আগৈলঝাড়ায় মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করায় মানবদেহে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

অপূর্ব লাল সরকার,আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাছের খাদ্য হিসেবে ক্ষতিকর মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে সকল মৎস্যচাষী। এ বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকালেও তা মানছেনা তারা। নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন খামারে মাছের খাবার হিসেবে অবাধে ব্যবহার করে আসছে মুরগির বিষ্ঠা। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। বিষ্ঠার কারণে ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় বর্তমানে অনেকেই চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট-বড় প্রায় চার শতাধিক খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়ে থাকে। সরকারী হিসেব মতে, ওইসব খামারে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়ে থাকে আগৈলঝাড়ার এসব খামারের মাছ। মৎস্যচাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অনেকে ইতোমধ্যে পুরস্কারও পেয়েছেন। তবে মাছের খাদ্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এখন মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে স্থানীয় মৎস্যচাষীরা। কম দামে পাওয়া ওই মুরগীর বিষ্ঠা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও খাদ্য হিসেবে তা মাছের খামারে ব্যবহার করছে চাষীরা।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ রায় বলেন, মুরগীর বিষ্ঠার এন্টিবায়োটিক রেসিডিও, ড্রাগ রেসিস্টেন্স ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরণের ডিজি ইনফেকট্যান্ট থাকে। মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহারের ফলে সেই মাছ খাওয়ার ফলে সেগুলো পরে মানবদেহে প্রবেশ করে। যা মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকারক। তাছাড়া মুরগীর বিষ্ঠায় থাকা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস পুকুরের পরিবেশ ও পানি নষ্ট করে। ওই উপাদানগুলো পানিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা ঘটানোর মাধ্যমে মাছের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও রোগজীবাণু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল-মামুন বলেন, মুরগির খাবারে নানা রকম এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল থাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করায় সেগুলো বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এগুলো সহজে ধ্বংস হয়না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরে মানব শরীরে প্রবেশ করে ক্যান্সারসহ নানান প্রাণঘাতি রোগের বিস্তার ঘটায়। এজন্য মাছের খাবার হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 

বরিশাল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম সাংবাদিকদের জানান, নিরাপদ খাদ্যের জন্য মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করাটা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মুরগীর বিষ্ঠা কম্পোস্টিং এর মাধ্যমে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৪০

» হাজার বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কার্তিকপুরের মৃৎশিল্পীরা

» বেনাপোলের দূর্গাপুর থেকে ফেন্সিডিল ও ভারতীয় বিভিন্ন মালামাল সহ আটক-১

» ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

» সংবাদ প্রকাশের পর: রাজাপুর-বেকুটিয়া সড়কের ১৭ কোটি টাকার কাজ

» ঝালকাঠিতে সাংবাদিক নির্যাতনে প্রতিবাদে মানববন্ধন

» অফিসবাজার সমাজকল্যাণ তহবিল এর উদ্যাগে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প

» দিনাজপুরের খানসামায় তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে শীর্তাতদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» ইব্রাহীম খলীলের লিভার ক্যান্সার, চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন

» জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৯ম বর্ষে পদার্পণ জাবি প্রেসক্লাব

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আগৈলঝাড়ায় মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করায় মানবদেহে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

অপূর্ব লাল সরকার,আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাছের খাদ্য হিসেবে ক্ষতিকর মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে সকল মৎস্যচাষী। এ বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকালেও তা মানছেনা তারা। নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন খামারে মাছের খাবার হিসেবে অবাধে ব্যবহার করে আসছে মুরগির বিষ্ঠা। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। বিষ্ঠার কারণে ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় বর্তমানে অনেকেই চাষের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোট-বড় প্রায় চার শতাধিক খামারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়ে থাকে। সরকারী হিসেব মতে, ওইসব খামারে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়ে থাকে আগৈলঝাড়ার এসব খামারের মাছ। মৎস্যচাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে অনেকে ইতোমধ্যে পুরস্কারও পেয়েছেন। তবে মাছের খাদ্যমূল্য অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এখন মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে স্থানীয় মৎস্যচাষীরা। কম দামে পাওয়া ওই মুরগীর বিষ্ঠা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও খাদ্য হিসেবে তা মাছের খামারে ব্যবহার করছে চাষীরা।

 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশুতোষ রায় বলেন, মুরগীর বিষ্ঠার এন্টিবায়োটিক রেসিডিও, ড্রাগ রেসিস্টেন্স ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ধরণের ডিজি ইনফেকট্যান্ট থাকে। মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহারের ফলে সেই মাছ খাওয়ার ফলে সেগুলো পরে মানবদেহে প্রবেশ করে। যা মানবদেহের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচন্ড ক্ষতিকারক। তাছাড়া মুরগীর বিষ্ঠায় থাকা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস পুকুরের পরিবেশ ও পানি নষ্ট করে। ওই উপাদানগুলো পানিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা ঘটানোর মাধ্যমে মাছের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও রোগজীবাণু বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল-মামুন বলেন, মুরগির খাবারে নানা রকম এন্টিবায়োটিক ও কেমিক্যাল থাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করায় সেগুলো বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এগুলো সহজে ধ্বংস হয়না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে পরে মানব শরীরে প্রবেশ করে ক্যান্সারসহ নানান প্রাণঘাতি রোগের বিস্তার ঘটায়। এজন্য মাছের খাবার হিসেবে মুরগীর বিষ্ঠার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 

বরিশাল জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুর আলম সাংবাদিকদের জানান, নিরাপদ খাদ্যের জন্য মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করাটা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মুরগীর বিষ্ঠা কম্পোস্টিং এর মাধ্যমে মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited