কুলাউড়ায় দীর্ঘ ১২ দিন যাবৎ চরম মানবাধিকার লংঘন

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় চরম মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুলাউড়ায় সৎ পুত্রদের দেয়া আগুনে পুড়ে বসতগৃহসহ সর্বস্ব হারিয়ে ৩ কন্যাসহ সৎ মা দীর্ঘ ১২ দিন যাবৎ খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও, খোঁজ নেয়নি উপজেলা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের ১১ দিন অতিক্রান্ত হলেও, কুলাউড়া থানার পুলিশও পালণ করছে প্রায় নির্বিকার ভূমিকা। এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্তও খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন ৩ কন্যাসহ সৎ মা। চরম মানবাধিকার লংঘনের এ ঘটনাটি চলমান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলাধীন বরমচাল ইউনিয়নস্থিত আলীনগর (প্রকাশ উছমানপুর) গ্রামে। মামলার এজাহার, ৩ কন্যাসহ সৎ মা এবং স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার লোকজন ও সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান সূত্রে জানা গেছে- আলীনগর (উছমানপুর) গ্রামের মৃত: আপ্তাব মিয়া তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র ও ১ কন্যা এবং ২য় স্ত্রী ও ৬ কন্যাসন্তান (৩ জন বিবাহিত) রেখে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

আপ্তাব মিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র চিনু মিয়া ও দুদু মিয়া সৎ মা-বোনদেরকে উচ্ছেদ করে পুরো বাড়ি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলে, বেশকিছু ঘটনা-দূর্ঘটনা, ২০১১ সালে সৎ মায়ের ঘরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ইত্যাদি ছাড়াও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমআর নামাজের পর সংঘটিত হয় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। দুদু মিয়া বসতগৃহ থেকে সূত্রপাত হওয়া এ অগ্নিকান্ডের সময় ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

 

পরে কুলাউড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সৎ মায়ের বসতগৃহসহ সর্বস্ব। জমির দলিল, শিক্ষাসনদ, কাপড়-চোপড়, সোনা-গহনা, আসবাবপত্র ইত্যাদি সবকিছু পুড়ে আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ২/৩ দিন পূর্বে অধিকাংশ মালামাল অপর গৃহে সরিয়ে নেয়ার কারণে সৎ পুত্রদ্বয়ের বসতগৃহ ও মালামাল আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই থেকে ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের ঠাই হয় খোলা আকাশের নীচে। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের পর মর্মাহত স্থানীয় লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি মেম্বারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং পুড়ে যাওয়া বসতগৃহ পুণ:নির্মান না হওয়া পর্যন্ত ৩ কন্যাসহ সৎ মাকে অপরগৃহের একটি কক্ষে থাকতে দেয়ার জন্য চিনু মিয়া ও দুদু মিয়াকে অনুরোধ করেন।

 

কিন্তু, তারা তাতে অসম্মতি প্রকাশ করে এবং ৩ কন্যাসহ সৎ মাকে বাড়ি থেকে বের যেতে বলে। ফলে, পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারী সৎ বোন ফারজানা ইয়াছমিন খেলু কুলাউড়া থানায় মামলা (থানার নং- ১৮, জিআর নং- ৪৪, তাং- ২৫/০২/২০১৭ইং) দায়ের করেন। সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে- বাড়িতে মূল ৬টি কক্ষবিশিষ্ট ২টি টিনশেড পাকা গৃহের যে গৃহটিতে ৩ কন্যাসহ সৎমায়ের বসবাস, সেই গৃহের একপ্রান্তে মূল ২টি কক্ষে চিনু মিয়া ও অপর প্রান্তের মূল ২টি কক্ষে দুদু মিয়া স্বপরিবারে এবং দুই মধ্যখানের ২টি কক্ষে ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের বসবাস। অপর গৃহটি ২ সৎ পুত্র চিনু মিয়া ও দুদু মিয়া ভোগ-ব্যবহার করছেন। মধ্যখানে রয়েছে প্রমান আকারের একটি উঠান। উঠানের ২ খালি প্রান্তে রয়েছে ছোট ছোট আরো ২টি টিনশেড পাকা গৃহ- যার ১টিতে ২ সৎ পুত্রের গবাদি পশু এবং অপরটিতে রয়েছে তাদেরই কৃষিসামগ্রী, গোখাদ্য (খড়) ও জ্বালানী লাকড়ি।

