প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকা নিরূপণ: নাহিদা বারিক

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বপ্রথম স্তর হলেও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাধারা বহুকাল ধরেই এদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জড়িত। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাস্তর হল প্রাথমিক শিক্ষার পূর্ববর্তী ধাপ এবং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সর্বপ্রথম স্তর। এই শিক্ষা হলো শিশুর জীবনের পরবর্তী সকল শিক্ষার ভিত্তি। ৩-৫ বছর বয়সের শিশুদের শিক্ষাকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়। শিশুর জীবনে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিক্ষা শিশুর পরবর্তী জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বুনিয়াদী শিক্ষা নিশ্চিত করে।

 

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হলোঃ শিশুর শারীরিক, মানসিক ও চারিত্রিক পরিপুষ্টি সাধন করা, শৃঙ্খলার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, খেলাধুলা ও আনন্দদায়ক পরিবেশের মাধ্যমে শিশুকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাদান, পরবর্তী জীবনে শিশুর আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা, প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশের পূর্বে শিশুদের পঠন প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করা। প্রাথমিক স্তরে শিশু ঝরে পড়ার প্রধান কারণ শিক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে শিক্ষাদান সহায়তা করবে।

 

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি এবং শিশুদের বিদ্যাল্যমুখী করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌত সুবিধা বাড়াতে হবে, শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ শিশু উপযোগী করতে হবে, শিশু উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে হবে, শিক্ষকদের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ, সহযোগিতামূলক এবং সহানুভূতিমূলক হতে হবে, মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার বাড়াতে হবে শ্রেণীকক্ষে, নাচ, গান, অভিনয়, গল্প, খেলা, হাতে-কলমে কাজ প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে,দরিদ্র অভিভাবকসহ সকল অভিভাবকদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে, পাক-প্রাথমিক স্তরে আর্থিক অনুদান ও সরকারি সহায়তা বাড়াতে হবে, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিশু উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বাড়লে এবং বিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি হ্রাস করলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুরা এবং তাদের অভিভাবকেরা সচেতন হবে, আগ্রহী হবে শিক্ষার প্রতি। এভাবে প্রাথমিক স্তরে শিশু ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ঝরে পড়ার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। লেখক নাহিদা বারিক-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» রাজধানীতে র‍্যাবের অভিযানে ১৩ রোহিঙ্গা নারী আটক

» জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: স্পিকার

» প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, স্কুলশিক্ষক গ্রেফতার

» কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী

» কলাপাড়ায় স্টুডেন্ড কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত

» কলাপাড়ায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির চূড়ান্ত বাছাই শেষ

» আগৈলঝাড়ায় স্বাস্থ্য সহকারীদের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে কর্মবিরতি পালন

» আগৈলঝাড়ায় ভুলে ভরা বিদ্যালয়ের দাওয়াতপত্র: শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ

» আত্রাইয়ে ছাত্র দলের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

» আত্রাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ভূমিকা নিরূপণ: নাহিদা বারিক

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সর্বপ্রথম স্তর হলেও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাধারা বহুকাল ধরেই এদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জড়িত। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাস্তর হল প্রাথমিক শিক্ষার পূর্ববর্তী ধাপ এবং শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সর্বপ্রথম স্তর। এই শিক্ষা হলো শিশুর জীবনের পরবর্তী সকল শিক্ষার ভিত্তি। ৩-৫ বছর বয়সের শিশুদের শিক্ষাকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়। শিশুর জীবনে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিক্ষা শিশুর পরবর্তী জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বুনিয়াদী শিক্ষা নিশ্চিত করে।

 

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হলোঃ শিশুর শারীরিক, মানসিক ও চারিত্রিক পরিপুষ্টি সাধন করা, শৃঙ্খলার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া, খেলাধুলা ও আনন্দদায়ক পরিবেশের মাধ্যমে শিশুকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাদান, পরবর্তী জীবনে শিশুর আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা, প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশের পূর্বে শিশুদের পঠন প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করা। প্রাথমিক স্তরে শিশু ঝরে পড়ার প্রধান কারণ শিক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের আকর্ষণীয় পদ্ধতিতে শিক্ষাদান সহায়তা করবে।

 

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি এবং শিশুদের বিদ্যাল্যমুখী করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌত সুবিধা বাড়াতে হবে, শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ শিশু উপযোগী করতে হবে, শিশু উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে হবে, শিক্ষকদের আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ, সহযোগিতামূলক এবং সহানুভূতিমূলক হতে হবে, মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার বাড়াতে হবে শ্রেণীকক্ষে, নাচ, গান, অভিনয়, গল্প, খেলা, হাতে-কলমে কাজ প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করতে হবে,দরিদ্র অভিভাবকসহ সকল অভিভাবকদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে, পাক-প্রাথমিক স্তরে আর্থিক অনুদান ও সরকারি সহায়তা বাড়াতে হবে, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত সুপারিশগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিশু উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠান সংখ্যা বাড়লে এবং বিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি হ্রাস করলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুরা এবং তাদের অভিভাবকেরা সচেতন হবে, আগ্রহী হবে শিক্ষার প্রতি। এভাবে প্রাথমিক স্তরে শিশু ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ঝরে পড়ার হার ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। লেখক নাহিদা বারিক-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-নারায়ণগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited