডট বিডি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে চার মাসের প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া যাবে। কোর্সের স্টাডি ম্যাটেরিয়াল তৈরি করেছেন সাংবাদিকতার খ্যাতনামা শিক্ষক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। এই কোর্সের শিক্ষার্থীরা ভিডিও টিউটোরিয়াল, লাইভ ক্লাস, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে শিখতে পারবেন। সর্বশেষে তাদের মূল্যায়ন করে সনদ দেয়া হবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক জানান, শুরুতে এই প্রশিক্ষণের আওতায় চারটি সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করা হবে। এগুলো হলো- ‘সাংবাদিকতায় বেসিক কোর্স’, ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা’, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা’ এবং ‘উন্নয়ন সাংবাদিকতা’। আজ থেকে কোর্সের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। নিবন্ধন চলবে এক মাস। শুরুতে ‘সাংবাদিকতায় বেসিক কোর্স’ এবং ‘টেলিভিশন সাংবাদিকতা’ কোর্স চালু করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাস নাগাদ বাকি দুইটি বিষয়ের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হবে। এই কোর্সের কার্যক্রম শুরু হবে অক্টোবর মাস থেকে। সাংবাদিকতায় অনলাইনে সার্টিফিকেট কোর্সে অংশ নিতে নিবন্ধন করা যাবে এই ওয়েবসাইটে: www.muktopaath.gov.bd

 




মৌলভীবাজারে জলাবন্ধতা নিরসনের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে মনু প্রকল্পের অন্তভুক্ত জলাবন্ধতা নিরসনের দাবীতে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে মনু প্রকল্প ও হাওড় রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখা গত ২৮ আগস্ট সকালে। স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মৌলভীবাজার জেলার চলমান বর্ষা মৌসুমে ( এপ্রিল থেকে) প্রকল্প এলাকার জলাবন্ধতা গত ১২ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

 

প্রকল্প এলাকাধীন ৮টি ইউনিয়নের ৭০ % জনবসতি এখন জলমগ্ন। এলাকার সিংহভাগ প্রতিস্টান বন্ধ রয়েছে, বিস্তীর্ণ মাঠ ব্যাপি ধানের কোন অস্তিত্ব নেই, গরু ছাগলের ঠিকানা হয়ে উঠেছে রাস্তাঘাট ও বৃক্ষতলায়। মনু প্রকল্পের মৃল সমস্যা হচ্ছে পানি নিস্কাশন অপরিকল্পিত ভাবে কাশিমপুর পাস্প হাউস স্থাপন করায় প্রকল্পের সৃচনাকাল থেকেই জলাবন্ধতার প্রকোপ লেগে আছে। পাম্প মেশিন গুলোর কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় জলাবন্ধতা লেগেই থাকে। গত ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে পাম্প হাউস সংস্কার অথবা পুনঃস্থাপনের জন্য ৮০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হলেও তা কাজে আসবেনা। নতুন করে আরেকটি পাম্প হাইস স্থাপন করতে হবে।

 

কুশিয়ারা জল প্রবাহ উর্দ্দমুখী থাকায় পাম্প হাইসের ওয়াটার গেইট খুলে দিয়ে পানি নিস্কাশনের পথও রুদ্ধ হয়ে আছে। গত বৈশাখের আগাম ঢলে হাওড়াঞ্চলের ইরি বোরো ধান নষ্ট হওয়ার প্রেক্ষাপটে কৃষক মহলের শেষ ভরসা রোপা আমন চাষাবাদ জলাবন্ধতার কারনে আশার গুড়ে বালি উঠেছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলাম স্বারকলিপি গহন করে বলেন- মৌলভীবাজারে জলাবন্ধতা নিরসনে সংশ্লিস্ট দপ্তরে একজন পানি বিশেষজ্ঞ আসার জন্য অনুরুদ পাটিয়েছি।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মনু প্রকল্প ও হাওড় রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহবায়ক ও দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকার সম্পাদক বকশি ইশবাল আহমদ, সমন্ময়কারী ও বিশিস্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সরওয়ার আহমদ, সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান নুকুল দাশ, জেলা আওয়ামীলিগের সহ-সভাপতি মোঃ ফিরুজ, সাংবাদিক বকশি মিছবাউর রহমান, মৌলভীবাজার অনলঅইন প্রেসক্লাব সভাপতি মশাহিদ আহমদ, সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান, জাতীয়পার্টির নেতা মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক আবুল কালাম প্রমুখ।




এবার ব্যতিক্রমধর্মী কুরবানীর পশুর হাট! (ভিডিও)

কোরবানির ঈদ মানে জমজমাট পশুর হাট। ব্যতিক্রম নয় পাকিস্তানও। আমাদের দেশের মতো ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সেখানেও পশুকে সাজিয়ে হাটে আনার নজির রয়েছে। এর পাশাপাশি অভিনব এক পন্থাও অবলম্বন করতে দেখা গেল এবার লাহোরের পশু ব্যবসায়ীদের।

 

সম্প্রতি ইন্টারনেটে পাকিস্তানের পশুর হাটের বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে লাহোরের একটি পশুর হাটে দেখা গেল ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতি গরুর সাথে একজন মেয়েকে হাঁটে নিয়ে আসা হয়। এই মেয়েটি নেচে এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। ফলে ক্রেতা জমতে শুরু করে। কারো পছন্দ হলে সে পশু কিনে নিয়ে যায়।