 

অথচ, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে আজ ৭ মার্চ এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপনরত থাকলেও, ৩ কন্যাসহ সৎমাকে একটি কক্ষে বসবাস এমনকি রান্না করারও সুযোগ দিচ্ছেননা সৎ পুত্রদ্বয়। জানতে চাইলে বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আহবাব চৌধুরী শাহজাহান গভীর দু:খ প্রকাশ করে বলেন- আমি জেনেছি অগ্নিকান্ডের ২/৩ দিন আগেই দুইভাই তাদের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সেই ঘর থেকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইভাইকে অনুরোধ করা সত্তেও তারা এ অসহায় নারীদেরকে অন্যঘরে থাকতে দেয়নি। চরম মানবাধিকার লংঘনের এ ঘটনাটি বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টাল ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেও, এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্তও ওই নারীদের খোঁজ নেয়নি উপজেলা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন- এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। মানবিক কারণে ওই নারীদেরকে খোলা আকাশের নীচ থেকে বাড়ির অপরগৃহের একটি কক্ষে আশ্রয় দিতে অপরপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছি। তা নাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বলেন- ইউএনও স্যার গতকাল ইন্ডিয়ায় গেছেন। আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজই মাত্র ইউএনও হিসাবে ভারপ্রাপ্ত হয়েছি। ওই নারীদের খোলা আকাশের নীচে অবস্থানের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে বলে শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানিনা। আমি আমার বড় স্যারের সাথে কথা বলে ওই নারীদেরকে মানবিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আমি সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- তাদের সৎ ভাইদের মধ্যে যদি মানবতার বিষয়টি কাজ না করে আমাদের কি করার আছে।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» এস এ গেমস আর্চারিতে দশে দশ বাংলাদেশ

» দশমিনায় দূর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও সভা অনুষ্ঠিত

» জরাজীর্ণ বসতঘরে জীবন-যাপন দশমিনায় মিনারা’র

» যশোরের বেনাপোলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিসব-২০১৯ উদযাপন

» যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন

» বিপিএলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

» ডাকসু ভিপি নুরের পদত্যাগ চায় ছাত্রলীগের ২৩ নেতা

» গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে রুম্পার কথিত প্রেমিককে

» প্রধানমন্ত্রী আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করবেন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় দীর্ঘ ১২ দিন যাবৎ চরম মানবাধিকার লংঘন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় চরম মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুলাউড়ায় সৎ পুত্রদের দেয়া আগুনে পুড়ে বসতগৃহসহ সর্বস্ব হারিয়ে ৩ কন্যাসহ সৎ মা দীর্ঘ ১২ দিন যাবৎ খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করলেও, খোঁজ নেয়নি উপজেলা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

 

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের ১১ দিন অতিক্রান্ত হলেও, কুলাউড়া থানার পুলিশও পালণ করছে প্রায় নির্বিকার ভূমিকা। এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্তও খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন ৩ কন্যাসহ সৎ মা। চরম মানবাধিকার লংঘনের এ ঘটনাটি চলমান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলাধীন বরমচাল ইউনিয়নস্থিত আলীনগর (প্রকাশ উছমানপুর) গ্রামে। মামলার এজাহার, ৩ কন্যাসহ সৎ মা এবং স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার লোকজন ও সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান সূত্রে জানা গেছে- আলীনগর (উছমানপুর) গ্রামের মৃত: আপ্তাব মিয়া তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র ও ১ কন্যা এবং ২য় স্ত্রী ও ৬ কন্যাসন্তান (৩ জন বিবাহিত) রেখে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

আপ্তাব মিয়ার মৃত্যুর পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র চিনু মিয়া ও দুদু মিয়া সৎ মা-বোনদেরকে উচ্ছেদ করে পুরো বাড়ি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলে, বেশকিছু ঘটনা-দূর্ঘটনা, ২০১১ সালে সৎ মায়ের ঘরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ইত্যাদি ছাড়াও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমআর নামাজের পর সংঘটিত হয় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। দুদু মিয়া বসতগৃহ থেকে সূত্রপাত হওয়া এ অগ্নিকান্ডের সময় ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

 

পরে কুলাউড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সৎ মায়ের বসতগৃহসহ সর্বস্ব। জমির দলিল, শিক্ষাসনদ, কাপড়-চোপড়, সোনা-গহনা, আসবাবপত্র ইত্যাদি সবকিছু পুড়ে আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ২/৩ দিন পূর্বে অধিকাংশ মালামাল অপর গৃহে সরিয়ে নেয়ার কারণে সৎ পুত্রদ্বয়ের বসতগৃহ ও মালামাল আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই থেকে ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের ঠাই হয় খোলা আকাশের নীচে। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের পর মর্মাহত স্থানীয় লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি মেম্বারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং পুড়ে যাওয়া বসতগৃহ পুণ:নির্মান না হওয়া পর্যন্ত ৩ কন্যাসহ সৎ মাকে অপরগৃহের একটি কক্ষে থাকতে দেয়ার জন্য চিনু মিয়া ও দুদু মিয়াকে অনুরোধ করেন।

 

কিন্তু, তারা তাতে অসম্মতি প্রকাশ করে এবং ৩ কন্যাসহ সৎ মাকে বাড়ি থেকে বের যেতে বলে। ফলে, পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারী সৎ বোন ফারজানা ইয়াছমিন খেলু কুলাউড়া থানায় মামলা (থানার নং- ১৮, জিআর নং- ৪৪, তাং- ২৫/০২/২০১৭ইং) দায়ের করেন। সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে- বাড়িতে মূল ৬টি কক্ষবিশিষ্ট ২টি টিনশেড পাকা গৃহের যে গৃহটিতে ৩ কন্যাসহ সৎমায়ের বসবাস, সেই গৃহের একপ্রান্তে মূল ২টি কক্ষে চিনু মিয়া ও অপর প্রান্তের মূল ২টি কক্ষে দুদু মিয়া স্বপরিবারে এবং দুই মধ্যখানের ২টি কক্ষে ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের বসবাস। অপর গৃহটি ২ সৎ পুত্র চিনু মিয়া ও দুদু মিয়া ভোগ-ব্যবহার করছেন। মধ্যখানে রয়েছে প্রমান আকারের একটি উঠান। উঠানের ২ খালি প্রান্তে রয়েছে ছোট ছোট আরো ২টি টিনশেড পাকা গৃহ- যার ১টিতে ২ সৎ পুত্রের গবাদি পশু এবং অপরটিতে রয়েছে তাদেরই কৃষিসামগ্রী, গোখাদ্য (খড়) ও জ্বালানী লাকড়ি।

 

অথচ, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে আজ ৭ মার্চ এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপনরত থাকলেও, ৩ কন্যাসহ সৎমাকে একটি কক্ষে বসবাস এমনকি রান্না করারও সুযোগ দিচ্ছেননা সৎ পুত্রদ্বয়। জানতে চাইলে বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আহবাব চৌধুরী শাহজাহান গভীর দু:খ প্রকাশ করে বলেন- আমি জেনেছি অগ্নিকান্ডের ২/৩ দিন আগেই দুইভাই তাদের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল সেই ঘর থেকে সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইভাইকে অনুরোধ করা সত্তেও তারা এ অসহায় নারীদেরকে অন্যঘরে থাকতে দেয়নি। চরম মানবাধিকার লংঘনের এ ঘটনাটি বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টাল ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেও, এ সংবাদ পরিবেশন পর্যন্তও ওই নারীদের খোঁজ নেয়নি উপজেলা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন- এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। মানবিক কারণে ওই নারীদেরকে খোলা আকাশের নীচ থেকে বাড়ির অপরগৃহের একটি কক্ষে আশ্রয় দিতে অপরপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছি। তা নাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বলেন- ইউএনও স্যার গতকাল ইন্ডিয়ায় গেছেন। আমি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজই মাত্র ইউএনও হিসাবে ভারপ্রাপ্ত হয়েছি। ওই নারীদের খোলা আকাশের নীচে অবস্থানের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে বলে শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানিনা। আমি আমার বড় স্যারের সাথে কথা বলে ওই নারীদেরকে মানবিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছি। এ ব্যপারে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আমি সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন- তাদের সৎ ভাইদের মধ্যে যদি মানবতার বিষয়টি কাজ না করে আমাদের কি করার আছে।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited